গান নাটক বক্তৃতায় মান্নান হীরার জন্মবার্ষিকী উদযাপন
অভিনয়, নির্দেশনা এবং সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকলেও সব কিছু ছাপিয়ে তিনি দেশের প্রধান নাট্যকারদের একজন হয়ে উঠেছিলেন।
জন্মবার্ষিকীতে স্মারক বক্তৃতা, গান ও পথনাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাট্যকার মান্নান হীরাকে স্মরণ করল আরণ্যক নাট্যদল।
শুক্রবার সকালে জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে হয় স্মারক বক্তৃতা এবং বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে মান্নান হীরা রচিত নাটকের গান এবং পথনাটক 'মূর্খ লোকের মূর্খ কথা' মঞ্চস্থ হয়।
মান্নান হীরার জন্ম ১৯৫৬ সালের ৭ জুলাই, সিরাজগঞ্জ জেলায়। তিনি প্রয়াত হন ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর।
মান্নান হীরার মৃত্যু পর তার নামে স্মারক বক্তৃতার প্রবর্তন করে আরণ্যক নাট্যদল। প্রথম স্মারক বক্তা ছিলেন গবেষক মফিদুল হক, দ্বিতীয় আয়োজনে স্মারক বক্তা ছিলেন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী।
এবার স্মারক বক্তৃতা উপস্থাপন করেন নাট্যকার মলয় ভৌমিক। বিষয় ছিল 'পথনাটক: সময়ের সক্রিয় নাট্যকর্ম ও আজকের সামাজিক-রাজনৈতিক অভিঘাত'। বেলা ১১টায় মান্নান হীরা জন্মোৎসবের সূচনা হয় সেই স্মারক বক্তৃতার মধ্য দিয়ে।
আলোচনায় অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার, হারুণ রশীদ, আজাদ আবুল কালাম, সামিনা লুৎফা নিত্রা, সাইদুর রহমান লিপন, মোহাম্মদ আলী হায়দার, কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন ও আহাম্মেদ গিয়াস।
মান্নান হীরাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তার সহধর্মিণী সৈয়দা নাদিরা অনু। আরণ্যকের প্রধান সম্পাদক ফয়েজ জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মামুনুর রশীদ।
মান্নান হীরার নাটকের অংশ থেকে পাঠ করেন অভিনয়শিল্পী মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, রুবলী চৌধুরী, পরিমল মজুমদার ও হাশিম মাসুদ।
অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, "মান্নান হীরা তার নাটকের মধ্য সমাজে চলমান নানা সংকট তুলে ধরতেন এবং সেই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতেন। তার নাটক মানুষকে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে উজ্জীবিত করেছে। আরণ্যক নাট্যদলের শ্রেণি সংগ্রামের নাট্যচর্চায় যে দীর্ঘ পথচলা, তার অন্যতম কাণ্ডারিদের একজন ছিলেন মান্নান হীরা।"
বিকেল ৪টায় শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মান্নান হীরা রচিত নাটকের গান পরিবেশন করেন আরণ্যকের শিল্পীরা। কবিতা আবৃত্তি করেন মীর বরকত ও হাশিম মাসুদ। পরে মঞ্চস্থ হয় মান্নান হীরা রচিত ও নির্দেশিত নাটক 'মূর্খ লোকের মূর্খ কথা'।
নাটকটিতে অভিনয় করেন আরিফ হোসেন আপেল, শামীমা শওকত লাভলী, হাশিম মাসুদ, রুবলী চৌধুরী, মাহফুজ মুন্না, জুবায়ের জাহিদ ও শাহরান।
মান্নান হীরা তার জন্মশহর সিরাজগঞ্জ থেকে মাধ্যমিক, রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। নাট্যচর্চার শুরু থেকেই তিনি আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অভিনয়, নির্দেশনা এবং সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকলেও সব কিছু ছাপিয়ে তিনি দেশের প্রধান নাট্যকারদের একজন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। বিশেষ করে পথনাটকে তার অবদান অনন্য।
২০০৬ সালে নাটক শ্রেণিতে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান মান্নান হীরা। আরণ্যক নাট্যদলের দলপ্রধানের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।
‘ক্ষুদিরামের দেশে’, ‘ফেরারী নিশান’, ‘আদাব’, ‘ঘুমের মানুষ’ ‘মৃগনাভি’, ‘শেকল’, ‘জননী বীরাঙ্গনা’, ‘মণিমুক্তা’, ‘একাত্তরের রাজকন্যা’, ‘মেহেরজান, ‘ফুটপাত’, ‘রেফারী’, ‘বাংলার বাদশা’, ‘সুখদৈত্য’, ‘লাল জমিন’ মান্নান হীরা রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক।
‘গরম ভাতের গল্প’ ও ‘৭১-এর রঙপেন্সিল’ নামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছিলেন মান্নান হীরা। এছাড়া পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ তারই বানানো।
