Published : 26 Jul 2026, 12:13 PM
সন্তান, সংসার আর মঞ্চনাটকের প্রতি ‘দায়বদ্ধতা থেকে’ একসময় কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার।
একই কারণে তিনি 'সূর্য দীঘল বাড়ি' চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়তুন' হয়েও পর্দায় আসতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার বিকেলে নাট্যদল 'অনুস্বর'-এর সপ্তম বর্ষপূর্তি ঘিরে আয়োজিত ‘অনুস্বর সংলাপ’ এর চতুর্থ পর্বে মুখোমুখি হয়ে নিজের কর্মজীবন ও সংসারের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলছিলেন তিনি।
নাটকের এই সময়ের হালচাল নিয়েও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তিনি।
সত্যজিৎ সিনেমায় কাজের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে ফেরদৌসী বলেন, "তিনি (সত্যজিৎ রায়) আমাকে সিনেমায় ডেকেছিলেন, কিন্তু আমি করতে পারিনি। আমার কাছে সংসার ও সন্তান সব সময়ই অনেক বড়। তখন আমার সন্তান ত্রপা (ত্রপা মজুমদার) ছোট ছিল, থিয়েটার ও সংসারে সময় দিতে হচ্ছিল। সে কারণে তখন সূর্যদীঘল বাড়ি সিনেমাতেও অভিনয় করা হয়নি।"
সূর্য দীঘল বাড়ির 'জয়তুন' চরিত্রটির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তিনিই ডলি আনোয়ারকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কাজের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া নিয়ে এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, "এখন ভাবলে হয়তো কিছুটা আক্ষেপ হয়, তবে সংসার ও সন্তানের দিক থেকে চিন্তা করলে মনে হয় সে সময় যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম, তা ঠিকই ছিল।"
নাটকের বর্তমান সময় ও সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, "নাটকে আশা থাকতে হয়, শুধু হতাশা থাকলে চলে না। নাটকে পাণ্ডুলিপি ভীষণ জোরদার হতে হয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের ভালো লেখকের সংকট তৈরি হয়েছে।"
অভিনয় শিল্পীদের খ্যাতি বা পাওয়ার আশায় থিয়েটার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
"তারকা হব, খ্যাতি হবে এসব চিন্তা থেকে নয়, থিয়েটার করতে হয় ভালোবাসা থেকে। মঞ্চে সরাসরি দর্শকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, এটিই থিয়েটারের বড় প্রাপ্তি।"
অনুষ্ঠানে তিনি তার অভিনীত দর্শকপ্রিয় নাটক 'কোকিলারা', 'মেরাজ ফকিরের মা' এবং 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' এর প্রিয় কিছু সংলাপ পাঠ করে শোনান।
নিজের প্রিয় কাজ নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, "কোকিলারা আমার সবচাইতে প্রিয় নাটক, এই নাটকে আমাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। এছাড়া সৈয়দ শামসুল হক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের মত শক্তিশালী লেখকদের পাণ্ডুলিপিতে অভিনয় করতে পারাটা আমার বড় সৌভাগ্য।"
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে ‘সংসপ্তক’ ও সুবর্ণা মুস্তফার সঙ্গে ‘বরফগলা নদী’ নাটকের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।
হুমায়ূন ফরীদির সৌজন্যবোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সেটে জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের প্রতি ফরীদির সম্মান প্রদর্শন ছিল ‘অসাধারণ’।
অনুস্বরের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বারীর সঞ্চালনায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংলাপে ফেরদৌসী মজুমদারের জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন ফরিদা লিমা। তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রশান্ত হালদার। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সাইফ সুমন।