Published : 31 Aug 2025, 03:06 PM
পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও স্নায়ু রোগীদের জন্য দেশের প্রথম রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হলো বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
রোববার এ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
এ কেন্দ্র আপাতত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের থেরাপি দেবে। আর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি পেলে সাধারণ রোগীদের সেবা দেওয়া শুরু হবে।
পক্ষাঘাত, স্নায়ুবিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা বা শরীরের অঙ্গের দুর্বলতাসহ জটিল পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে যারা রয়েছেন, তাদের উপকারে আসবে এ সেন্টার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম জানান, জুলাইয়ে আহতদের পুনর্বাসনের জন্য চীনের কাছে ১০-১২টি রোবট চাওয়া হয়েছিল। তারা ৬২টি রোবট উপহার দিয়েছে। পাশাপাশি বিএমইউর ২৭ জন চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দেয় চীন।
উপদেষ্টা বলেন, এই রোবোটিক সেন্টার সারাদেশের মানুষের উপকারে আসবে। এজন্য এটা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।
“আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশ একটা অ্যাকসিডেন্টের ডিপো। যখন-তখন, যেখানে-সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মরছে, হাত-পা ভাঙছে। একের পর এক দুর্ঘটনায় আমাদের ইয়ং জেনারেশনের কেউ হা হারাচ্ছে, কেউ স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি হচ্ছে, কারও ব্রেইন ড্যামেজ হচ্ছে।
“এ ধরনের রোগীদের ট্রিটমেন্ট করার জন্য আমাদের সামনে একটা বড় সুযোগ আসল। এটাকে আমরা যেন কাজে লাগাতে পারি। এজন্য শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেবা দিতে পারি। অন্তত কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”
বিএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পার্সন ডা. এম এ শাকুর সাংবাদিকদের বলেন, এই সেন্টার চালুর জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন। এর আগে জুলাই আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
“এই যন্ত্রগুলো ফেলে রাখলে বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেগুলো যেন সচল থাকে এজন্য জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। অনুমতি পেলে এটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আশা করছি, এটা খুব শিগগিরই পাব। খরচ কত হবে তা নির্ধারণের জন্য আমরা একটা এসওপি তৈরি করেছি। আমরা সবার সঙ্গে কথা বলে দেশের মানুষের জন্য সহজ হয় এমন একটা ফি নির্ধারণ করব।”
চীন সরকার এ প্রকল্পে প্রায় ২০ কোটি টাকার রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান হিসেবে দিয়েছে। সেন্টারে ৬২টি রোবট রয়েছে, যার মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। এসব রোবটের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।
এই পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে চীনের ৭ সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষজ্ঞ দল বিএমইউর ২৭ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শাহীনুল আলম, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।