ভ্রমণগদ্য
Published : 28 Nov 2025, 09:51 AM
চীন সফরের আজ ছিল ষষ্ঠ দিন। আজ ক্লাসে সহকর্মী জিল্লুর রহমান বেশ মজার এক প্রশ্ন করে বসল। আর প্রশ্নটা ছিল, “আচ্ছা, চীনে কি আসলেই প্লাস্টিকের ডিম উৎপাদন হয়?”
সালটা ২০২৩। হঠাৎ বাংলাদেশে নতুন করে এক গুজব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, ‘প্লাস্টিকের ডিম’! জনমনে সন্দেহ আর আতঙ্ক। খামারিদের মাথায় হাত, ফেইসবুক সয়লাব নকল ডিমের খবরে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, কুসুম জমে নাকি প্লাস্টিক হয়ে যাচ্ছে! এখন উপায়? কে বানাল, কোথা থেকে এলো ওই প্লাস্টিকের ডিম?
গুজব রটনাকারীদের আঙুল চীনের দিকে। তাদের মতে, চীনের পক্ষে সবই সম্ভব। চীন যেহেতু হেন কোনো বস্তু নেই যে বানায় না, তাই ডিম বানানোও সম্ভব! মুক্তবাজার অর্থনীতি আর ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর যুগে বাংলাদেশও বিচ্ছিন্ন নয়। ওই ডিম সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশেও চলে আসতে পারে, রসনাবিলাসী বাঙালির চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুকে যেতে পারে তার রন্ধনশালাতেও।
অবশেষে সত্য প্রকাশ পেয়েছিল। জানা গিয়েছিল, সবই আসলে গুজব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বা সিন্ডিকেট। কিন্তু জিল্লুর নাছোড়বান্দা, তাই সুযোগ বুঝেই সে আজ প্রশ্নটা করে বসে। অনুবাদক ওয়েন জিন প্রশ্নটা শুনে তো রীতিমতো থ। পরে সংবিৎ ফিরে পেয়ে অধ্যাপক জেন ওয়ানজিনকে তিনি প্রশ্নটি বুঝিয়ে বললে অধ্যাপকের কপালেও বিস্ময়ের ভাঁজ পড়ল।
একটু সময় নিয়ে মাথা নেড়ে অধ্যাপক উত্তর দিলেন, “না। আমার জানা মতে চীনে কোনো প্লাস্টিকের ডিম উৎপাদন করা হয় না। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও নিষ্প্রয়োজন। তাছাড়া সাধারণ ফার্মের চেয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বা কৃত্রিমভাবে ডিম উৎপাদন করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল।”
উত্তর শুনে আমরা যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। অনেকদিনের এক রহস্যের যেন মৃত্যু হলো! এর আগে অপরিচিত এক জনারণ্যে কাকে যেন খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ সকালে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। চেয়ে দেখি জানালায় রোদ এসে পড়েছে। তীর্যক আলোক রশ্মি। চারদিকে সুনসান নীরবতা। জানালার গ্লাস সাঁটা, অর্ধেক পর্দা টানা, বাকি অর্ধেকে খোলা আকাশ। ঘরময় কেমন এক দমবন্ধ করা চাপা নিঃশ্বাস। মনে হচ্ছিল দূর মহাশূন্য থেকে নীল মার্বেলের মতো গোল এক গ্রহে এসে পড়েছি।
সকালের আলো, সাদা মেঘের ঘূর্ণি, নিচে সবুজ সমুদ্র, মরুভূমি, তুষারময় পর্বত আর পাদভূমিতে জেগে থাকা এক শহর উরুমচি। মনে হলো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেন এক নিঃসঙ্গ দ্বীপে পড়ে আছি। কোথাকার মানুষ কোথায় চলে এলাম! মনের অজান্তেই যেন কবিতার জন্ম হলো, “মানুষ ভ্রমি অনন্তকাল/ পৃথিবীর পথে পথে/ মার্কো পোলো, ইবনে বতুতা, ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং, মুজতবা আলী/ লিখে যান পথের কথা/ অন্ধকার ঘুচে মানুষ পায় আলোর দেখা!”
