Published : 14 Sep 2025, 06:51 PM
টাইফয়েডের টিকা নিতে দেড় মাসে প্রায় ৮৯ লাখ ২৭ হাজার শিশুর নিবন্ধন করার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে।
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে শুরু হবে এ টিকাদান কর্মসূচি, যার নিবন্ধন শুরু হয় দেড় মাস আগে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে।
রোববার ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসে কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. আবু জাফর।
টিকার নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে মো. আবু জাফর বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নিবন্ধন বাড়াতে কাজ করছেন তারা। পাশাপাশি স্বতঃস্ফুর্তভাবে নিবন্ধন করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, “আমাদের টার্গেট প্রায় ৫ কোটি। নিবন্ধন পর্যাপ্ত না হলে আমরা আলাপ করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিতে পারব। সেটা কী হবে, তা এখনই বলতে পারছি না।”
অধ্যাপক আবু জাফর বলেন, টিকার নিবন্ধন নিয়ে মানুষের আগ্রহ কিছুটা কম।
“আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখলাম যে লোকজন… আমার পরিবারেই দেখলাম যে… মানে সমস্যা আছে। সবাই জানেও না যে এইটা এরকম। আমার তিন নাতি-নাতনি আছে, জিজ্ঞেস করলাম তারা নিবন্ধন করেছে কি না, তারা বলে ‘না তো’; সবাই ব্যস্ত।”
নিবন্ধনে আগ্রহী করতে ব্যাপক প্রচার চালাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
আবু জাফর বলেন, টিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। ইমামরা যেন বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচকভাবে কাজ করেন, সে বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
“দেশে সাড়ে তিন লাখ মসজিদ আছে। সমাজে ইমামদের একটা আলাদা ভাবমূর্তি আছে। লোকজন তাদের সম্মান করেন, অনুসরণ করেন, তাদের গুরুত্বপূর্ণূ ব্যক্তি মনে করেন। ইমামরা যদি জুমার খুতবার আগে বা পরে বিষয়টি নিয়ে বলেন, তাহলে মানুষের মনে বিশ্বাস আসবে; আমাদের কর্মসূচি সফল হবে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, টাইফয়েডের টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটি অন্য টিকার মতই নেওয়া যায়। টিকা নেওয়ার পর সতর্কতা হিসেবে ৩০ মিনিট টিকাদান কেন্দ্রে অবস্থান করলে ভালো।
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোর এ টিকা পাবে। সব মিলিয়ে ১৮ কর্মদিবস টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ১০ কর্মদিবস বিভিন্ন বিদ্যালয়ে, পরের আট কর্মদিবস টিকাদান কেন্দ্রে দেওয়া হবে এই টিকা।
টাইফয়েডের টিকাদানের জন্য ১ অগাস্ট থেকে অনলাইনে (vaxepi.gov.bd/registration/tcv) নিবন্ধন শুরু হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ।