Published : 16 Mar 2026, 04:05 PM
সংগীতচিন্তক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ওয়াহিদুল হকের স্মরণে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের আয়োজনে হয়ে গেল 'দেশঘরের গান'।
সোমবার ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, "ওয়াহিদুল হকের জীবনের ব্রত ছিল কীভাবে সর্বজনে পরিপূর্ণ বাংলাদেশে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যায়, যে সমাজ হবে সৌহার্দ্যের ও প্রীতির, বিদ্বেষের নয়। আমৃত্যু এই সাধনায় তার প্রধান অবলম্বন ছিল সংগীত।"
"ওয়াহিদুল হককে বলা হত ‘গানের ফেরিওয়ালা’, যিনি সংগীত নিয়ে সারা দেশে বিচরণ করেছেন। আজকে যারা সংগীতকে আলোকিত করেছেন, তাদের অনেকের শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে এই মানুষটির অবদান অপরিসীম।"

অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জের শিল্পী অনামিকা কর মরমি ধারার তিনটি গান পরিবেশন করেন। তিনি গেয়েছেন হাছন রাজার 'একদিন তোর হইবো রে মরণ', শাহ আবদুল করিমের 'বসন্ত বাতাসে সই গো' এবং রাধারমণ দত্তের 'জলে গিয়াছিলাম সই'।
চাঁদপুরের শিল্পী মুক্তা সরকার পরিবেশন করেন রমেশ শীলের 'তরানে ওয়ালা', দূরবীন শাহের 'ডাকলে কি আর প্রাণ জুড়োবে' এবং গোষ্ঠ গোপালের 'ও জীবনরে জীবন'।
নেত্রকোণার শিল্পী বাউল সিরাজউদ্দিন পাঠান পরিবেশন করেন সিরাজ আলীর লেখা 'জানি না রে, নদীর কোন কুল বালা' এবং শিল্পীর নিজের লেখা গান 'রাধিকা তুই আমার প্রেমের মূল্য দিলি না' এবং 'খালি হাতে যাবো রে এখন'।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নেত্রকোণার দেলোয়ার হোসেন দিলু বয়াতি ও তার দল পরিবেশন করেন পালাগান। কারবালার প্রান্তরের করুণ কাহিনী অবলম্বনে পরিবেশিত এই পালাগান অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
ছায়ানটের এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসংগীত ও পালাগানের ঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণ করার পাশাপাশি ওয়াহিদুল হকের সাংস্কৃতিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে বলে আয়োজকেরা জানান।