০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি আবার সামনে আসায় ‘সবচেয়ে খুশি হবে ইংল্যান্ড’

তুমুল আলোচিত-সমালোচিত ঘটনাটি নিয়ে উসমান খাওয়াজার বিস্ফোরক মন্তব্য অস্ট্রেলিয়া দলকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারে, মনে করেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন।

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি আবার সামনে আসায় ‘সবচেয়ে খুশি হবে ইংল্যান্ড’

ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Nov 2026, 11:31 PM

Updated : 08 Nov 2026, 11:31 PM

আট বছর আগে কেপ টাউন টেস্টের সেই বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি নিয়ে উসমান খাওয়াজার বিস্ফোরক মন্তব্য ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এটি অস্ট্রেলিয়া দলকে ‘পুরোপুরি ভেঙে’ দিতে পারে বলে মনে করছেন মাইকেল ভন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক বলেছেন, এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে তার উত্তরসূরিরা।

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে সেই বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল পুরো অস্ট্রেলিয়া দল, ‘সব্‌র’ নামের আত্মজীবনীতে এই দাবি তুলে ধরেছেন খাওয়াজা। বইটি বাজারে আসবে আগামী মঙ্গলবার। তার আগে শনিবার ‘নাইন নিউজপেপার্স’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে বলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ব্যাটসম্যান।

পুরনো ঘটনা নতুন করে সামনে আসাটা আগামী মৌসুমের আগে অস্ট্রেলিয়া দলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক মার্ক টেইলরও।

ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ‘দা টেলিগ্রাফ’-এ লেখা কলামে খাওয়াজার মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাইকেল ভন।

“বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি নতুন করে সামনে আসায় সবচেয়ে খুশি হবে ইংল্যান্ড। কারণ, এটি অস্ট্রেলিয়া দলকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দিতে পারে, যারা এমনিতেই প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে।

“ইংল্যান্ড নিশ্চয়ই বিষয়টি উপভোগ করবে এবং সেটাই স্বাভাবিক। তবে তাদের নিজেদের বিষয়গুলোও গুছিয়ে রাখতে হবে; কেবল এই আশায় বসে থাকলে চলবে না যে, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে যখন অস্ট্রেলিয়া এখানে আসবে (অ্যাশেজ সিরিজে), ততদিনে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে।”

তবে সামনের সময়টা অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব কঠিন হতে যাচ্ছে বলেই মনে করেন ২০০৫ অ্যাশেজ সিরিজ জয়ী ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

“অস্ট্রেলিয়ানরা মানসিকভাবে বেশ শক্ত, তবে সামনের কয়েক সপ্তাহ তাদের জন্য কঠিন হতে যাচ্ছে। এখন থেকে আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। কামিন্স এবং তার দলের জন্য সবচেয়ে বাজে সময়ে এটি ঘটল।”

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ক্রিকেটে ‘স্যান্ডপেপারগেট’ নামে পরিচিতি ওই ঘটনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) তদন্তের পর কেবল ক্যামেরন ব্যানক্রফট, স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছিল।

খাওয়াজার দাবি, গেবেখায় দ্বিতীয় টেস্টেও সিরিষ কাগজ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং তা ব্যবহারও করা হয়েছিল।

সে সময় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্ত কেবল কেপ টাউন টেস্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। তখন জোর গুঞ্জন ছিল যে, এর কয়েক মাস আগে ঘরের মাঠে ৪-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের সময়ও অস্ট্রেলিয়া একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিল।

ভনের মতে, সত্য বেরিয়ে আসতে আট বছর লেগে যাওয়াটা বিস্ময়কর। তিনি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “অবশেষে আমরা খেলার জগতের সবচেয়ে গোপন রহস্যটি জানতে পারলাম... আর এটা তো জানাই ছিল!”

‘দা টেলিগ্রাফ’-এ ভন লিখেছেন “আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, অস্ট্রেলিয়া কীভাবে ভেবেছিল যে তারা বিষয়টি পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে দিতে পারবে। ক্রিকেট মহলে এটি একটি ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে রয়েছে।

“দলের ভেতর থেকে এমন একটি বিষয় কীভাবে কারো অজানা থাকতে পারে? কেউ আমাকে এটা বোঝাতে পারবে না যে, অস্ট্রেলিয়া দলের ভেতর এ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি অথবা বোলাররা জানতেনই না যে তারা যে বলটি ব্যবহার করছেন, তার সাথে কী করা হচ্ছে।”

ক্রিকেটারদের মতো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ারও সমান দায় দেখছেন সাবেক ব্যাটসম্যান ভন।

“এই ঘটনায় জড়িত খেলোয়াড়দের মতো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও সমান দোষী। তারা তদন্তের পরিধি ইচ্ছে করেই সীমিত রেখেছিল, যার ফলে ভবিষ্যতে এটি উন্মোচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

২০২১ সালে দা গার্ডিয়ানে সাক্ষাৎকারে ব্যানক্রফট বলেছিলেন, কেপ টাউনে যে বল টেম্পারিংয়ের ব্যাপারটি অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা জানত, এটা “স্বতঃসিদ্ধ।” ব্যানক্রফটের সেই সাক্ষাৎকারের জবাবে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হেইজেলউড এবং ন্যাথান লায়ন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে বল টেম্পারিং সম্পর্কে কোনো কিছু জানার কথা অস্বীকার করেন।

ওই টেস্টে খেলা যে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা এখনও দলে আছেন, বিশেষ করে কামিন্স, স্টার্ক, হেইজেলউড ও লায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনাকে ভন উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তার ধারণা, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ থেকে বিশ্রাম পাওয়ার পর, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য যখন এই খেলোয়াড়রা আবার অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরবেন, তখন তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি বেশ ‘উত্তপ্ত’ হতে পারে।

“তারা চিরকাল (ঘটনাটি থেকে) এভাবে পালিয়ে বেড়াতে পারবে না।”