০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ৮

লিটল পিয়ার চারটে বাঁধাকপির মাঝখানে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ল। তারপর যতটা পারল, কিছু পেঁয়াজ দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলল।

আজহার ফরহাদ আজহার ফরহাদ

Published : 05 Sep 2026, 01:06 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

লিটল পিয়ার যেভাবে মেলায় গেল

লিটল পিয়ার আর তার পরিবার যে শেগু গ্রামে থাকত, সেখানকার বেশির ভাগ লোকই ছিল কৃষক। সারাদিন তারা গ্রামের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ফসলের খেতে কাজ করত। মাঝে মাঝে পাশের কোনো গাঁয়ে হাট বা মেলা বসলে সেখানে যেত—নিজেদের শস্য আর শাকসবজি বিক্রি করতে, আর অন্য চাষিদের কাছ থেকে দরকারি জিনিস কিনে আনতে।

লিটল পিয়ারের বাবাও ছিলেন চাষি। গ্রীষ্মের একদিন খুব সকাল সকাল তিনি মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে এলেন। “আজ উকু গ্রামে মেলা বসেছে,” বললেন তিনি। “আমি সেখানে যাচ্ছি কিছু পেঁয়াজ আর বাঁধাকপি বিক্রি করতে, আর কিছু তরমুজ আর মিষ্টি আলু কিনে আনতে। শুনেছি, মেলাটা নাকি খুব বড়। শাকসবজি ছাড়াও কত কী যে পাওয়া যায় সেখানে! তাই বাড়ি ফেরার সময় তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটা করে উপহার নিয়ে আসব।”

শুনেই দাগু, এরগু আর লিটল পিয়ার—তিনজনেরই মনে ভারি উত্তেজনা!

দাগুর সুন্দর সুন্দর জিনিস পরতে খুব ভালো লাগত। সে বলল, “আমি আমার চুলে গোঁজার জন্য কিছু রেশমি ফুল চাই।”

এরগুর আবার খেলবার জন্য উজ্জ্বল রঙের জিনিস খুব পছন্দ। সে বলল, “আমার একটা লণ্ঠন চাই—মাছের মতো দেখতে, কিংবা খরগোশের মতো।”

লিটল পিয়ার কিন্তু কিছুই বলল না। তার যে সবচেয়ে বেশি ইচ্ছে, নিজেই মেলায় যাবে!

অন্যরা যখন কথাবার্তায় ব্যস্ত, সে চুপিচুপি বেরিয়ে গেল উঠোনে।

উকু গ্রাম সেখান থেকে তিন মাইল দূরে। লিটল পিয়ারের বাবা হেঁটেই যাবেন সেখানে, শাকসবজিতে ভরা ঠেলাগাড়িটা ঠেলে ঠেলে।

ঠেলাগাড়িটা উঠোনে দাঁড়িয়ে ছিল। সব তৈরি, পেঁয়াজ আর বাঁধাকপিতে বোঝাই।

লিটল পিয়ার ঠেলাগাড়িটার চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল—কোথাও এমন একটু জায়গা আছে কি না, যেখানে তার মতো ছোট্ট একটা ছেলে গুটিসুটি হয়ে ঢুকে পড়তে পারে।

আছে! সত্যিই একটা জায়গা আছে!

লিটল পিয়ার চারটে বাঁধাকপির মাঝখানে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ল। তারপর যতটা পারল, কিছু পেঁয়াজ দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলল। এবার একেবারে চুপটি করে শুয়ে রইল।

লিটল পিয়ারের বাবা হেঁটেই যাবেন সেখানে, শাকসবজিতে ভরা ঠেলাগাড়িটা ঠেলে ঠেলে, অলংকরণ: এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোর।

লিটল পিয়ারের বাবা হেঁটেই যাবেন সেখানে, শাকসবজিতে ভরা ঠেলাগাড়িটা ঠেলে ঠেলে, অলংকরণ: এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোর।

লিটল পিয়ারের বাবা যখন উকুর দিকে রওনা হলেন, ঠেলাগাড়িটা তার কাছে যেন একটু বেশিই ভারী মনে হলো। কিন্তু তিনি শুধু ভাবলেন, “বাহ্, বেশ একগাড়ি শাকসবজি হয়েছে তো!”

