৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

পর্দা নামল উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

ধারমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুক্রবার পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির পর্দা নামে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 09:45 PM

Updated : 30 Oct 2026, 09:49 PM

অসাম্প্রদায়িক, শোষণহীন ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল থাকার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে মাহমুদ সেলিম ও অমিত রঞ্জন দের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

ধারমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুক্রবার পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির পর্দা নামে। আয়োজনের স্লোগান ছিল ‘সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির, দিন নেই তর্ক ও যুক্তির।’

এর আগে বৃহস্পতিবার শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথক স্থানে রাজধানীতে সংগঠনের ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দুই অংশ। মাহমুদ সেলিমের নেতৃত্বাধীন অংশটি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) দুইদিনের এ আয়োজনের উদ্বোধন করে।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় ছায়ানট সভাপতি সরওয়ার আলী বলেন, “স্বাধীনতার আগে থেকে উদীচী ও ছায়ানট যে অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে আসছে, তা এখনো শেষ হয়নি। অন্ধকারের অপশক্তি বারবার দুই সংগঠনের ওপর আঘাত হেনেছে। সবশেষ গত ডিসেম্বরেও অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এত প্রতিকূলতার পরও উদীচী থামেনি, ভবিষ্যতেও থামবে না।”

ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি মাহীর শাহরিয়ার রেজা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এ দেশের মাটিতে একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া হয়। স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক শক্তি কে প্রকৃত আর কে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, তা নির্ধারণের দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতি অতিক্রম করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

উদীচীর জন্মলগ্ন থেকে আদর্শিক লড়াই অব্যাহত রাখার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী বলেন, “উদীচী তার মূল লক্ষ্য থেকে কখনোই পিছপা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি ও বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি উদীচী গঠনতান্ত্রিকভাবেই দায়বদ্ধ। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত থেকে রক্ষায় উদীচীর শিল্পীরা আমৃত্যু কাজ করবেন।”

উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম জানিয়েছেন, “প্রগতির মশাল জ্বালিয়ে দেশের সংকটময় মুহূর্তে মানুষকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাবে উদীচী।”

আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য দেন, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, প্রণয় সাহা, প্রবীর সরদার ও খেলাঘরের প্রতিনিধিরা। পর্বটি পরিচালনা করেন প্রদীপ ঘোষ।

এর আগে বিভিন্ন মেয়াদের শিল্পী ও সংগঠকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় পুনর্মিলনী। সাংস্কৃতিক পর্বে মাহমুদ সেলিমের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় পরিবেশিত হয় উদীচীর বিশেষ প্রযোজনা ‘প্রগতির পদাতিক’।

এছাড়া শান্ত-মারিয়াম ড্যান্স একাডেমির নৃত্য, বেলায়েত হোসেনের নির্দেশনায় উদীচী কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগের পরিবেশনা ‘আমার মাটি আমার মোহনা’ এবং অর্জুন বিশ্বাস, অরুনিমা আহমেদ প্রথমাসহ একাধিক শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।

কথক আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সম্মেলক আবৃত্তি ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সংগীতের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচি শেষ হয়।