Published : 01 Jun 2025, 01:11 AM
দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ বা আড়াই কোটি প্রতিবন্ধী মানুষকে সমাজ অন্ধকারে ‘লুকিয়ে রেখেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন লেখক সাবরিনা সুলতানা।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে নিজের লেখা 'শেকলবন্দি স্বাধীনতা' বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে এ কথা বলেন তিনি।
ইউপিএল ও কৃষ্টি ট্রাস্টের যৌথ প্রকাশনা উৎসবে সাবরিনা বলেন, "আমাদের চাকরি, কর্মসংস্থান, আত্মমর্যাদার জায়গায় অধিকারভিত্তিক অ্যাপ্রোচ আমাদের দেশে আসেনি। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে প্রতিবন্ধী মানুষের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।"
বিকালে ঝুমবৃষ্টির মাঝে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। লেখককে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন ইউপিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন।
বাংলাদেশের কোনো কাঠামো থেকে শুরু করে কোনো পরিকল্পনা বা পলিসি যে সকল মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে নির্মাণ করা হয় না, সেটি উল্লেখ করে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন ও অবকাঠামোয় প্রতিবন্ধীদের কথা বিবেচনায় না নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবির।
তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় প্রতিবন্ধী মানুষের মঞ্চে ওঠার ব্যবস্থা না থাকা থেকে ধরে নেওয়া যায় যে প্রতিবন্ধী মানুষ মঞ্চে উপবিষ্ট হবেন না।
"আড়াই কোটি মানুষের অধিকার নিয়ে কেউ যে কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না, সেটা নিয়ে অপরাধবোধ জাগানোর মতো একটা বই 'শেকলবন্দি স্বাধীনতা'।”

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, "ভণিতা ও প্রতারণার রাজনীতি ও অর্থনীতি এখনো অব্যাহত আছে। জনগণের প্রয়োজনে কিছু চাইলেই আমরা দেখি টাকা নাই। সরকারি আমলাদের ভর্তুকি, বিদেশ সফর, ঋণ সবকিছুর জন্যই টাকা আছে, শুধু মানুষের জন্য টাকা নাই।”
মানুষকে এবং প্রাণ-প্রকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাষ্ট্র ও সমাজের হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, "রাজনীতি বা সমাজ চিন্তার মধ্যে এ বিষয়টি আনতে হবে। এটা শুধু ব্যক্তির বিষয় না, জাতির বিষয়। রাষ্ট্রের একটা বড় অংশকে অবহেলা করে অপমান করে একটা জাতি কখনো বড় হতে পারে না।
“শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবার, কর্মসংস্থান সব জায়গাতেই যেন প্রতিবন্ধীদের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত হয়, সেজন্য আমাদের সবার কাজ করতে হবে।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, “প্রতিবন্ধীদের নিয়ে প্রবলভাবে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা আছে, স্টিগমা আছে- এটাও লেখক বইয়ে আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন।
“এই স্টিগমার কারণে প্রতিবন্ধী মানুষেরা প্রতি মুহূর্তে মানসিক টারময়েলের মধ্য দিয়ে যান, এতে দেখা যায়, সামাজিকভাবে আমরা কতখানি এমপ্যাথিহীন। আমরা তাদের কথা ভাবতে কতখানি অসুবিধা বোধ করি, সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়।”

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, "সাবরিনা তার লেখায় তুলে ধরেছেন, প্রতিবন্ধীতা নিয়ে কাজের অ্যাপ্রোচটা এখনো কল্যাণমূলক। এখানে তাদের অধিকারের স্বীকৃতি নাই, কেবল সক্ষমতার কথা, উপকরণ বৃদ্ধির কথাই বলা হয়। কারো জীবনমানের উন্নতি ঘটে না।”
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুবা বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন আমাদের মনে আশা জাগিয়েছিল; ভেবেছিলাম কিছু পরিবর্তন আসবে। অথচ প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে বৈষম্য তো যায়ইনি, বরং প্রতিবন্ধীরা আন্দোলনের পর থেকে আরও অধিকারবঞ্চিত হচ্ছেন।"
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মীর মোশাররফ হোসেন।