মিম বলেন, “গেল কিছুদিন ধরে মনের মধ্যে লালন করা মহীয়সী পান্না কায়সারকে হারিয়ে মনে হচ্ছে, আমারই একজন আপনজন হারালাম।“
Published : 04 Aug 2023, 04:24 PM
শহীদজায়া পান্না কায়সারের জীবন অবলম্বনে তৈরি সিনেমায় তার ভূমিকাটি করছেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। আজকালের মধ্যেই পান্না কায়সারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল মিমের। কিন্তু তার হঠাৎ প্রয়াণে ‘শোকস্তব্ধ’ মিমের উপলব্ধি, এক আপনজনকেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
কেবল মিম নন, পান্না কায়সারের মৃত্যু খবর মানতে পারছেন না সিনেমাটির নির্মাতা-শিল্পীসহ সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার সকালে বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয় পান্না কায়সারকে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পান্না কায়সারকে নিয়ে সিনেমাটির নাম ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’। ওয়াহিদ তারেকের পরিচালনায় অগাস্টের ১ তারিখ থেকে ঢাকার ইস্কাটনে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়েছে। এই সিনেমার প্রযোজক পান্না কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার।
তিনদিন আগেই সিনেমাটিতে অভিনয়ের খবর গ্লিটজকে জানিয়েছিলেন মিম।
পান্না কায়সারের মৃত্যুর খবরে মুষড়ে পড়া মিমকে গ্লিটজকে বলেন, “আমি একটু আগেই খবরটা জানলাম, এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। গতকাল শমী আপু (শমী কায়সার) বললেন, তোমাদের তো শুক্র ও শনিবার শুটিং নেই, তাহলে রেডি থেক। তোমাদেরকে আম্মার সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যাব। শুনেই তো আমি ভীষণ এক্সাইটেড।
“রাত শেষে সকালে ঘুম থেকে ওঠেই শুনি পান্না কায়সার আন্টি চিরদিনের জন্য আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার মৃত্যুর খবরে থমকে গেলাম; স্তব্ধ হলাম। গেল কিছুদিন ধরে মনের মধ্যে লালন করা মহীয়সী পান্না কায়সারকে হারিয়ে মনে হচ্ছে, আমারই একজন আপনজন হারালাম।”
এই সিনেমার জন্য গত দুই মাস ধরে পান্না কায়সারকে ‘জানার চেষ্টা করেছেন’ বলেও জানান মিম।
“এই সিনেমার জন্য গেল দুই মাস ধরে বই পড়ে, টেলিভিশনের বিভিন্ন ইন্টারভিউ থেকে তাকে জানার চেষ্টা করেছি। সেই মানুষটার সঙ্গে মুখোমুখি বসে গল্প করব, নানান অভিজ্ঞতা শুনব, আড্ডা দেব; জীবনের অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা হবে। অসাধারণ মুহূর্তের সাক্ষী হব। আরো কত কি যে ভাবনা মনের মধ্যে। চাইলেই কি আর সব পূরণ হয়। সৃষ্টিকর্তার কাছে তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমাটি বানাতে সরকারের অনুদানও মিলেছে।
নির্মাতা ওয়াহেদ তারেক গ্লিটজের কাছে আক্ষেপে করে বলেন, “উনাকে (পান্না কায়সার) আমরা সিনেমাটা দেখাতে পারলাম না, এর জন্য খুব মন খারাপ হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলার মতো ভাষা নেই। খুব মন খারাপ হচ্ছে।“