Published : 02 Jul 2026, 08:17 PM
ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরজীবনে সবুজ প্রকৃতি আমাদের মনে একটু হলেও স্বস্তি এনে দেয়। আর বাড়ির দেয়ালঘেরা পরিবেশে একটি ছোট্ট বাগানই পারে আমাদের সেই সবুজের ছোঁয়া দিতে।
আমার বাড়ির আঙিনায় তেমনই একটি বাগান রয়েছে। যা আমার পরিবারের সবার মানসিক প্রশান্তির উৎস।
বাগানটি বাড়ির আঙিনা ও ছাদের কিছু অংশজুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে নানা ধরনের ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ।
ফুলের মধ্যে আছে জবা, গোলাপ, বেলি, রজনীগন্ধা, ডালিয়া, গাঁদা, নয়নতারা, টগর, শিউলি, অপরাজিতা ও গন্ধরাজসহ আরও নানা ধরনের গাছ। তবে আমার কাছে বাগানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুল হল মরু গোলাপ। এ ছাড়া বাগানে রয়েছে তুলসী, মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, কড়িপাতা, জেড প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা ও পাথরকুচি।

আমার বাগানে কয়েক প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টও রয়েছে। ফলগাছের মধ্যে আছে লেবু, আম ও পেয়ারা।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুলের দিকে তাকালে মন আনন্দে ভরে যায়। শিশিরে ভেজা পাপড়ি, মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা পাতা আর ফুলের মিষ্টি সুবাস এক অনন্য অনুভূতির জন্ম দেয়। মাঝেমধ্যে বাগানে প্রজাপতি ও মৌমাছির আনাগোনাও দেখা যায়।
অবসরের অনেকটা সময় আমি বাগানের পরিচর্যায় কাটাই। গাছে পানি দিই, শুকনো পাতা পরিষ্কার করি এবং নতুন চারা রোপণ করি। গাছে নতুন ফুল ফুটলে মনে হয়, আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

এই বাগান শুধু আমাদের বাড়ির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও গভীর করে। পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে আমরা বাগানের ফুল দিয়ে ঘর সাজাই। আমাদের বাগান দেখতে প্রতিবেশীরাও প্রায়ই আসেন।
আমি মনে করি, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সবার বাড়িতেই ছোট্ট একটি বাগান থাকা উচিত।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৪ বছর। জেলা: নীলফামারী।