মনের চিকিৎসা এখনও সুদূর, পরিস্থিতি বদলাবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সেবা বিস্তার ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
ঢাকার শ্যামলীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন নানা বয়সি মানুষ। কেউ দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, কেউ দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পর বদলে গেছেন, আবার কারও আচরণগত পরিবর্তনে বিপাকে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গেল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ থেকে সুমন মিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন বাবা আব্দুল জলিল।
আলাপচারিতায় তিনি জানালেন, ২২ বছর আগে বেবি ট্যাক্সি (অটোরিকশা) দুর্ঘটনায় ছেলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর তার স্মৃতিশক্তি ও বোধশক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার পর একসময় তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কয়েক মাস আগে তাকে পাওয়া যায়।
বাবা আব্দুল জলিল বলছিলেন, “দুর্ঘটনার পর কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছিলাম। কিন্তু ছেলের স্মৃতিশক্তি চলে যায়। সেভাবে কথাও বলে না। বিভিন্ন কারণে আমাদের ওপর মারধরও করত।
“২০০৪ সালের পর থেকে বাসায় শিকল দিয়ে আটকে রাখতাম। পরে ২০১৪ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কয়েক মাস আগে (ঢাকার) সাতরাস্তার মোড়ে তাকে পেয়েছি।”
ছেলের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে জলিল বললেন, “অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। গোসল করিয়ে কয়েক দিন আগে হাসপাতালের খোঁজ পেয়ে এখানে নিয়ে এসেছি।
“আজ ভর্তি করানোর কথা। দেখি চিকিৎসার পর কী হয়।”
সুমনের পরিবারের অভিজ্ঞতায় মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্তকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির চিত্রই উঠে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে দেখভাল করা, ওষুধ খাওয়ানো এবং প্রয়োজনের সময় হাসপাতালে নেওয়ার দায়িত্বও সামলাতে হয় স্বজনদের।
শরীয়তপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বুধবার হাসপাতালে আসেন হাতেম আলী। কয়েক বছর ধরে চিকিৎসা চললেও সম্প্রতি তার স্ত্রীর ওষুধ ও খাবার খাওয়ানো কঠিন ঠেকছে।
হাতেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রায় ৭-৮ বছর আগে প্রথম সমস্যা দেখা দেয়। আগে ওষুধ খাওয়ালেই দীর্ঘদিন স্বাভাবিক রাখা যেত।
“কিন্তু কয়েক মাস ধরে ওষুধ খাওয়ানো, এমনকি ভাত খাওয়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আবার ল্যাবএইডে নিয়ে দেখিয়েছি। সেখান থেকেই কিছুদিন আগে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিয়েছে।”
স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখভালের জন্য নারী স্বজন আনার তাগিদ অনুভব করেন হাতেম। তবে সম্ভাব্য দেখভালকারী গ্রামে কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকায় তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
মেয়ে রামিহার চিকিৎসা নিতে বুধবার হাসপাতালে আসা মা রমিজা বেগম জানালেন, বিয়ের কয়েক বছর পর রামিহা তার স্বামীর প্রতি সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে সেই সমস্যা বাড়তে থাকে।
রমিজা বলেন, “হঠাৎ করে রেগে যায়, হাতের কাছে যা পায় ভাঙতে শুরু করে। এই হাসপাতালেই মার্চ মাসে ১৫ দিন থাকতে হয়েছে।
“একপর্যায়ে স্বাভাবিক হলে বাসায় নিয়ে যাই। কিছুদিন ধরে আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাই ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছি।”
মা রমিজা বললেন, মেয়ে স্নাতক পাস করলেও দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় রামিহার স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
পরিবারে কারও মানসিক রোগ থাকলে অন্য সদস্যদের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাউফুন নাহার।
তিনি বলেন, “পরিবারের একজন সদস্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলে তার নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ওই ব্যক্তির যত্ন নিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে।
“বিশেষ করে এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। আবার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত কারও যত্ন নিচ্ছেন—এমন প্রাপ্তবয়স্কদেরও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে।”
তবে পরিবারের কারও মানসিক রোগ রয়েছে মানেই অন্য সদস্যদেরও একই রোগ হবে, বিষয়টি এমন নয়। জিনগত প্রবণতা, পরিবেশ ও ব্যক্তির অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানান কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী রাউফুন নাহার।
বেশিরভাগই সেবার বাইরে
