রাজকে করেছি ক্ষমা, সন্তানের দায়িত্ব আমার: পরীমনি

“আমি তাকে অফিসিয়ালি ডিভোর্স দিয়েছি; খুবই স্বাভাবিক ওয়েতে,” বলছেন তিনি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2024, 08:13 PM
Updated : 22 Jan 2024, 08:13 PM

রাজ-পরীর বিয়ে বিচ্ছেদের খবর দিনভর ছিল আলোচনায়, তবে চিত্রনায়িকা ছিলেন নীরব। রাতে নীরবতা ভাঙলেন তিনি; জানালেন, খবর সত্যই; সেই সঙ্গে এটাও বললেন, একমাত্র সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তিনি একাই সামলাবেন।

বুধবার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে পরীমনি লিখেছেন, “আমি তাকে অফিসিয়ালি ডিভোর্স দিয়েছি। খুবই স্বাভাবিক ওয়েতে। এটাও তাকে আমার এক প্রকার ক্ষমা করে দেওয়া। না হয় আমার সাথে যে অন্যায়গুলো করেছে, তাতে তার জেল হওয়ার কথা।”

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে রাজকে বিচ্ছেদপত্র পাঠান পরীমনি, এমনটাই খবর চাউর হয় বুধবার সকালে। ‘ডিভোর্স লেটারে’ চারটি কারণ উল্লেখ করেন পরীমনি, যেখানে বলা হয়েছে- মনের অমিল হওয়া, বনিবনা না হওয়া, খোঁজ খবর না নেওয়া এবং মানসিক অশান্তি।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ডিভোর্স লেটার পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয় না। তালাক দিতে চাইলে একজন ব্যক্তিকে তিন দফায় আইনি পত্র পাঠাতে হয়। প্রতি ৩০ দিনের ব্যবধানে একেকটি চিঠি পাঠাতে হয়। ৯০ দিনের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে তালাক কার্যকর হয়।

সব কটি দফায় স্বামী বা স্ত্রী যাকে সেটি পাঠানো হবে, তার ঠিকানার সাথে স্বামী বা স্ত্রী যে এলাকায় বসবাস করেন সেখানকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশন মেয়র বা কাউন্সিলরকে লিখিতভাবে তালাকের নোটিসের কপি পাঠাতে হয়। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশন মেয়র বা কাউন্সিলর দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসতে পারেন।

বুধবার সকালে খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ জানিয়েছেন, তিনি ডিভোর্সের কোনো চিঠি পাননি।

বিয়েবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সন্তানের ভরণপোষণ নিজেই বহন করবেন বলে জানান পরীমনি। তিনি বলেন, “আমার ছেলের যাবতীয় খরচ, মানে ভরণপোষণ থেকে আগামীতে পড়াশোনা যা কিছু আছে সব আমি বহন করব। এতদিন যেভাবে করেছি। বাচ্চার ফুল গার্ডিয়ানশিপ এখন তার মা’র। এ বিষয়ে যা কিছু বলার আমার আইনজীবীরা বলবেন।”

নড়াইলের মেয়ে শামসুন্নাহার স্মৃতি পরীমনি নাম নিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েই তারকা বনে গিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে প্রথম সিনেমা ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ মুক্তির আগেই অন্তত ২০টি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তোলেন আলোড়ন। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত গুণিন সিনেমার শুটিংয়ে প্রেম ও প্রণয় পরী–রাজ জুটির।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে পরীমনির সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর জানানোর সঙ্গে তার সঙ্গে বিয়ের খবরটিও জানিয়েছিলেন অভিনেতা শরিফুল রাজ। পরীমনিও সে সময় জানান, তিনি মা হতে চলেছেন। সন্তানের বাবা অভিনেতা শরিফুল রাজ। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর পারিবারিক আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়। ২০২২ সালের ১০ অগাস্ট তাদের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।

এরপর কিছু বিষয়ে রাজ-পরীর মন কষাকষি হলেও তারা মিলেও গিয়েছিলেন। তবে কয়েক মাস আগে রাজের ফেইসবুক আইডি থেকে কয়েক চিত্রনায়িকার কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ হলে তা তাদের সংসারে ঝড় তোলে। রাজ বাড়ি ছাড়েন। তার ধারাবাহিকতায় বিচ্ছেদের পত্র পাঠালেন পরীমনি।  

বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়ে পরীমনি লিখেছেন, “একই রকম ভুলের ক্ষমা কতবার করা যায়, আমি জানি না। আমি শুধু সব ভুলে সুন্দর স্বাভাবিক একটা পারিবারিক সম্পর্ক চেয়েছিলাম। কিন্তু সে কখনোই এই সম্পর্কটাকে ওউন করেনি। সবার সামনে আমার বৌ, আমার বাচ্চা করে বেড়ানো ভয়ংকর মানুষ একজন! যে কিনা এই সম্পর্কটাকে শুধু নিজের স্বার্থে ইউজই করে গেল প্রতিনিয়ত। আমি এমন ভয়ংকর একজন মানুষকে বার বার সুযোগ দিয়েছি। সেও সুযোগ পেত, কারণ আইনগতভাবে তার সাথে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। এসবে বারবার আমি অসন্মানিত হয়েছি।”

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)