Published : 17 Feb 2026, 12:43 PM
বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'দ্য গডফাদার' এবং 'অ্যাপোক্যালিপস নাউ'-তে অভিনয় করা কিংবদন্তি অভিনেতা রবার্ট ডুভাল আর নেই।
৯৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন বলে লিখেছে বিবিসি; গত রোববার ভার্জিনিয়ার মিডলবার্গে নিজ বাসভবনে 'শান্তিতে' তিনি মারা গেছেন।
অভিনেতার স্ত্রী লুসিয়ানার পক্ষ থেকে তার জনসংযোগ সংস্থার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
লুসিয়ানার কথায় পুরো বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন একজন অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী অভিনেতা, একজন পরিচালক এবং একজন গল্পকার।
"কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন আমার সবকিছু। অভিনয়ের প্রতি তার যে গভীর নেশা ছিল, তা কেবল চরিত্রের প্রতি তার ভালোবাসা, ভালো খাবার এবং আড্ডার মাধ্যমে সবার মনোযোগের কেন্দ্রে থাকার ক্ষমতার সঙ্গেই কেবল তুলনা করা যায়।'
'গডফাদার' সিনেমার সহ-অভিনেতা আল পাচিনো ডুভালের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে কাজ করা তার জন্য একটি 'সম্মান' ছিল।
আল পাচিনো আরও বলেন, "সবাই যেমন বলে, তিনি ছিলেন একজন জন্মগত অভিনেতা; অভিনয়ের সাথে তার আত্মিক টান, তার প্রজ্ঞা এবং অসাধারণ প্রতিভা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এসব কথায় আমি একমদ। তবে আমার কথা হল, আমি তাকে খুব মিস করব।"

ছয় দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছিলেন ডুভাল। তিনি'টাফ-গাই' বা কঠোর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ‘দ্য গডফাদার’ এবং ‘দ্য গডফাদার পার্ট ২’ এ মাফিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত আইনি উপদেষ্টা হিসেবে তার অভিনয় স্মরণীয়।
তিনি কপোলার ভিয়েতনাম যুদ্ধভিত্তিক মহাকাব্যিক সিনেমা ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’-তেও একজন শক্তিশালী সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া সেই ধ্রুপদী সিনেমায় পর্দায় তার উপস্থিতি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের: তার কিন্তু তার সেই বিখ্যাত সংলাপ—'আমি সকালে ন্যাপামের গন্ধ ভালোবাসি' তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছিল।
‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ সিনেমায় ডুভালের চরিত্রটি মূলত আরও বেশি উগ্র ও কঠোর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ডুভাল সেটিকে কিছুটা নমনীয় করে তোলেন।
২০১৫ সালে টক শো হোস্ট ল্যারি কিং-কে ডুভাল বলেছিলেন, “আমি আমার হোমওয়ার্ক করতাম। আমি (চরিত্রটি নিয়ে) ব্যাপক গবেষণা করতাম।”
পরিচালক কপোলা ডুভালের এই প্রয়াণকে চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি বড় 'আঘাত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে কপোলা তার প্রযোজনা সংস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “ডুভালের ছিলেন একজন মহান অভিনেতা এবং শুরু থেকেই আমেরিকান জোয়েট্রোপ-এর এক অপরিহার্য অংশ।”
ডুভাল কেবল অভিনেতাই ছিলেন না। তিনি ‘দ্য অ্যাপোস্টল’ এবং ‘অ্যাসাসিনেশন ট্যাঙ্গো’-এর মত চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন।
১৯৯০ সালে ‘দ্য গডফাদার পার্ট থ্রি’-তে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কেবল পারিশ্রমিকের বৈষম্যের কারণে সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি।
ডুভালের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সতীর্থরা।
মার্কিন কৌতুক অভিনেতা ও অভিনেতা অ্যাডাম স্যান্ডলার ২০২২ সালের চলচ্চিত্র 'হাসল' শুটিংয়ের সময়কার তাদের দুজনের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন সোশার মিডিয়ায়।
অ্যাডাম স্যান্ডলার লিখেছেন, “অত্যন্ত রসিক মানুষ ছিলেন ডুভাল, দৃঢ়চেতা ছিলেন। আমাদের দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। এমন একজন মহান মানুষ যার সাথে কথা বলে এবং হেসে সময় কাটানো তার স্ত্রী লুসিয়ানা এবং তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি।”
অস্কার বিজয়ী জেমি লি-কার্টিসও 'দ্য গডফাদার'-এ টম হ্যাগেন চরিত্রে ডুভালের একটি ছবিসহ ইনস্টাগ্রামে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
তিনি লেখেন, “পর্দায় দেখা এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ কনসিলিয়েরি (পরামর্শদাতা)। সাবাস, রবার্ট ডুভাল।”

২০১৩ সালের চলচ্চিত্র 'জেন ম্যানসফিল্ডস কার'-এ ডুভালের চরিত্রের ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করা সহ-অভিনেতা রবার্ট প্যাট্রিক বলেছেন তিনি এই মৃত্যুর খবরে 'মর্মাহত'।
তিনি বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমি ববিকে (ডুভাল) ফোন করতাম এবং আমরা সিনেমা আর বারবিকিউ নিয়ে কথা বলতাম। তিনি বারবিকিউ খুব পছন্দ করতেন এবং টেক্সাসের লকহার্টে যখনই আমি এটি খেতাম, তাকে সবসময় জানাতাম। আমি ববিকে খুব মিস করব।”
ডুভালের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে না।
তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা ডুভালেরকোনো ভালো সিনেমা দেখেন অথবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় অভিনেতাকে নিয়ে সুন্দর কোনো গল্প করেন।