চট্টগ্রামে মিলেছে জিকার অস্তিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

চট্টগ্রামের এক ব্যক্তির রক্তের পুরনো নমুনায় জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সরকার।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2016, 08:27 AM
Updated : 22 March 2016, 09:30 AM

মঙ্গলবার ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে এক বৈঠকের পর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে গত ১৫ মার্চ ‘বাংলাদেশেও জিকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। 

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চট্টগ্রামে যে ব্যক্তির রক্তের নমুনায় জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে, তিনি ৬৭ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক ও জাতীয় রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইইডিসিআর এর অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলনে জিকা প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।   

জিকার লক্ষণ

>> প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজনের মধ্যে হালকা জ্বর, চোখে লাল হওয়া বা কালশিটে দাগ পড়া, মাথা ব্যথা, হাড়ের গিঁটে ব্যথা ও চর্মরোগের লক্ষণ দেখা যায়।

>> বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গিলিয়ান-ব্যারি সিনড্রোমেও ভুগতে পারেন; এর ফলে সাময়িক পক্ষাঘাত কিংবা ‘নার্ভাস সিস্টেম ডিজঅর্ডারের’ মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

>> গর্ভবতী মা মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি।

>> এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম ও বেশি করে তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেয়া হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর বাংলাদেশ সরকার আইইডিসিআর-এ সংরক্ষিত রক্তের নমুনা ফের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানেই মিলেছে জিকার অস্তিত্ব।

ঢাকার দুটি এলাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে সংগ্রহ করা এসব নমুনায় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ভাইরাস আছে কি না তা এর আগে পরীক্ষা করা  হয়েছিল। এডিস এজিপ্টি মশা ওই দুই রোগের জীবাণুর মতো জিকা ভাইরাসেরও বাহক। 

জিকা সনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা থেকে চিকিৎসকদের একটি দলকে চট্টগ্রামের ওই এলাকায় পাঠানো হয়। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন, যাকে চিকিৎসা সমীক্ষার পরিভাষায় ‘কন্টাক্ট ট্র্যাকিং’ বলা হয়। 

চট্টগ্রামের ওই ব্যক্তি বছরখানেক আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সময় তার রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। তবে সে সময় জিকা নিয়ে হৈ চৈ শুরু না হওয়ায় এ ভাইরাসের পরীক্ষা তখন করা হয়নি।  

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা ১০৭০ জনের রক্তের নমুনা থেকে দৈব চয়ন পদ্ধতিতে ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করেন।  

“আমরা ওই একজন ছাড়া আর কোনো নমুনায় জিকা ভাইরাস পাইনি। অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে শিশু জন্মের কোনো তথ্যও এই সময়ের মধ্যে আসেনি।  

১৯৪৭ সালে উগান্ডায় প্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এতে সচরাচর মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায় না। তবে এর লক্ষণও সবসময় স্পষ্ট থাকে না।

জিকা ভাইরাস ছোঁয়াচে নয়। তবে যৌন সংসর্গের মাধ্যমে জিকা সংক্রমণের কয়েকটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে সম্প্রতি ধরা পড়েছে।

জিকা ভাইরাস বাংলাদেশে কীভাবে এলো সে বিষয়ে নিশ্চিত নন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান।

“হয়তো বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে কেউ আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন তা খুঁজে বের করা সম্ভব না।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জিকা নিয়ে এখনই শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ ঘটেনি। তবে এ ভাইরাস ঠেকাতে হলে মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে।

মশা নিয়ন্ত্রণের কাজটি করতে হবে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে; কারণ এডিস মশা ঘরের মধ্যে ফুলদানি বা পাত্রে জমানো পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে।

এ সম্পর্কিত খবর-