দুপুরের পর ক্লাসে মনোযোগ দিয়েছি, এমন সময় হঠাৎ মোবাইলে বিপ শব্দ। তাকিয়ে দেখি নাদিরা আবদুকেরেমের পাঠানো লিংক। নাদিরা আমাদের চীনা ম্যানেজম্যান্ট টিমের আরেক সদস্য। দু’দিন আগে নাস্তার টেবিলে ওর সঙ্গে অনেক কথা হয়েছিল। সেও সালামের মতোই স্থানীয় উইঘুর মুসলিম। বয়স ২০-২২ এর কোঠায়, সদা হাস্যোজ্জ্বল। তবে হঠাৎ দেখলে যে কেউ ভুল করবে, তাকে চীনা বলে মানতেই চাইবে না! কারণ চীনের নারীদের যে গড়ন- হালকা-পাতলা, মাঝারি উচ্চতা, ছোট চোখ আর চাপা নাক; তার কোনো বালাই ওর মধ্যে নেই। বরং লম্বা, ফরসা, ডাগর চোখ, খাড়া নাক আর সোনালি চুলের পুতুল পুতুল চেহারা। যে কোনো বাঙালি ছেলের প্রেমে পড়ার মতো রূপ।
উরুমচি গিয়ে ওরকম নারী আমরা হরহামেশাই দেখেছি। এর কারণ জিনজিয়াংয়ের ভৌগোলিক অবস্থান। চীনের সর্বপশ্চিমে অবস্থিত সর্ববৃহৎ এই প্রদেশটির সঙ্গে মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের সীমান্ত। প্রাচীন সিল্ক রোডের সংযোগস্থল হওয়ায় শত শত বছর ধরে এ এলাকায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিথস্ক্রিয়া ঘটেছে। সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে এটি সর্বপ্রথম চীনাদের নিয়ন্ত্রণে যায়। ৮৪২ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গোলিয়া থেকে তাড়িত হয়ে আসে উইঘুরেরা। এরপর ১ হাজার খ্রিস্টাব্দে ইসলামের আগমন ঘটে এবং সেই সঙ্গে আসে তুর্কি সংস্কৃতি। যে কারণে তুর্কি বা পারস্য (ইরান) অঞ্চলের মানুষের চেহারার সঙ্গে নাদিরাদের এত মিল।
নাদিরার লিংক খোলার আগেই ক্লাসের কফি ব্রেকের সময় হয়ে গিয়েছিল। সহকর্মীদের সঙ্গে কফি পান শেষে ক্লাস আবার শুরু হলে আমি গোপনে লিংক খুলে বসলাম। শিরোনামে ইংরেজিতে লেখা ‘দ্য মোস্ট হিস্টরিক স্কলার অব উরুমচি’। একদিকে অধ্যাপকের লেকচার চলছে, অন্যদিকে আমি সন্তর্পণে পড়ছি জি ইউনের কথা। চিং রাজবংশের সময়কার এক বিশিষ্ট পণ্ডিত ও লেখক ছিলেন তিনি। ১৭৬৮ সালের ঘটনা, সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু মেধাবী মানুষেরা যেমন হয়- স্পষ্টভাষী, খ্যাপাটে আর অকুতোভয়, ইউনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
রাজনৈতিক এক মন্তব্যে চিং রাজা চটে গিয়ে ইউনকে নির্বাসিত করলেন পশ্চিমের জনবিরল এক নগরে। নাম তার ‘দিহুয়া’ (সুন্দর চারণভূমি), যা বর্তমানে উরুমচি। কথায় আছে ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’। ইউনের ক্ষেত্রেও তাই হলো। তার দিব্যচোখ চারদিকে বিচরণ করতে লাগল। ধারালো অন্তর্দৃষ্টি আর পঞ্চইন্দ্রিয় সজাগ। তপস্যা, ধ্যান, জ্ঞান আর প্রজ্ঞা দিয়ে তিনি লিখে গেলেন মধ্যযুগীয় উরুমচির একমাত্র প্রামাণ্য বর্ণনা।
ইউন লিখলেন, “ভেবেছিলাম আমার নির্বাসন হচ্ছে ঊষর কোনো মরুভূমিতে, জনবিরল বিচ্ছিন্ন কোনো শহরে। কিন্তু এখানে পৌঁছে দেখি ভিন্ন চিত্র। এটি এক সমৃদ্ধ নগর। এর প্রাকৃতিক দৃশ্য অতি মনোরম। যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে হান জনগোষ্ঠী এবং হুই মুসলিমরা এসে বসতি স্থাপন করছে। বেইজিংয়ের মতোই এখানে অসংখ্য দোকানপাট, পাঁচশয়েরও বেশি। জমজমাট বাণিজ্যিক কার্যক্রম। প্রতিদিনই চীনা গান এবং নাচের আয়োজন হয়।”

উরুমচির স্থানীয় মানুষ, তাদের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে ইউনের রচিত সেই সাহিত্যকর্ম শত শত বর্ষ পরে আজও এই শহরের গুরুত্বপূর্ণ আত্মপরিচয় বহন করে চলেছে।
ক্লাস শেষে বিকেলে আমরা ট্যাক্সিতে করে শহরের দিকে রওনা করলাম। গন্তব্য রেড হিল, স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে ‘হংশান পার্ক’। উরুমচির সেই মিথ, যা গত পর্বে লিখেছিলাম- অত্যাচারী লাল ড্রাগন বা স্বর্গীয় সম্রাজ্ঞী ওয়াংমু যাকে কেটে দুই ভাগ করলে এক ভাগ পরিণত হয় ওই লাল পাহাড়ে। আজ তাকেই স্বচক্ষে দেখা হবে। ট্যাক্সি চলছে, দুপাশের দৃশ্যরা একে একে পেছনে সরে যাচ্ছে। অদ্ভুত এক প্রশান্তি! পেছনের সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজতেই কল্পনায় ভেসে উঠল জি ইউন। নির্বাসিত জি ইউন।
দেশে দেশে জ্ঞানীদের একই বঞ্চনা। সক্রেটিস, গ্যালিলিও, জুইগ, বেঞ্জামিন, ব্রুনো, ইবনে সিনা- সবাই সমাজকে এগিয়ে দিয়েছেন, অথচ সমসাময়িক সমাজের কাছে তারাই হয়েছেন নিগৃহীত। চীনে জি ইউন। হায় সেলুকাস!
