Published : 25 Oct 2025, 01:33 PM
উদ্বাস্তু তিন ফিলিস্তিনি ভাগ্যান্বেষণে স্বপ্নের কুয়েতে পাড়ি জমাতে চায়। স্বপ্নময় এক নতুন স্বচ্ছ্বল জীবনের প্রত্যাশায় তারা ছুটে চলে এক ‘পুলসিরাত’ পার হবে বলে।
প্রাচ্যনাটের ৩৫তম প্রয়োজনা ‘পুলসিরাত’ শনিবার সন্ধ্যায় ৭টায় মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়।
ফিলিস্তিনি লেখক ঘাসান কানাফানির উপন্যাস ‘ম্যান ইন দ্য সান’ থেকে অনুবাদ করেছেন মাসুমুল আলম, নাট্যরূপ দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম রুবেল। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন।
পরদিন রোববার সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়িত হবে প্রাচ্যনাটের ১৫তম প্রযোজনা ‘কিনু কাহারের থেটার’। মনোজ মিত্রের লেখা নাটকটির নির্দেশক কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন।
‘পুলসিরাত’ নাটকে দেখা যাবে-অসংখ্য ভাগ্য বিড়ম্বিত মানুষের মতোই ওরা তিনজন- আবু কায়েস, আসাদ ও মারওয়ান- নিজেদের ভাগ্যান্বেষণে ফিলিস্তিন থেকে স্বপ্নের কুয়েতে পাড়ি জমাতে চান। তিনজন বয়সে এবং প্রজন্মে আলাদা হলেও এক জায়গায় মিল-তারা সবাই বিড়ম্বিত উদ্বাস্তু।

তিনটি হতভাগ্য বিড়ম্বিত জীবন ছুটে চলে স্বপ্নময় এক নতুন স্বচ্ছ্বল জীবনের প্রত্যাশায়, ছুটে চলে এক পুলসিরাত পাড়ি দিতে!
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন আজাদ আবুল কালাম, শাহরিয়ার সজীব, মনিরুল ইসলাম রুবেল, সাইফুল ইসলাম জার্নাল, সানজিদা প্রীতি।
সেট ডিজাইন করেছেন শাহীনুর রহমান, সংগীত পরিকল্পনায় নীল কামরুল, আলোক পরিকল্পনায় বাবর খাদেম।
‘কিনু কাহারের থেটার’ নাটকে দেখা যাবে- পুতনা রাজ্যের উজির এক নারীর শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছেন। লাট সাহেব বললেন, “এর যদি বিচার না হয়, তাহলে আমি সিংহাসন ফালাইয়া দিব।”
রাজা পড়লেন মহাসংকটে। উজির তার প্রাণের দোসর, তাকে কি করে চৌদ্দ ঘা চাবুক মারতে আদেশ দেবেন তিনি? উজিরকে বুদ্ধি দিলেন, একজন লোক ঠিক করতে, যে আদালতে এসে সাক্ষ্য দেবে উজির নয়, অপকর্মটি করেছে আসলে সে, তাই সাজাও তারই প্রাপ্য।
চার থলি টাকার বিনিময়ে ঘন্টাকর্ণের বৌ জগদম্বা উজিরের হাতে তুলে দিল তার স্বামীকে। তারপর ঘন্টাকর্ণের বাড়ির দুয়ারে যত চোর, ডাকাত, দাগী আসামির লাইন, থলি থলি টাকা নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে, অপরাধ করে তারা আর সাজা ভোগ করে ‘সাজা খেকো অফিসার’ ঘন্টাকর্ণ।
জগদম্বা খুশি তার স্বামী কামাই করতে শিখেছে, রাজা খুশি ক্ষমতা টিকে যাওয়ার আনন্দে। উজির খুশি দেশে আর কোনো আইনের সংকট নেই। চারদিকে শান্তি, শান্তি, শান্তি। কিন্তু এভাবে যদি দিন যেত তাহলে তো কথাই ছিল না।

হঠাৎ একদিন রাজা ফেঁসে গেলেন ছাগল হত্যার দায়ে। লাট সাহেবের বুদ্ধির প্যাঁচে রাজার হল ফাঁসির আদেশ। রাজা বললেন, “ভয় কি, আমার তো মাস মাইনের চাকুরে ঘন্টাকর্ণ আছেই, ‘নে রে বাপ ঘন্টাকর্ণ, উঠে পর ফাঁসি কাষ্ঠে’। তারপর?”
তারপর কী হয়, তা-ই নাটকের মূল আকর্ষণ, বলছে প্রাচ্যনাট।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন, সানজিদা প্রীতি, জগন্ময় পাল, সাইফুল জার্নাল, মনিরুল ইসলাম রুবেল, মিতুল রহমান, শাহরিয়ার ফেরদৌস সজীব, রফিকুল ইসলাম, রিফাত আহমেদ নোবেল, শাহীন সাইদুর, তানজিকুন।
সেট ডিজাইন করেছেন রিঙ্কন সিকদার, সংগীত পরিকল্পনায় প্রাচ্যনাট সংগীত দল, আলোক পরিকল্পনায় আবুল হাসনাত ভুঁইয়া রিপন।