একবারও তার মনে হলো না, সেই সবজির বোঝার মধ্যেই লুকিয়ে আছে লিটল পিয়ার।

“দাগু আর এরগু চেয়ে রইল বাবার দিকে, যতক্ষণ না তিনি চোখের আড়ালে চলে গেলেন। তারপর এরগু জিজ্ঞেস করল, “লিটল পিয়ার কোথায়?”

“ওই দুষ্টু ছেলেটা!” বলল দাগু। “সব সময় কিছু না কিছু দুষ্টুমি তার লেগেই আছে।”

“কোথাও পালিয়ে যায়নি তো আবার!” চিন্তিত গলায় বললেন মা। তারপরই তার মনে পড়ল, লিটল পিয়ারের গলায় তো রুপোর সেই সৌভাগ্য-হার আছেই। “বোধ হয় তার বন্ধু বড় মাথার সঙ্গে খেলতে গেছে,” বললেন তিনি। তারপর আবার ঘরের কাজে ফিরে গেলেন।

দাগু আর এরগুও ফিরে গেল নিজেদের কাজে। দুয়ারে বসে সেলাই করছিল তারা। আর তাদের মাথার ওপর খাঁচার মধ্যে ক্যানারি পাখিটা গান গাইতে গাইতে এদিক-ওদিক লাফিয়ে বেড়াচ্ছিল।

দুজনে মিলে জুতো বানাচ্ছিল। কালো কাপড়ের জুতো। জুতোর তলায় সাদা কাপড়ের অনেকগুলো পরত। একের পর এক পরত বসিয়ে খুব শক্ত করে সেলাই করতে হয় সেগুলো। কালো জুতোর ডগায় ফুল আর প্রজাপতির নকশা তুলতে তুলতে, আর কাপড়ের তলা সেলাই করতে করতে, দাগু আর এরগুর মনে পড়ছিল মেলার কথা। বাবা যেন তাড়াতাড়ি ফিরে আসেন, সেই আশায় ছিল দুজনেই।

এদিকে বাবা ঠেলাগাড়ি নিয়ে গ্রামের এবড়োখেবড়ো পথ ধরে দুলকি চালে এগিয়ে চলেছেন। আর সেই ঠেলাগাড়িতে পেঁয়াজ ও বাঁধাকপির আড়ালে লিটল পিয়ার গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে। একেবারে চুপটি করে শুয়ে রইল সে। বাবা যদি তাকে খুঁজে পান, তা হলেই তো বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন!

লিটল পিয়ার মনে মনে ভাবল, “বাবা যদি মারেনও, তাতে আমার খুব একটা আপত্তি নেই। কিন্তু মেলাটা যে আমার দেখতেই হবে!”

ঝক্কর, ঝক্কর, ঝক্! এবড়োখেবড়ো পথে ধাক্কা খেতে খেতে চলেছে ঠেলাগাড়ি। লিটল পিয়ারের ভারি ইচ্ছে হচ্ছিল একবার মাথাটা বের করে দেখতে, পথের দুপাশে কী আছে। কিন্তু না, চুপটি করে থাকাই ভালো। শুয়ে শুয়েই চারদিক থেকে কত রকমের অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাচ্ছিল সে। কোথাও গাধার গলায় ঘণ্টা বাজছে, কোথাও পথে পথে ঘুরে বেড়ানো ফেরিওয়ালাদের জিনিসপত্র ঝনঝন করছে। গরুর গাড়ির চাকা ক্যাঁচকোঁচ করে চলেছে, শূকর ঘোঁৎ-ঘোঁৎ করছে, আর মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে কোনো একটা গাধার ডাক। কত মানুষের পায়ের শব্দও কানে আসছিল। কত রকমের গলার আওয়াজ—কোনোটা জোরে, কোনোটা চড়া; বুড়োদের গলা, ছেলেমানুষের গলা।

“মেলায় কত লোক যাচ্ছে!” মনে মনে ভাবল লিটল পিয়ার।

খাবার ছাড়াও কত রকমের জিনিস যে বিক্রি হচ্ছিল সেখানে! কেউ কেউ সঙ্গে করে বড়সড় পুঁটলি এনেছে, অলংকরণ: এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোর।

