Published : 29 Apr 2026, 05:11 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী নিজের দলের জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।
ক্ষমতাসীন বিজেপির হয়ে গত দেড়-দুইমাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালিয়েছেন মিঠুন। বুধবার ভোট দিয়ে অভিনেতা বলেছেন, ভোট গ্রহণ ‘সুষ্ঠু হচ্ছে’।
প্রথম দফার এক সপ্তাহ পর বুধবার দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মোট সাতটি জেলায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার নির্ধারিত হচ্ছে ১৪২ আসনের ভবিষ্যৎ।
এর আগে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের ভোট হয়।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, এবার রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় ভোট হচ্ছে। এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া ও নদিয়ায় ভোট হচ্ছে।
কালো রোদচশমা, কালো পাঞ্জাবি, মাথায় কালো টুপি, গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে কলকাতায় ভোট দেন মিঠুন। কোনো বিশেষ সুবিধা না নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন তিনি।
ভোট দিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘‘আর পাঁচটা সাধারণ নাগরিকের মতই ভোট দিলাম। কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধার আর্জি কখনও করিনি। এমন সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন করানোর জন্য আমি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাব। প্রথম দফায় প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এই দফাতেও, আশা করছি, তেমনই ভোট পড়বে। এত ভোট পড়লে বুঝে নিন, কী হতে চলেছে!’’
মিঠুন বিজেপিতে যোগ দেন ২০২১ সালে। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন তিনি।
এই রাজ্যেই আরও ভোট দিয়েছেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, জিৎ, আবীর চট্টোপাধ্যায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, রাজ চক্রবর্তী, কোয়েল মল্লিক-সহ আরো অনেক অভিনয় শিল্পী।
ভোট দিতে পারলেন না চিরঞ্জিৎ

কেন্দ্রে গিয়েও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোট দিতে পারেননি অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। তার কেন্দ্রের ইভিএম মেশিন খারাপ হয়ে যাওয়ার ভোট দেওয়া হয়নি অভিনেতার।
ইভিএম ত্রুটি নিয়ে অভিনেতা বলেন, “ভোট দেওয়া তো আমার দায়িত্ব। আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। দেশ তো আমাকে উদ্ধার করতে হবে। আর আমি তো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। কিছুটা ধারণা আছে। যান্ত্রিক গোলযোগ হলে একটু তো সময় লাগবেই।”
ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পরপর তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন চিরঞ্জিৎ। এই বছর আর নির্বাচনে দাঁড়াননি এই অভিনেতা।
দ্বিতীয় দফার এই ভোট গ্রহণ চলবে সন্ধ্যা স্থানীয় সময় ৬টা পর্যন্ত। ভোট গণনার দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ মে। ৫ মে ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ‘রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে একটি মরিয়া লড়াই’ বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
২০১১ সালে সিপিএমের ৩৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে ভারতীয় কংগ্রেসের দলছুট অংশটি। অনেকে বলছেন, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারই সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
তবে এই দুই দলের তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।