‘হডসনের বন্দুক’র জন্য বানানো হল ১৩টি গান
সৈয়দ শামসুল হকের গল্প থেকে তৈরি সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২ ডিসেম্বর।
সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘হডসনের বন্দুক’ সিনেমায় গান থাকবে তিনটি, তবে তা বেছে নেওয়া হবে ১৩টি থেকে।
সৈয়দ শামসুল হকের লেখা গল্প থেকে ইতিহাস ও গোয়েন্দা আবহের এ সিনেমাটি নির্মাণ করছেন প্রশান্ত অধিকারী, যা এখন মুক্তি অপেক্ষায়।
প্রশান্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, “এ ধরনের সিনেমায় গান খুব একটা লাগে না। তারপরও ভাবলাম ব্যতিক্রমী কিছু গান শ্রোতাদের উপহার দিই। একে একে ১৩টা গান বানালাম। সেখান থেকে তিনটা গান সিনেমায় ব্যবহার করেছি।”
তবে এটা করতে গিয়ে বাংলা গানের ‘বড় সংকট’ দেখার কথা বললেন এই চলচ্চিত্র নির্মাতা।
“গান বানাতে গিয়ে দেখি, আমাদের গান আমি-তুমি, আকাশ-বাতাসে আটকে আছে। নতুন কথা কেউ তুলে আনতে পারছে না। ফলে একে একে ১৩টি গান বানাতে হয়েছে আমাকে। একটা গান একাধিক শিল্পীকে দিয়েও গাইয়েছি। একটা গানই তিন-চার বার রেকর্ড হয়েছে। সবশেষে যেটাতে সন্তুষ্ট হতে পেরেছি সেটাই রেখেছি।”
সিনেমা নির্মাণে যেমন খাটতে হয়েছে, গানগুলোর জন্যও তেমনটাই খেটেছেন বলে জানান প্রশান্ত অধিকারী। তার আশা দর্শকের সিনেমার পাশাপাশি গানগুলোও ভালো লাগবে।
সিনেমার একটি গান ‘রাফকাট ফিল্মস’-এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার। প্রশান্ত অধিকারীর লেখা ‘রাতের ফেরিওয়ালা’ নামের গানটি নিজের সুরে গেয়েছেন কবি ও সংগীতশির্পী প্রবর রিপন।
রাতের ফেরিওয়ালা নিয়ে নির্মাতা প্রশান্ত বলেন, “গানটি সুরিয়াল ও ব্লুজের ধাঁচে করার চেষ্টা করেছি। বেশ কয়েক বছর আগে করা হয়েছিল। প্রথমে চেয়েছিলাম শিরোনামহীনের তানজির তুহিনকে দিয়ে গাওয়াব। সে অসুস্থ থাকায় তুহিনের পরামর্শেই প্রবর রিপনকে দিয়ে গাওয়াই। প্রবর দারুণ গেয়েছে। গানকে যারা ভিন্নভাবে উপভোগ করতে চায়, রাতের ফেরিওয়ালা তাদের ভালো লাগবে।”
গায়ক প্রবর রিপন বলেন, “বেশ ব্যতিক্রমী একটা গান। আশা করি, শ্রোতারা গানটা পছন্দ করবেন।”
‘হডসনের বন্দুক’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২ ডিসেম্বর। ২০১১-১২ অর্থ বছরে সরকারি অনুদান পেয়েছিল সিনেমাটি।
এ সিনেমায় শখের গোয়েন্দা ও চিত্রশিল্পী নয়ন মামার চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ। তার ভাগ্নি ও সহকারীর চরিত্রে দেখা যাবে মৌসুমী হামিদকে। রাশিয়ার মাজিদ শিখালিভ অভিনয় করেছেন নাম ভূমিকায়।
প্রশান্ত অধিকারী পরিচালিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রশান্ত অধিকারী ও রিয়েল আকঞ্জি। ক্যামেরায় কাজ করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ও সাহিল রনি।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গোয়েন্দা আবহের গল্পে নির্মিত সিনেমার শুটিং হয়েছে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, জাফলংসহ বিভিন্ন স্থানে। এতে আরও অভিনয় করেছেন এস এম মহসিন, কাজী উজ্জ্বল, অর্নব অন্তুসহ অনেকে।
নির্মাতা জানান, সিনেপ্লেক্সসহ দেশের বেশ কিছু সিনেমা হলে মুক্তির পাশাপাশি দেশের বাইরেও মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
তিনি বলেন, “আমার দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের ফসল হডসনের বন্দুক। চেষ্টা করেছি মানসম্মত একটি সিনেমা নির্মাণের। সবাইকে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করছি, আপনাদের ভালো লাগবে।”