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে হাসপাতালে আসা এসব মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরে জাতীয় পর্যায়ের চিত্রও উদ্বেগজনক। দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের বড় অংশই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তার আওতার বাইরে রয়েছেন।
২০২১ সালে প্রকাশিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮–১৯ এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। নারীদের মধ্যে এ হার ২১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষের মধ্যে এ হার ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। আর শহরাঞ্চলে মানসিক রোগে ভুগছেন ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, আর গ্রামাঞ্চলে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
কেবল প্রাপ্তবয়স্করাই নয়, শিশু-কিশোরদেরও অনেকেই মানসিক রোগে আক্রান্ত। জরিপে ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে।
অন্যদিকে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ২৮ দশমিক ১ শতাংশ মানসিক রোগে তখন ভুগছিলেন।
জরিপে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিষণ্নতাজনিত রোগের হার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, উদ্বেগজনিত রোগের হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক উপসর্গজনিত মানসিক রোগের হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সিজোফ্রেনিয়া স্পেকট্রাম ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন ০ দশমিক ৭ শতাংশ।
জরিপে ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্নায়ুবিকাশজনিত রোগের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ দেখা গেছে। এ ছাড়া উদ্বেগজনিত রোগে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, আচরণগত সমস্যাজনিত রোগে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, ঘুমের সমস্যা-সম্পর্কিত রোগে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বিষণ্নতাজনিত রোগে ০ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু-কিশোর ভুগছিল।
২০২১ সালে প্রকাশিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানসিক রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৩ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে।
তার মানে, মানসিক রোগে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা সহায়তা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে কেবল রোগ শনাক্ত করা নয়, আক্রান্তদের সেবার আওতায় আনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণাতেও পেশাদার সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গত জুনে ‘জার্নাল অব এফেক্টিভ ডিসঅর্ডারস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেশের ৭ হাজার ২৭০ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ দশমিক ২ শতাংশ বিষণ্নতাজনিত রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৯ শতাংশের রয়েছে গুরুতর বিষণ্নতা এবং ১ দশমিক ৩ শতাংশের দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা।
৬০ বছরের বেশি বয়সি, নারী, কম শিক্ষিত ও বেকার মানুষের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি বেশি। বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, স্বামী বা স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা থাকেন কিংবা স্বামী বা স্ত্রী মারা গেছেন—এমন মানুষের মধ্যেও এ ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ পেশাদার সহায়তা নিয়েছেন।
বিষণ্নতা সবসময় কেবল মন খারাপ থাকা বা কোনো কাজে আগ্রহ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা অন্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
জাতীয় জরিপে মানসিক রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের চিকিৎসার বাইরে থাকার তথ্য এবং সাম্প্রতিক গবেষণায় বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার কম হার—দুটিই দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় ঘাটতি তুলে ধরছে।
বিশেষায়িত জনবলের স্বল্পতায় বিঘ্নিত সেবা
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার এ ঘাটতির অন্যতম কারণ প্রয়োজনীয় জনবলের স্বল্পতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২৬০ জনের মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যা প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে মাত্র শূন্য দশমিক ১৬ জন।
এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষায়িত ৭০০ জন নার্স, যা প্রতি এক লাখে শূন্য দশমিক চারজন এবং ৫৬৫ জন মনোবিজ্ঞানী, অর্থাৎ প্রতি এক লাখের বিপরীতে কাজ করছেন শূন্য দশমিক ৩৪ জন।
