Published : 12 May 2026, 08:03 PM
জীবনভর মঞ্চ আর অভিনয়ের ব্যস্ততায় কাটানো অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক আতাউর রহমানের শেষ দিনগুলো কতটা নিঃসঙ্গতায় কেটেছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার শেষ শ্রদ্ধার অনুষ্ঠানে এসে সে কথা বললেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।
তিনি বলেন, “আমার খুব কষ্ট লাগছে যে বাবা আসলে দেখতেই পেলেন না যে কতজন তাকে ভালোবাসে, তিনি বোধহয় একটা ভুল ধারণা নিয়ে গেলেন যে মানুষ তাকে ভালোবাসে নাই। আমি এবং আমার মা প্রতিদিন উনার কাছ থেকে এই কথাটা শুনতাম–কেউ কাছে আসে না, কেউ তাকে ভালোবাসে না।”
শেষ বিদায়ে সবাই আসায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শর্মিষ্ঠা বলেন, “একটু আগে সারা আন্টি (সারা যাকের) বলছিলেন, এই বয়সটা খুব একাকীত্বের বয়স। বাবার বন্ধুরা শেষের দিকে আর পাশে থাকতে পারেননি। এটা তার জন্য খুব কষ্টের ছিল।”
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আতাউর রহমান। স্বাধীনতা ও একুশে পদক পাওয়া এই অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর৷
অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলছিলেন, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শুক্রবার আতাউর রহমানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে।

শেষ কয়েক মাস বাবার খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ হয়েছিল জানিয়ে শর্মিষ্ঠা বলেন, “সেজন্য আমি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি যে বাবা থিয়েটারকে খুব মিস করছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে কাজ করতে পারছিলেন না।”
সমবয়সী ও কাছাকাছি বয়সী বন্ধুদের উদ্দেশে শর্মিষ্ঠা বলেন, “আপনারা একে অপরকে একটু সময় দেবেন, একসাথে থাকবেন। আমাদের একজনকে একজনের খুব প্রয়োজন। আমরা যদি একসাথে না থাকি, হাতে হাত না ধরি, তাহলে আমার বাবার মত একাকী হয়ে চলে যেতে হবে।”
বক্তব্যের শেষে বাবার পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন আতাউর রহমানের মেয়ে।
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকটি মাধ্যমে কাজ করেছেন আতাউর রহমান। অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চে নির্দেশনা করেছেন। লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাপরবর্তী মঞ্চনাটক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মঞ্চনাটকে অবদানের জন্য তিনি ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে পান স্বাধীনতা পুরস্কার।
পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন আতাউর রহমান।