Published : 30 Apr 2026, 02:54 PM
বলিউডের প্রভাবশালী পরিবার কাপুর পরিবারের ছেলে রাণবীর কাপুর যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরেন, তখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু বাবা ঋষি কাপুরের শাসন থেকে তখনো মুক্তি মেলেনি তার।
ঋষি কাপুরের ভাষ্যে, তিনি তার ছেলের সঙ্গে কখনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হতে দেননি।
মুম্বাইয়ে ফিরে রাণবীর পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন। এই নায়ক ‘ব্ল্যাক’ সিনেমায় বানসালির সহ-পরিচালকের কাজও করেছেন। সেই সময়ে ছেলের কাছ থেকে তার গাড়িটি নিয়ে নেন ঋষি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের মত চলাফেরা করার অভ্যাস হোক রাণবীরের।
এছাড়া একটা সময়ে ছেলেকে হাতখরচ দেওয়াও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন ঋষি। রাণবীর যাতে নিজে থেকে অর্থ উপার্জন করার তাগিদ খুঁজে পায়, সেই ব্যবস্থাই করেছিলেন তিনি। এমনকি চলচ্চিত্রদুনিয়ায় অভিনয়ে পা রাখার পরেও ছেলেকে শাসন করার মানসিকতার কোনো পরিবর্তন আনেননি ঋষি।
ঋষি কাপুর এই পৃথিবী ছেড়েছেন ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল। তার পুরো নাম ঋষি রাজ কাপুর; তবে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি ঋষি কাপুর নামে পরিচিত পান। আশির দশকের ‘হার্ট থ্রব’ এই নায়ক, যেমন রোমান্টিক চরিত্র, তেমনি কমেডি কিংবা অ্যাংরি ইয়াং ম্যানের চরিত্রেও মানিয়ে যেতেন। বহু মাত্রিক অভিনয়ের সার্থক অভিনেতা বলা হয় ঋষি কাপুরকে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই নায়ক খল চরিত্রে অভিনয় করেও পুরস্কার জিতেছেন।

কেবল অভিনয়ই নয়, প্রযোজক ও পরিচালকও ছিলেন ঋষি কাপুর। জীবনসঙ্গী নিতু কাপুরও ছিলেন বড় পর্দার তারকা। মেয়ে ঋদ্ধিমা কাপুর ফ্যাশন ডিজাইনার। ছেলে রাণবীর কাপুর খানদানের পারিবারিক পেশা অনুসরণ করে হয়েছেন বলিউড তারকা।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, প্রয়াত অভিনেতা ঋষি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, রাণবীরের সঙ্গে তিনি বন্ধুত্বের পরিবর্তে পিতা-পুত্র সম্পর্কই বজায় রাখতে চেয়েছিলেন।
ঋষির কথায় বাবা-ছেলের সম্পর্কের রসায়নটা ছিল অন্য রকম। ভালোবাসা, আবেগ, সম্মান, বিশ্বাস সবকিছু নিয়ে ভরপুর ছিল। তবুও এক অদৃশ্য প্রাচীর তোলা ছিল সম্পর্কের মধ্যে।
ঋষি বলেছিলেন, “আমি সব দিক বিবেচনা করেই আমার ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করিনি। হতেই পারে আমাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য কাচের দেওয়াল রয়েছে।”
এছাড়া ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়ে দেশ থেকে তার জন্য প্রচুর টাকাও তিনি পাঠাননি বলে জানিয়েছিলেন ঋষি।
“আমি চেয়েছিলাম সাধারণভাবে ও বড় হোক। কারণ সেখানে আমার ছেলেকে পাঠিয়েছি লেখাপড়া করার জন্য। তাই সীমিত টাকা পাঠাতাম। যাতে ও চলাফেরা ও খাওয়াদাওয়া কোনো কিছুতেই বিলাসী না হয়ে পড়ে।”

বলিউডে ছেলে যখন পা রাখে, তখন কিছু পরামর্শ দেন ঋষি।
তিনি বলেছিলেন, “আমি আমার ছেলেবে সব সময় বলি যে সফলতাকে কখনো মাথায় চড়তে দিয়ো না। আর অসফলতাকে হৃদয়ে নিয়ো না। আর এটাই বলিউডে টিকে থাকার মন্ত্র।”
রাণবীরের আক্ষেপ ছিল যে বাবা কখনো তার প্রশংসা করেন না। তবে সেই আক্ষেপ মিটে গিয়েছিল 'সাঞ্জু' মুক্তির পর। ঋষি জীবনে প্রথম ছেলের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন রাণবীর।
'সাঞ্জু' সিনেমা সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক। সেখানে সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে রূপদান করেন রাণবীর।