বিশালাকৃতির এক তোরণের সামনে গাড়ি থামল। ভাড়া মিটিয়ে নামতেই আমাদের আরেক দলের সঙ্গে দেখা। মো. আসাদুল ইসলাম, কর্ণচন্দ্র মল্লিক ও কামরুল হাসান। উরুমচিতে আসার পর থেকেই বিকেলগুলোতে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আমরা শহরময় ছড়িয়ে পড়ছিলাম। একেকটা দলের পরিকল্পনা থাকত একেক রকম, কারো সঙ্গে কারোটা মিলত না। কিন্তু হুটহাট এভাবে নিজেদের মধ্যে দেখা হয়ে গেলে মনে হতো যেন বাংলাদেশেই আছি।
যাই হোক, সবাই মিলে পার্কে প্রবেশের উদ্যোগ নিলাম। আজই প্রথম চীনের কোনো পার্কে ঢুকছি, তাই উত্তেজনাটা ছিল একটু বেশি। এর আগে বিভিন্ন ক্যালেন্ডার বা ওয়ালম্যাটে বিদেশি পার্কের অনেক ছবি দেখেছি। সুন্দর বনানী, শান্ত লেক আর ফুলের সমারোহ। চীনের পার্ক কেমন হবে? অবশেষে সব কৌতূহল নির্বৃত্ত করতে ভেতরে ঢুকতেই কৃত্রিম এক লেকের দেখা পেলাম। সর্পিল আকার, স্বচ্ছ পানির কলকল ধারা। দুপাশে বাঁধানো হাঁটাপথ। কিছুদূর এগোতেই আড়াআড়ি কনক্রিটের সেতু, রেলিঙের ওপর ছোট ছোট সিংহের মূর্তি।
লেকের এক পাড় ঘেঁষে লম্বা আঁকাবাঁকা কাঠের ফুটপাত। অচেনা গাছের সারি। সুন্দর ওই পরিবেশে অনেকে ব্যস্ত হয়ে গেল ছবি তুলতে। আমিও তাদের সঙ্গে যোগ দিতে গেলে মুকুল স্যার দূর থেকে ডাকলেন। কাছে ভিড়তেই বললেন, “আসেন হাঁটি। ছবি পরে হবে। সন্ধ্যা হয়ে গেলে আর কিছু দেখা যাবে না।”
দ্রুত দুজনে সামনের দিকে পা চালালাম। কখনো সিঁড়ির ধাপ, কখনো উঁচু প্যাঁচানো পথ ধরে ধরে দ্রুত অনেকটা উঠে এলাম আমরা। হু হু করে দমের হাঁসফাঁস শুরু হলো। পেছনে তাকিয়ে দেখি অনেক নিচে লেক, গাছেরা মাথা নুয়ে ঢেকে রেখেছে নিচের দৃশ্য। আরও কিছুদূর এগিয়ে আমরা তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছলাম। সামনে চীনা স্থাপত্যরীতির বাঁকানো মাথার লাল বাড়ি। বাঁ দিকে একটি রাস্তা, ডানে আরেকটি। জনমানবশূন্য।
গা শিউরে উঠল। এমনিতেই বিদেশ- বিভুঁইয়ে এসেছি, তেমন জানাশোনা নেই, আপনজন নেই। তার মধ্যে আবার এই নির্জনতা। শেষে না আবার কোনো চীনা ভূতের পাল্লায় পড়ি! মুকুল স্যার তখন পাশ থেকে বললেন, “আরও উপরে যাবেন? সাহস আছে?” আমি বললাম, “আছে স্যার। আমি শীর্ষে পৌঁছাতে চাই।”
পাহাড়ে চড়ার ভয় চলে গিয়েছিল ৩ বছর আগে, যখন বান্দরবানে প্রথম পাহাড় ট্র্যাকিংয়ে গিয়েছিলাম। সেই তুলনায় হংশানের এই রেড হিল অনেক নিরাপদ। কালো পিচের রাস্তা ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে বেয়ে চলেছে। একদিকে ঝোপঝাড় আছে ঠিকই, কিন্তু অন্যদিকে দূরে দেখা যাচ্ছে শহরের দালানকোঠা। শহরকে পেছনে রেখে কয়েকটা ছবি তুলে আমরা আবার নির্জন রাস্তা ধরে উপরে উঠতে থাকলাম।