আবার এসব বিশেষজ্ঞের প্রায় সবাই দেশের বড় শহরে থাকেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ নার্সরা কেবল দুটি সরকারি হাসপাতালে সেবা দিয়ে থাকেন। এর একটি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, অপরটি পাবনা মানসিক হাসপাতাল। তবে কোনোটিতেই বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্য নার্স নেই।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুন নাহার বলেন, “জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে জনবল। আমাদের আরও চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন।
“জনবল বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং কিছু পদ সৃষ্টির বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। তবে সরকারি প্রক্রিয়ায় এসব বাস্তবায়নে সময় লাগে।”
তিনি বলেন, ইনস্টিটিউটের ছয়টি মূল বিভাগের পাশাপাশি কয়েকটি সহযোগী বিভাগ রয়েছে। তবে সবগুলো এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। টেলিসাইকিয়াট্রি, ইন্টারভেনশন সাইকিয়াট্রি ও অকুপেশনাল থেরাপির মতো সেবা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
“এর জন্য যেমন জনবল প্রয়োজন, তেমনই অবকাঠামো এবং জায়গারও প্রয়োজন রয়েছে।”
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মোট ৪০০টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ২৪০টি বিনামূল্যের এবং ১৬০টি অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারের জন্য। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা একজন জানান, ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে শয্যা ব্যবহারের হার সাধারণত ৮৫ শতাংশ বা তার বেশি থাকে।
পরিচালক সাইফুন নাহারের ভাষ্য, গত পাঁচ থেকে দশ বছরে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি মানুষ চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।
“মানুষ এখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন—এ বিষয়টি আগের তুলনায় বেশি বুঝতে পারছেন এবং চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।”
তবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেও সেই চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়েনি।
প্রয়োজন সমন্বিত চিকিৎসা
মানসিক রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ওষুধ খেতে হয়—এমন ধারণা আংশিক সত্য বলে মনে করেন কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী রাউফুন নাহার।
তিনি বলেন, কিছু মানসিক রোগের ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘদিন ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। আবার কিছু সমস্যায় সীমিত সময়ের চিকিৎসা কিংবা কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপিই যথেষ্ট হতে পারে। চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে রোগের প্রকৃতি, তীব্রতা এবং ব্যক্তির অবস্থার ওপর।
“যার ওষুধ প্রয়োজন, তার ওষুধ না নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। আবার যার ওষুধ প্রয়োজন নেই, তিনি যদি নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খেতে থাকেন, সেটিও ক্ষতিকর হতে পারে।”
নিজে নিজে ঘুমের ওষুধ বা অন্য মনোরোগের ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়ে রাউফুন নাহার বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীর সমন্বিত চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ। কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি ওষুধ প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল চৌধুরী বলেন, “মানসিক রোগ ও মানসিক সমস্যা দুটি ভিন্ন বিষয়। মানসিক রোগ থাকলেই সেটি মানসিক সমস্যা, কিন্তু যাদের মানসিক সমস্যা আছে তাদের সবাইকে মানসিক রোগী বলা ঠিক নয়। মানসিক সমস্যার বিভিন্ন ধরন ও পর্যায় থাকতে পারে।”
তিনি বলেন, চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় লোকসান, চাকরি চলে যাওয়া, পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া কিংবা যৌন নিপীড়নের মতো বিভিন্ন কারণে একজন ব্যক্তি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সবক্ষেত্রেই মানসিক রোগ বলা যায় না।
অধ্যাপক কামাল চৌধুরী বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও মানসিক রোগ—উভয় ক্ষেত্রেই চিকিৎসার জন্য বহুমাত্রিক পেশাজীবীদের সমন্বয়ে কাজ করা প্রয়োজন। আমরা এটিকে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম বলি।”
এই দলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, ক্লিনিক্যাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট, মনোসামাজিক কাউন্সেলর, ক্লিনিক্যাল সোশাল ওয়ার্কার এবং প্রশিক্ষিত নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কামাল চৌধুরী বলেন, “চিকিৎসার কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এসব পেশাজীবীর মধ্যে কতটা সমন্বয় রয়েছে তার ওপর। শুধু ওষুধ দিয়ে সব ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।
