Published : 21 Feb 2026, 07:38 PM
নতুন সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সংযমী’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক-পরিচালক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শুক্রবার ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, কিছু মন্ত্রীর বক্তব্যে এখনই ‘লাগাম টানা’ প্রয়োজন।
সদ্য দায়িত্ব নেওয়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর একটি বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার মধ্যে অভিনেতার এই পোস্ট।
শুক্রবার ওই পোস্টে সোহেল রানা লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, গত তিন দিনে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের জনসাধারণ অত্যন্ত আনন্দ এবং আশার সঙ্গে গ্রহণ করেছে আপনাকে।”
নতুন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বক্তব্যে সংযম প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
“কিছু মন্ত্রীদের বক্তব্যে এখনই লাগাম টানানো দরকার। কোন বিশেষ সংবাদ ব্যতিরেকে তাদের সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের কোন সংবাদ ওই মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিলেই চলবে। বিশেষ প্রয়োজনে তাদের আসা দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আসা যেতে পারে।”

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পরিবহন খাতে ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে কথা বলার পর থেকে সমালোচনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ওইদিন মন্ত্রী বলেন, সড়কে বিভিন্ন যানবাহন থেকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে’ যে টাকা নেওয়া হয়, সেটিকে চাঁদা বলতে চান না তিনি। তবে ‘বাধ্য’ করে যে টাকা নেওয়া হয়, সেটিকে চাঁদা আখ্যায়িত করে ‘এরকম চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে।
পরদিন ফেইসবুকে ওই পোস্ট করেন অভিনেতা সোহেল রানা।
কেন এই পোস্ট- গ্লিটজের প্রশ্নে এই অভিনেতা বলেন, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে’ দেশের জন্য ভাবনা থেকেই এই পোস্ট।
তিনি বলেন, “আমরা তো পৃথিবীর অনেক দেশের মন্ত্রীদের এভাবে প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে কথা বলতে দেখি না; মুখপাত্ররাই কথা বলেন। খুব জরুরি কোনো বিষয় হলে তবেই তারা সামনে আসেন। আমাদের এখানে অনেক সময় মন্ত্রীদের হিরো হওয়ার মানসিকতা কাজ করে। কথাবার্তা এমনভাবে বলেন, শুনলে রাজনৈতিক কর্মী মনে হয়। কিন্তু এটা তো বক্তৃতার মঞ্চ না।
“নতুন সরকারের দুই-একজন মন্ত্রীর দুই-একটা কথা আমার ভালো লাগেনি। শুরুতেই যদি এসব বিষয়ে লাগাম টানা না হয়, তাহলে সামনে আরও অনেকে উল্টাপাল্টা কথা বলতে শুরু করবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে এসব ভাবনা থেকেই পোস্টটি দেওয়া।”
শারীরিক নানা সমস্যায় জর্জরিত সোহেল রানা এখন আর অভিনয়ে নিয়মিত নন। তবে সোশাল মিডিয়ায় প্রায়ই সরব থাকেন তিনি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
সোহেল রানা অভিনয় শুরু করেন ১৯৭৩ সালে। কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা সিরিজের একটি গল্প অবলম্বনে ‘মাসুদ রানা’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। ওই সিনেমার মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন।
‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’সহ একের পর এক তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল রানা।
‘লালু ভুলু’ (১৯৮৩), ‘অজান্তে’ (১৯৯৬), ‘সাহসী মানুষ চাই’ (২০০৩) এই তিন চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আসরে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় সোহেল রানাকে।