অশ্লীলতা মানুষের শরীরে থাকে না: জিনাত আমান

চার দশক আগের সত্যম শিবম সুন্দরম সিনেমার স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন এই বলিউড তারকা।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Feb 2023, 05:21 PM
Updated : 16 Feb 2023, 05:21 PM

ব্লাউজবিহীন, সাদা শাড়িতে ঝর্ণার জলে স্নান- গত শতকের সত্তরের দশকে সত্যম শিবম সুন্দরম সিনেমায় এমন দৃশ্যে আসা জিনাত আমানকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল।

১৯৭৮ সালে সেই সিনেমা মুক্তির পর বলিউডে ‘সেক্স সিম্বল’ তকমাটি জিনাত আমানের গায়ে সেঁটে গিয়েছিল। সিনেমাটির পরিচালক ছিলেন বলিউড কিংবদন্তি রাজ কাপুর, তাকে সমালোচনা শুনতে হয়েছিল, এমনকি দেব আনন্দের মতো অভিনেতার কাছ থেকেও।

তারপর চার দশকের বেশি সময় গড়িয়েছে, হালের নায়িকাদের মতো ইনস্টাগ্রামে এসেছেন ৭১ বছর পেরিয়ে আসা জিনাত আমান। এই সোশাল মিডিয়া প্ল্যটফর্মে যাত্রা শুরুর পর এপর্যন্ত মোট ছয়টি পোস্ট দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি সেই সত্যম শিবম সুন্দরম নিয়ে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ষষ্ঠ পোস্টটিতে এই অভিনেত্রী ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এ লুক টেস্ট থেকে একটি সাদা কালো ছবি শেয়ার করেছেন; সঙ্গে ক্যাপশন লিখেছেন-“অশ্লীলতা মানুষের শরীরে থাকে না।”

ছবির পেছনের কিছু গল্পও ক্যাপশনে উল্লেখ করেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’এ গ্রাম্য চরিত্রে দর্শক তাকে গ্রহণ করবে কি না, তা মূল্যায়ন করতেই ছবিটি তোলা হয়েছিল। কেননা এর আগেই সিনেমা ‘ডন’-এ রোমা এবং ইয়াদো কি বারাত-এ সুনিতার মতো শহুরে নারীর চরিত্রে দর্শক তাকে লুফে নিয়েছিল।

“ছবিটি ফটোগ্রাফার জে পি সিংঘাল তুলেছিলেন। আর কে স্টুডিওতে শুটিং করেছিলাম আমরা। আমার পোশাকগুলোর ডিজাইন করেছিলেন অস্কারজয়ী ভানু আথাইয়া।”

জিনাতের ভাষ্যে, রাজ কাপুর সিনেমাটিতে শশী কাপুরের বিপরীতে তাকে নির্বাচন করেছিলেন ঠিকই, তবে তার পশ্চিমা ধাঁচের ইমেজ নিয়ে সংশয়ীও ছিলেন। তাই এই লুক টেস্ট করা হয়েছিল।

‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ সিনেমায় যৌনতা এবং নারীদেহ খোলামেলা প্রকাশের জন্য বিতর্ক আদালতেও গড়িয়েছিল। তবে মুক্তির আগেই সিনেমাটির বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

জিনাত আমান বলেন, অশ্লীলতার সেই অভিযোগ তাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল, কারণ তিনি তো কেবল পরিচালকের নির্দেশনা মেনেই কাজ করেছিলেন।

“বলিউডের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত যে কেউ জানতে পারবেন, সত্যম শিবম সুন্দরমে আমার চরিত্র রূপা নিয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। অশ্লীলতার অভিযোগ আমাকে বরাবরই আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যদিও মানবদেহে অশ্লীলতা বলে কিছু পাইনি আমি। আমি কাজের অংশ হিসাবেই নিজেকে মেলে ধরতাম। আর রূপার যৌনতার উপস্থাপন সিনেমার গল্পের মূল বিষয় ছিল না, বরং একটি অংশ ছিল মাত্র।”

১৯৭০ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সেরা হয়ে ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনালে’ মুকুট জয়ের পর সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন জিনাত আমান। তারপর মডেলিং থেকে নেমেছিলেন সিনেমায়।

অল্প সময়েই বলিউডে শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি; অভিনয় করেন দেব আনন্দ, অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, বিনোদ খান্নাসহ তার সময়ের সেরা সব নায়কের সঙ্গে।

তবে ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় বিয়ের পর অভিনয় থেকে সরে যান জিনাত আমান।