আবার গুরুতর কিছু মানসিক রোগের ক্ষেত্রে শুধু কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপিও পর্যাপ্ত নয়। একজন ব্যক্তির কী ধরনের চিকিৎসা বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রয়োজন, তা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হয়।”
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক সাইফুন নাহারও বলেন, একজন রোগীকে পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে হলে সাইকোথেরাপি, কাউন্সেলিং, অকুপেশনাল থেরাপিসহ বিভিন্ন ধরনের থেরাপির প্রয়োজন হয়।
“এ জন্য শুধু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নয়, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবীর প্রয়োজন।”
কিন্তু প্রয়োজনীয় এসব পেশাজীবীর স্বল্পতা থাকায় সমন্বিত চিকিৎসার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।
সচেতনতার অভাবেও চিকিৎসা নিতে দেরি
মানসিক রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবকেও চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক কামাল চৌধুরী।
তিনি বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতারও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই জানেন না কোনটি মানসিক রোগ এবং কোনটি সাধারণ বা সাময়িক মানসিক সমস্যা।”
অধ্যাপক কামাল বলেন, মানসিক রোগে আক্রান্ত কাউকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে জিন-ভূতে ধরেছে বলে মনে করা হয়। এরপর ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া বা কবিরাজি চিকিৎসার মতো অপচিকিৎসার ওপর নির্ভর করা হয়।
“ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে মানুষ যেমন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যায় এবং চিকিৎসা নেয়, সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক রোগ হলেও একইভাবে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই সচেতনতা অনেকের মধ্যে নেই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাউফুন নাহার বলেন, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে অনেক সময় জিনে ধরা বা ভূতে ধরার মতো বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
“এ কারণে কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ওঝার শরণাপন্ন হন কিংবা পানি পড়ার মতো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিকে ‘পাগল’ বলে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়।”
তিনি বলেন, “এটা মূলত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার অভাব থেকে হয়। আমরা একে ইমোশনাল লিটারেসি বা মেন্টাল হেলথ লিটারেসির অভাব বলতে পারি।”
তবে শহরাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে জানিয়ে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী রাউফুন নাহার বলেন, কাউন্সেলিংয়ের জন্য এখন অনেকেই যোগাযোগ করছেন। নিজেদের সমস্যার কথা কাছের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরও সমাধান না পেলে তারা পেশাদার সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছেন।
“মানুষ এখন বুঝতে পারছে, শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন প্রয়োজন। শারীরিক রোগের মতো মানসিক রোগও হতে পারে এবং যথাযথ চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রে তা নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা সম্ভব।”
জেলা-উপজেলায় সেবা পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ
রাজধানীর বাইরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি প্রকট বলে মনে করেন অধ্যাপক কামাল চৌধুরী।
তিনি বলেন, “মানুষ যখন জানতে পারছে যে, মানসিক রোগের চিকিৎসা আছে, তখনও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সাইকোলজিস্ট না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তারা চিকিৎসা নিতে পারছেন না।
“বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। সেখানে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক বা পেশাজীবী না থাকেন, তখন তাকে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। এটি রোগীর জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।”
ফলে মানসিক রোগ সম্পর্কে জানার পরও চিকিৎসা নিতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞের অভাবের কারণে রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
এ পরিস্থিতিতে টেলিসাইকিয়াট্রি সেবা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক সাইফুন নাহার বলেন, “বর্তমানে কয়েকটি ইউনিটের মাধ্যমে টেলিসাইকিয়াট্রি সেবা দেওয়া হচ্ছে।
“আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই সেবা আরও বিস্তৃত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়া।”
এতে বিশেষজ্ঞের স্বল্পতা থাকা এলাকাগুলোতে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি মাতৃ মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্কুলভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও কাজ হচ্ছে বলে জানান অধ্যাপক সাইফুন নাহার।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর সংখ্যা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী রাউফুন নাহার।