খাবার ছাড়াও কত রকমের জিনিস যে বিক্রি হচ্ছিল সেখানে! কেউ কেউ সঙ্গে করে বড়সড় পুঁটলি এনেছে, অলংকরণ: এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোর।

ঝক্কর, ঝক্কর, ঝক্! হঠাৎ ঠেলাগাড়িটা থেমে গেল। “মেলায় এসে গেলাম নাকি?” ভাবল লিটল পিয়ার। পেঁয়াজের নিচ থেকে খুব সাবধানে তার কালো, আপেলের বিচির মতো একটা চোখ বের করে উঁকি দিলো সে। হ্যাঁ, তারা উকু গ্রামে এসে পৌঁছেছে।

এ গ্রাম যে দেখতে ঠিক লিটল পিয়ারদের গ্রামের মতোই। শুধু লোকজনের ভিড় অনেক বেশি—নববর্ষের উৎসবের সময় তাদের গ্রামে যত ভিড় হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি! চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। সবাই এসেছে কিনতে, নয়তো কিছু বিক্রি করতে। গোলগাল হাসিমুখের কত যুবক। উঁচু কুঁচকানো কপাল আর ফিনফিনে ধূসর দাড়িওয়ালা কত বুড়ো। কৃষক আছে, ব্যবসায়ী আছে, ফলচাষি আছে। কেউ শূকর বেচতে এসেছে, কেউ ভেড়া, কেউ বা পাখি।

মেলা বসেছে গ্রামের প্রধান রাস্তা জুড়ে। রাস্তার দুপাশে ফল আর শাকসবজি সাজানো লোভনীয় সব স্তূপে। ক্যান্ডির থালাও ছিল কত! একরকম হলো মিষ্টি পাতলা আর চ্যাপটা—তিলের দানা চিনির সিরা দিয়ে জুড়ে, চারকোনা করে কাটা। আরেকরকম হলো কালো, চারকোনা—দেখতে যেন কয়লার টুকরো। আর সব চেয়ে মজার ছিল তাংহুলু!

খাবার ছাড়াও কত রকমের জিনিস যে বিক্রি হচ্ছিল সেখানে! কেউ কেউ সঙ্গে করে বড়সড় পুঁটলি এনেছে। পুঁটলিগুলো খুলে রাস্তার ধারে বিছিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে তারা। কোনো পুঁটলি চিনামাটির বাসনকোসনে, কোনোটা আবার পুঁতির জিনিসে ভরা। কারো কাছে ছিল ছোট ছোট চারকোনা বাক্স, সেই বাক্সে আবার ছোট ছোট দেরাজ। দেরাজগুলো ভরা ছিল কত না অদ্ভুত জিনিসে—কাঠ খোদাই করে তৈরি ছোট ছোট মানুষ, আর রুপালি রঙের পুঁচকে মাছ। মাছগুলো এমনভাবে নড়াচড়া করছিল, যেন সত্যিই বেঁচে আছে!

লুকিয়ে বসেই লিটল পিয়ার যতটা পারে সবকিছু দেখে নিচ্ছিল। এবার আর এক চোখে নয়, দু-চোখ দিয়েই উঁকি দিচ্ছে সে। কিন্তু কেউ তাকে দেখতে পেল না। কেননা সবাই তখন কেনাবেচায় এমন ব্যস্ত! রাস্তার মাঝখানে লোকে লোকারণ্য। একে অন্যকে ঠেলাঠেলি করে এগোচ্ছিল, আর বিক্রেতারা যে যার জিনিসের নাম ধরে জোরে জোরে হাঁক দিচ্ছিল।

“হয়তো আমি কেউ দেখার আগেই এই ঠেলাগাড়ি থেকে নেমে পড়তে পারি,” ভাবল লিটল পিয়ার। ঠিক তখনই হঠাৎ একটা গোলমাল বেধে গেল। এক লোক কয়েকটা শূকর নিয়ে এসেছে বিক্রি করতে। সে একপাল ভেড়া নিয়ে আসা আরেক লোককে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছিল। ব্যস, ভেড়া আর শুকরগুলো সব একসঙ্গে মিশে গেল! দুই লোকও রেগে গিয়ে ভারি উত্তেজিত। একজন চেঁচিয়ে বলছে অন্যজনের দোষ, অন্যজন বলছে অপরজনের দোষ।

