Published : 11 Apr 2023, 05:49 PM
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, মুম্বাই থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে থানে জেলা থেকে ওই কিশোরকে আটক করা হয়। ওই কিশোরের পেছনে আর কে কে আছে, সেটি তদন্ত করে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।
ক্রমাগত খুনের হুমকি পেয়ে আসছেন বলিউডের `ভাইজান’। কখনও ফোনে কখনও ই-মেইলে, হুমকি এসেছে উড়ো চিঠিতেও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এবারে আর সালমানকে ফোন করা হয়নি, মুম্বাই পুলিশকে ফোন করে বলা হয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল ভাইজানকে হত্যা করা হবে।
নিরাপত্তার জন্য মুম্বাই পুলিশ এই অভিনেতাকে কিছুটা অন্দরে থাকার পরামর্শ দিলেও ঈদের আগে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘কিসি কা ভাই কিসি কা জান’ সিনেমা প্রচারের জন্য দম ফেলবার ফুরসত নেই সালমানের।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার মুম্বাই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সালমানকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি ফোন আসে। সে সময় হুমকিদাতা নিজেকে ‘রকি ভাই’ হিসেবে পরিচয় দেন।
এরপর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে ফোনটি করা হয়েছে মুম্বাইয়ের পাশে থানে জেলার শাহাপুর থেকে। পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখেন হুমকি দাতা একজন কিশোর।
রাজস্থানের বাসিন্দা ওই ছেলেটিকে এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এদিকে কয়েকদিন আগে নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনেন সালমান খান।
লাগাতার হত্যার হুমকি
মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে পুরনো ‘শত্রু’ কানাডাভিত্তিক এক গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারের কাছ থেকে ই-মেইলে খুনের ‘হুমকি’ আসে সালমানের কাছে।
মোহিত মার্গ নামের এক ব্যক্তির মেইলে লিখেছিলেন, “গোল্ডি ভাই (গোল্ডি ব্রার) আপনার (সালামন) সঙ্গে কথা বলতে চান। এজন্য একটি সময় নির্ধারণ করতে হবে। সামনাসামনি গোল্ডি ভাই কথা বলবেন। হিসাব মেটাতে হবে।“
ওই চিঠিতে বিষ্ণোইয়ের সাক্ষাৎকারটি দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তার দুদিন আগে কারাগারে বসে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ফের বলেছিলেন, ক্ষমা না চাইলে সালমান খানকে হত্যার চিন্তাভাবনা থেকে তিনি সরছেন না।
গত বছর পাঞ্জাবি গায়ক ও কংগ্রেস নেতা সিধুকে গুলি করে হত্যার দায় স্বীকার করে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন গ্যাংস্টার গোল্ডি। সে সময় সালমান ও তার বাবা সেলিম খানকে খুনের হুমকি দিয়ে যে উড়োচিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতেও গোল্ডি ও গ্যাংস্টার লরেন্স বিঞ্চোই জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছিল মুম্বাই পুলিশ।
২০১১ সালে ‘রেডি’ সিনেমার শুটিংয়ের মাঝে সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন লরেন্স বিষ্ণোই। এরপর ২০১৮ সালে সালমানকে হত্যার জন্য তিনি তার সহযোগী সম্পত নেহরাকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু সে সময় অস্ত্রের জটিলতায় পরিকল্পনা মাফিক কাজ সারতে পারেনি খুনিরা।
২০২১ সালে থেকে তিহার জেলে বন্দি আছেন বিষ্ণোই। গত বছরের জুনে সালমানের মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাড়িতে উড়ো চিঠি আসার পর তার নাম ফের আলোচনায় আসে। তবে সে সময় পুলিশের কাছে হত্যার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এরপর গত বছরে শেষ নাগাদ সালমানকে হত্যায় বিষ্ণোইয়ের ছক বেরিয়ে আসে দিল্লি ও পাঞ্জাব পুলিশের তদন্তে।
সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, বিষ্ণোইয়ের লোকজন সালমানকে পানভেলে তার খামারবাড়িতে হত্যার পরিকল্পনা এঁটেছিল। সেইমত তারা খামারবাড়িতে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছিল। কিন্তু পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যায় অন্যতম সন্দেহভাজন কপিল পণ্ডিতকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জেরা করে পুলিশ ওই পরিকল্পনা জেনে যায়।
পুরনো খবর:
পুরানো খবর:
নতুন বুলেটপ্রুফ গাড়ি কিনলেন সালমান খানপুরানো খবর:
হুমকি পাওয়ার পর সালমান খানের নিরাপত্তায় জোরপুরানো খবর:
সালমানকে খুনের দায়িত্ব দেওয়া হয় এক কিশোরকে!পুরানো খবর:
নিজের খামারবাড়িতেই খুন হতে পারতেন সালমান