হঠাৎ চোখে পড়ল কাঠের তিনটি তীর চিহ্ন। দুটি বিপরীত দুই সরু পাহাড়ি পথ নির্দেশ করছে, আর একটি সোজা বরাবর। সোজা তীরের নির্দেশ মেনে আর একটু এগোতেই রাস্তা সমতল হয়ে গেল। অদূরে চোখে পড়ল সাদা একটি গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আশপাশে জনমানবহীন। তাহলে গাড়ি কোথা থেকে এলো?
তখনই হঠাৎ রিং বেজে উঠল। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখি উইচ্যাটে সহকর্মী আসাদের ফোন।
হ্যালো। ভাই আপনারা কোথায়?
আমরা রেড হিলের উপরে।
আমরাও তো উপরে।
তিন রাস্তার একটা মোড় পেয়েছ? লাল বাড়ি?
হ্যাঁ পেয়েছি। সেদিক দিয়ে আরও উপরে চলে এসো।
আসছি তো।
অনেক উপরে একটা সাদা গাড়ি দেখবে। আমরা সেখানেই আছি। আসো।
আচ্ছা আসছি।

কথা শেষে মোবাইলটা ফের পকেটে চালান করে গাড়িটার কাছাকাছি ঘেঁষতেই দেখি ডানে গোল সমতলভূমি। সবুজ গাছে আচ্ছাদিত। রাস্তা ছেড়ে সেখানে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল সারিবদ্ধ লাল তাঁবু। বিপরীতে কাঠের কটেজ। মাঝখানে সাদা কাপড়ে মোড়া বৃহৎ কোণাকৃতির স্থাপত্য। তার একপাশে এক মহাকাশচারীর প্রতিকৃতি, অন্য পাশে জোড়া ফ্লেমিঙ্গো পাখি। কিন্তু কোনো মানুষজন নেই।
পরিবেশটা বেশ ভৌতিক। প্রবেশ পথে নিশ্চুপ কাচঘর। কাছে গিয়ে উঁকি দিতেই ভেতরে মৃত মানুষের মতো নিশ্চুপ কয়েকজন মোবাইল হাতে শুয়ে-বসে আছে। “হ্যালো”, কাচে নক করতেই তাদের সংবিৎ ফিরল। একে একে বেরিয়ে এলো বাইরে। উফ! গা হিম করা এক নির্জনতা, নীরবতা আর রহস্যের যেন অবসান হলো।
দুজন মাঝবয়সি নারী-পুরুষ। পরে তাদের সঙ্গে আলাপে জানতে পারি তারা স্বামী-স্ত্রী। সঙ্গে তাদের মেয়ে ‘আন’। তারা উরুমচি শহরে বাস করে। রোজ বিকেলে ওই সাদা গাড়ি করে এখানে চলে আসে। ওই দোকানটা তাদেরই। শহর থেকে মানুষজন এখানে ঘুরতে আসে, তবে ছুটির দিনগুলোতে মানুষের সংখ্যা থাকে বেশি। কথা শেষে ডালিমের জুস কিনে ছোট্ট আনকে বললাম আমাদের কিছু ছবি তুলে দিতে।
ওদিকে সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। চারদিকে গোধূলি লগ্ন। দূরে উরুমচি শহর এখন আলোকোজ্জ্বল। আমরা সবুজ ঘাসের চত্বরে বসে উপরে মুখ তুলতেই দেখি আকাশে লক্ষ কোটি তারা। এমন মায়াবী পরিবেশে আমরা সমস্বরে গেয়ে উঠলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত গান- “আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব/ সারা রাত ফোটাক তারা নব নব!”
চলবে...