১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সব গণহত্যার শহীদদের স্মরণে ‘লালযাত্রা’ মঙ্গলবার

“এই হেঁটে যাওয়াটা হচ্ছে সেই যুদ্ধের নয় মাসকে অতিক্রম করার মতো,” ভাষ্য রাহুল আনন্দের।

সব গণহত্যার শহীদদের স্মরণে ‘লালযাত্রা’ মঙ্গলবার
ছবি: মাহমুদ জামান অভি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Mar 2025, 02:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:20 PM

কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ‘লালযাত্রা’ আয়োজন করছে নাট্য সংগঠন প্রাচ্যনাট।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতে হাত মিলিয়ে, কণ্ঠে দেশের গান তুলে এ আয়োজনে অংশ নেবেন নাট্যকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ক্যাম্পাসের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর থেকে ফুলার রোডের স্মৃতি চিরন্তন চত্বর পর্যন্ত এ যাত্রা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাচ্যনাটের পরিচালক (হেড অব ক্রিয়েটিভ) আজাদ আবুল কালাম।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একাত্তরের ২৫ মার্চ সেই কালরাতের শহীদদের স্মরণে আমরা ‘লালযাত্রা’ আয়োজন করি। এর মধ্য দিয়ে আমরা আসলে সকল গণহত্যার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানাই।

“রক্তপথ- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে সাম্প্রতিক জুলাই গণহত্যা এবং প্যালেস্টাইনের গণহত্যার সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে এবারের ‘লালযাত্রায়।”

২০১১ সাল থেকে রাহুল আনন্দের ভাবনা ও পরিকল্পনায় প্রাচ্যনাট ‘লালযাত্রা’র সূচনা করেছিল। 

‘লালযাত্রা’ ভাবনা কীভাবে এসেছিল, এ প্রশ্নের উত্তরে রাহুল বছর দুয়েক আগে বলেছিলেন, “লালযাত্রার ভাবনাটি আমার মাথায় আসছিল প্রাচ্যনাট স্কুলে ক্লাস নিতে গিয়ে। তখন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় একটা পারফরমেন্স করার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছিল প্রাচ্যনাট। 

“তখন ভাবলাম, আমরা সবসময় দেখি একদিকে সবাই অভিনয় করে, আরেকদিকে দর্শকরা বসে থাকে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল একটা পারফরম্যান্স করব- যে পারফরম্যান্সটা চলমান। এই যে চলে যাচ্ছে। চলমান লোকজনই দেখবে। পারফরম্যান্সটা হেঁটে যাচ্ছে।”

সংগীতশিল্পী রাহুল বলেছিলেন, “জাস্ট শান্তিপূর্ণভাবে গান গাইতে গাইতে একটা জায়গা থেকে আরেকটা জায়গায় হেঁটে যাওয়া। 

“এই হেঁটে যাওয়াটা হচ্ছে সেই যুদ্ধের নয় মাসকে অতিক্রম করার মতো। এরপরই আমরা লালযাত্রা করি।”

লালযাত্রা এখন কেবল প্রাচ্যনাটের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। অন্যান্য সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষও যুক্ত হচ্ছে লালযাত্রায়। প্রতিবছরই লালযাত্রায় একজন মায়ের চরিত্র দেখা যায়।

এবার সেই চরিত্রে দেখা যাবে প্রাচ্যনাটের অভিনয়শিল্পী পারভীন পারুকে। 

মায়ের চরিত্রটি কী বার্তা দেয়? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, “আমরা সবাই তো মায়ের আঁচল ধরে হেঁটে হেঁটেই বড় হই। 

“লালযাত্রায়ও আমরা মায়ের রক্তরাঙা লাল শাড়ির আঁচল ধরে হাঁটি, কণ্ঠে থাকে দেশের গান। এটা একটা রূপকের মত।”

শহীদের রক্তের পথ ধরে লালযাত্রা

প্রাচ্যনাটের 'লালযাত্রায়গণহত্যার প্রতিবাদ

হাতে হাত রেখে 'লালযাত্রা'য় কালরাত স্মরণ

প্রাচ্যনাটের 'লালযাত্রা'

'লালযাত্রা'