ততক্ষণে ঠেলাগাড়ির চারপাশে বেশ একদল লোক জমে গেছে। ভেতরে কী আছে দেখে সবাই হো হো করে হেসে উঠল, অলংকরণ: এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোর।

ততক্ষণে ঠেলাগাড়ির চারপাশে বেশ একদল লোক জমে গেছে। ভেতরে কী আছে দেখে সবাই হো হো করে হেসে উঠল, অলংকরণ: এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোর।

ভেড়াগুলো ভ্যা-ভ্যা করে ডাকছে, শুকরগুলো ঘোঁৎ-ঘোঁৎ করছে। সব দেখে লিটল পিয়ার আর থাকতে পারল না—খিক্ করে হেসে ফেলল।

এক চাষি তখন লিটল পিয়ারের বাবার কাছ থেকে কিছু কিনতে থেমেছিল। সে বলল, “তোমার পেঁয়াজের আবার কী হলো? পেঁয়াজের যে গলা বেরিয়েছে—হাসছে!”

লিটল পিয়ারের বাবা ভারি রেগে গেলেন। “কোনো দুষ্টু ছেলে আমার ঠেলাগাড়ির নিচে লুকিয়েছে,” বললেন তিনি। তারপর নিচু হয়ে ঠেলাগাড়ির তলায় তাকালেন। কিন্তু কই, সেখানে তো কেউ নেই!

“ভেতরে দেখো,” বলল চাষি। তখন লিটল পিয়ারের বাবা পেঁয়াজগুলো সরিয়ে দেখলেন—আরে, এ তো লিটল পিয়ার!

ততক্ষণে ঠেলাগাড়ির চারপাশে বেশ একদল লোক জমে গেছে। ভেতরে কী আছে দেখে সবাই হো হো করে হেসে উঠল। “এটাও কি তোমার খেতেই ফলেছে?” তারা লিটল পিয়ারের বাবাকে জিজ্ঞেস করল। “তোমার ফসলের খেতটা নিশ্চয়ই অসাধারণ!” বলেই সবাই আবার হো হো করে হেসে উঠল। তারপর সবাই তাকিয়ে রইল লিটল পিয়ারের দিকে। বাঁধাকপির মধ্যে বসে আছে সে, আর তার ঝুঁটিটা খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাথার ওপর!

প্রথমে লিটল পিয়ারের বাবা রেগেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন সবাই ব্যাপারটাকে মজা হিসেবেই নিয়েছে, তখন তিনিও হেসে ফেললেন। লিটল পিয়ারের মাথায় হাত বুলিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, “এটা কিন্তু বিক্রির জন্য নয়, বাকি সব বিক্রি হলেও।”

সবারই মন বেশ ফুরফুরে আনন্দে ঠাট্টায়। তারা পেঁয়াজ আর বাঁধাকপি কিনতে শুরু করল। দেখতে দেখতে সবকিছুই বিক্রি হয়ে গেল। এখন বাবার ঠেলাগাড়িটা একেবারে খালি, আর তার হাতে বেশ কয়েক গোছা টাকা।

“আচ্ছা, তুমি এসে ভালোই হয়েছে মনে হচ্ছে,” লিটল পিয়ারকে বললেন তিনি। “এবার কিছু মিষ্টি আলু আর তরমুজ কিনব।”

সেদিন সন্ধ্যায় যখন তারা বাড়ি ফিরেছিল, লিটল পিয়ার সেই ঠেলাগাড়িতে চড়েই এসেছিল। কিন্তু এবার আর লুকিয়ে নয়, বোঝার একেবারে ওপরটায় বসেছিল। এক হাতে দাগুর জন্য উপহার—চুলে গোঁজার জন্য সুন্দর সুন্দর রেশমের ফুল, লম্বা কাঁটায় আটকানো। আর অন্য হাতে এরগুর উপহার—খরগোশের মতো দেখতে সুন্দর এক সবুজ লণ্ঠন।

আর লিটল পিয়ারের নিজের জন্য?

বা রে! সে তো মেলা ঘুরেই এলো!

চলবে...

আগের পর্ব

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ১

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ২

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ৩

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ৪

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ৫

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ৬

ছোট্ট নাশপাতি | এলিনর ফ্রান্সেস ল্যাটিমোরের ক্লাসিক | পর্ব ৭