Published : 05 May 2026, 11:58 PM
পপ কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের সবচেয়ে সফল অ্যালবাম ‘থ্রিলার’। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়ার পর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ও মিউজিক ভিডিও শিল্পের ইতিহাস পালটে ফেলেছিল আইকনিক এই অ্যালবামটি।
থ্রিলার এর টাইটেল ট্র্যাকটি অ্যালবামের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের একটি। অথচ, গানটিকে অ্যালবামে রাখার কোনো পরিকল্পনাই নাকি ছিল না মাইকেল জ্যাকসন ও প্রযোজক কুইন্সি জোন্সের।
শুরুতে ‘থ্রিলার’ অ্যালবামের জন্য অনেকগুলো গানের ডেমো রেকর্ড করেন জোন্স ও জ্যাকসন। তার মধ্যে থেকে ৯টি গান তারা বেছে নেন অ্যালবামের জন্য। সে সময় টাইটেল ট্র্যাকটি তারা বেছে নেননি।
সাম্প্রতিক এক ইউটিউব পডকাস্টে থ্রিলার অ্যালবামের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের একজন মাইক ফর্জার জানান, ‘স্টারলাইট’ নামের একটি গানকে বদলে ‘থ্রিলার’ গানটি তৈরি করা হয়। জ্যাকসনের সঙ্গে একাধিক অ্যালবামে কাজ করা সুরকার রড টেম্পারটন ‘থ্রিলার’ অ্যালবামের জন্য স্টারলাইট গানটি তৈরি করেন ও জ্যাকসন একটি ডেমো রেকর্ড করেন।
ফর্জার বলেন, “থ্রিলার নিয়ে যখন কাজ শুরু হয় তখন এর গানগুলো পপ ঘরানার ছিল। মাইকেলের আগের অ্যালবাম ‘অফ দ্য ওয়াল’এর গানগুলো ছিল আরএনবি ও ড্যান্স ধাঁচের। আমরা কয়েকটা গান নিয়ে কাজ করছিলাম। সে সময় মাইকেল নিজের তৈরি কয়েকটা গান নিয়ে আসে। সেগুলো শুনে রডের ধারণা হয় যে, মাইকেল এই অ্যালবামে গতানুগতিক পপ সাউন্ড চাচ্ছেন না, বাড়তি কিছু চাচ্ছেন। তিনি বুঝতে পারেন ‘স্টারলাইট’ গানটির অ্যালবামে জায়গা করে নেয়ার সুযোগ কম।

“মাইকেল তাকে বলেন, ‘এই গানটাতে আমাদের ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে হবে। আরও এনার্জি দরকার।’ কাজ শেষে মাইকেল বাড়ি ফিরে যান। পরে তিনি বলেছিলেন, সকালে উঠেই ‘থ্রিলার’ শব্দটা তার মাথায় গেথে যায়। তিনি ওই ধারণা থেকেই চিন্তা করা শুরু করেন, ‘থ্রিলার’ নামের একটা গান কেমন হতে পারে?’”
পরে টেম্পারটন, জ্যাকসন ও জোন্স মিলে স্টারলাইট গানটিকে নতুন করে তৈরি করেন ও জন্ম হয় ‘থ্রিলার’ গানটি। এই গানের মিউজিক ভিডিও হিসেবে জ্যাকসন বিশেষ শর্ট ফিল্ম তৈরি করেন।
হরর থিমের এই মিউজিক ভিডিওটিতে জ্যাকসনকে দেখা যায় ওয়্যারউলফ ও জম্বি হিসেবে। জন ল্যানডিস পরিচালিত এই মিউজিক ভিডিও মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ব্লকবাস্টার হিট হয়। সর্বকালের সেরা মিউজিক ভিডিও হিসেবে এখন সমাদৃত এটি।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফিল্ম রেজিস্ট্রি প্রথম মিউজিক ভিডিও হিসেবে ‘থ্রিলার’কে সংরক্ষণ করে। কারণ হিসেবে তারা জানায়, এই ভিডিওটি ‘সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও নান্দনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ’।