Published : 08 May 2026, 11:31 AM
কিংবদন্তির ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরোর জন্মশতবির্ষিকী শুক্রবার। সাত দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন চ্যানেল ও প্ল্যাটফর্মের হয়ে অসংখ্য তথ্যচিত্রে প্রকৃতিকে মানুষের কাছে নিয়ে আসার কাজ করেছেন তিনি।
অ্যাটেনবরো নির্মিত ‘লাইফ অন আর্থ’-এর মত প্রকৃতি ও জীবজগতের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রগুলো রুয়ান্ডার পাহাড়ি গরিলার মত প্রাকৃতিক বিস্ময়কে মানুষের লিভিংরুমে এনে দিয়েছে।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষণা প্রধান স্যান্ড্রা ন্যাপ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমরা যেসব জায়গাতে যাবো না, সে জায়গাগুলোতে তিনি আমাদের নিয়ে গেছেন। এটা দারুণ একটা উপহার।”

বিবিসি তার জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে পুরো সপ্তাহ জুড়ে তার জীবনের ওপর নির্মিত বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। অ্যাটেনবরোর ‘প্ল্যানেট আর্থ টু’, ‘ব্লু প্ল্যানেট টু’, ‘লাইফ ইন দ্য ফ্রিজার’ ও ‘প্যারাডাইজ বার্ডস’ সিরিজের জনপ্রিয় কিছু পর্ব পুনঃপ্রচার করছে বিবিসি।
এএফপি জানিয়েছে, বিবিসির আয়োজনের মূল আকর্ষণ থাকছে, তার জন্মদিন উপলক্ষে রয়্যাল অ্যালবার্ট হল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ৯০ মিনিটের একটি অনুষ্ঠান।
স্যান্ড্রা ন্যাপ আরও বলেন, অ্যাটেনবরোর অনুষ্ঠানগুলো ‘মানুষের দৃষ্টিসীমার পরিধি বিস্তৃত করেছে’ আর তিনি অনেকের জন্যই এখন ‘অনুপ্রেরণা’।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সায়েন্স কমিউনিকেশনের অধ্যাপক জিন-ব্যাপটিস্ট গুয়োনের মতে, অ্যাটেনবরো প্রাকৃতিক ইতিহাসকে ফুটবলের মত জনপ্রিয় করে তুলেছেন।
তিনি বলেন, “অ্যাটেনবরোর অনুষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক বিশ্বের প্রতি অতুলনীয় আবেগ ও বিস্ময় জাগিয়ে তুলতে সফল হয়েছে।”
১৯২৬ সালের ৮ মে, মিডলসেক্সের আইজলওয়ার্থে জন্ম নেওয়া ডেভিড অ্যাটেনবরো শৈশবকাল থেকেই প্রকৃতি ভালোবাসতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভূগোল ও প্রাণিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন।
১৯৫০ এর দশকের শুরুর দিকে বিবিসিতে যোগ দেন। প্রায় আট দশক তিনি সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত।

তথ্যচিত্র ‘লাইফ অন আর্থ’ ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাবার পর প্রায় ৫০ কোটি দর্শক এটি দেখেছেন। এমন অসংখ্য তথ্যচিত্র ও বই তাকে সুপরিচিত করে তুলেছে।
‘লাইফ অন আর্থ’ নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো এএফপিকে বলেন, সিরিজটি নির্মাণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে একদল পাহাড়ি গরিলার দেখা পেয়ে যাওয়া। তার মতে ওই অভিজ্ঞতা তার জন্য ছিল ‘অত্যন্ত আনন্দের’ ও ‘অসাধারণ’।
তিনি বলেন, “আমি যেন অন্য জগতে চলে গিয়েছিলাম।”
কাজের ক্ষেত্রে অ্যাটেনবরো নিজের ভাগ্যকে অনেকটা কৃতিত্ব দেন। তার মতে, তিনি ভাগ্যবান কারণ বহির্বিশ্বের খুব কম মানুষ দেখেছেন এমন অনেক দুর্লভ প্রাণীকে খুঁজে পেয়েছেন ও তাদের ভিডিও ধারণ করতে পেরেছেন।

একশো বছরের কাছাকাছি পৌঁছেও তিনি তথ্যচিত্র নির্মাণ করে চলেছেন। তার ২০২৫ সালের তথ্যচিত্র ‘ওশান’-এ তিনি উন্নত দেশগুলোর শিল্পভিত্তিক মৎস্য শিকারের পদ্ধতির নিন্দা করেছেন। এটিকে তিনি ‘সমুদ্রে আধুনিক উপনিবেশবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন।
অ্যাটেনবরো এখন আর পৃথিবীর নানা প্রান্তে দুর্গম জঙ্গল ও মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ান না। বর্তমানে তিনি তার নিজের দেশের প্রকৃতির গল্পগুলো অবিরত বলে চলেছেন।
২০২৬ সালের শুরুতে প্রচারিত ‘ওয়াইল্ড লন্ডন’ তথ্যচিত্রে তিনি তার জন্মস্থান লন্ডনের নানা বন্যপ্রাণী দেখিয়েছেন। যার মধ্যে ছিল শিয়াল, বিভার, হেজহগ থেকে শুরু করে হার্ভেস্ট মাউস পর্যন্ত।
পুরো বিশ্ব ভ্রমণের পর তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা দক্ষিণ পশ্চিম লন্ডনের রিচমন্ড। বহু বছর ধরে এই নদী তীরবর্তী শহরে বাস করছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জনের পরও তিনি নিজেকে একজন তারকা হিসেবে দেখতে চান না। গুয়োনের মতে, অ্যাটেনবরো সবসময় দর্শকের দৃষ্টিকে মূল বিষয়বস্তুর দিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতেন।
প্রাকৃতিক বিশ্বের প্রতি হুমকি প্রসঙ্গে অ্যাটেনবরোর প্রত্যাশা মানবজাতি তার গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।