তিনি বলেন, “আমাদের আরও মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী দরকার—মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানী দুটোই। নীতিনির্ধারকদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।”
কমিউনিটি পর্যায়ে সেবাকর্মী তৈরির তাগিদ
বর্তমান জনবল দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যে অসম্ভব সেই বাস্তবতা মেনে কমিউনিটি পর্যায়ে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকর্মী তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক কামাল চৌধুরী।
তিনি বলেন, “সরকারকে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কার বা কমিউনিটি পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকর্মী তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ একজন মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে অন্তত আট থেকে ১০ বছর সময় লাগে।
“বর্তমান জনবল দিয়ে আগামী বহু বছরেও দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না।”
তার মতে, কমিউনিটি পর্যায়ের এসব কর্মী প্রাথমিকভাবে মনোসামাজিক সেবা দেবেন, মানুষের কাছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেবেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা তৈরি করবেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করতে সহায়তা করবেন। যাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের উপযুক্ত পেশাজীবীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাও করবেন তারা।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার কেবল রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলে মনে করেন অধ্যাপক কামাল চৌধুরী। তার ভাষ্য, রোগ প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
“শুধু রোগ হলে চিকিৎসা দেওয়ার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে রোগ প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। তাই এই মুহূর্তে কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটানো এবং রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী রাউফুন নাহার।
তিনি বলেন, মানুষের জীবনে আনন্দের ঘটনার পাশাপাশি দুর্ঘটনা, ব্যর্থতা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও আসে। এসব কঠিন সময়ে একজন মানুষের এমন কাউকে প্রয়োজন হয়, যার কাছে তিনি নিরাপদ বোধ করবেন এবং নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারবেন।
রাউফুন নাহার বলেন, “আমি চাই, এমন একজন মানুষ আমার কথা শুনুক, যিনি আমাকে বুঝবেন। যার কাছে আমি নিরাপদ বোধ করব এবং মন খুলে কথা বলতে পারব।”
কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানের এ শিক্ষক বলেন, এই সহমর্মিতা কেবল মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা পরিচিতজনও আন্তরিকভাবে অন্যের কথা শুনে সহায়তা করতে পারেন।
“আপনি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ না হলেও অন্য একজন মানুষ কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, কী অনুভব করছেন এবং তার কী প্রয়োজন—সেটা বোঝার চেষ্টা করতে পারেন। আপনার মনে হলে সমস্যাটি একা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, তখন তাকে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে পারেন।”
বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করলেও তাদের অনেকেই বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কিংবা সারা দেশে সেবা সম্প্রসারণে তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মনে করেন অধ্যাপক কামাল চৌধুরী।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
“সরকারকে এমন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে, যার মাধ্যমে সীমিত জনবল দিয়েই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।”
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, দেশে মানসিক রোগী অনেকই আছে। তবে লজ্জা, সামাজিক চাপসহ নানা কারণে তার মধ্যে বেশির ভাগ রোগী সেবা নিতে আসে না।
“দেশের কিছু সচেতন মানুষ আছে, যারা নিজেদের অবস্থা বুঝতে পারে; তাই একমাত্র মানসিক রোগের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। তবে এমন কিছু সমস্যা মনে হলে শুরু থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। আর পরিবার থেকে এক ধরনের সাহস দিতে হয় তাতে রোগীর জন্য ভালো হয়।”
তিনি বলেন, “রাজধানীর শ্যামলীতে বিভিন্ন রোগের গবেষণার জন্য ইনস্টিটিউট রয়েছে, যার মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যেরও একটি রয়েছে।
“দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সব ধরনের রোগের সেবা পৌছে দিতে আমরা কাজ করছি।”
