Published : 24 May 2026, 11:31 AM
ফ্রান্সের সাগর পাড়ে কান চলচ্চিত্রের ৭৯তম আসরে জুরিদের বিচারে সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘স্বর্ণপাম’ জিতেছে রোমানিয়ান পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর সিনেমা ‘ফিওড’।
বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় ‘ফিওড’ বানিয়েছেন মুঙ্গিউ। উৎসবজুড়ে ‘ফিওড’ এর চিত্রনাট্যের জন্য ছিল আলোচনার কেন্দ্রে, যদিও সমালোচকদের কাছে সিনেমাটি খুব একটা পছন্দের ছিল না।
ভ্যারাইটি, বিবিসি জানিয়েছে, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ‘স্বর্ণপাম’ জিতলেন মুঙ্গিউ। ২০০৭ সালে তার সিনেমা ‘৪ মান্থস, ৩ উইকস অ্যান্ড ২ ডে’ জিতেছিল স্বর্ণপাম।
উৎসবের মূল ভবনে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে প্যালে ডে ফেস্টিভালে আসরের সমপণী অনুষ্ঠানে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের সব বিচারক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

কান চলচ্চিত্র উৎসব এবার শুরু হয় গত ১২ মে। এবারে স্বর্ণপাম জেতার লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা করেছে ২২টি সিনেমা।
আর কানের আসর শুরু হয়েছিল ১৯৪৬ সালে, ছোট আকারে। ওই বছরে থেকে সেরা চলচ্চিত্রকে পুরস্কৃত করা হয়। আর আসরের সেরা পুরস্কার ‘পাম দি’অর’ বা ‘স্বর্ণপাম’ দেওয়া হচ্ছে ১৯৫৫ সাল থেকে।
‘ফিওড’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে এক রোমানিয়ান পরিবারকে ঘিরে। যারা কঠোর ধর্মচর্চায় বিশ্বাসী, তারা নতুন জীবন শুরু করতে যায় নরওয়ের এক ছোট গ্রামে। প্রথমে পরিবারটির জীবনে স্বাভাবিক ছন্দ থাকলেও ধীরে ধীরে স্থানীয় সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হতে থাকে।
এক সময় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পরিবারটির বিরুদ্ধে। রাষ্ট্র তাদের এক সন্তানকে নেয় হেফাজতে। পুরো পরিস্থিতি পরিবারটিকে ঠেলে দেওয়া হয় এক দুঃস্বপ্নের মধ্যে; সেই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।
কানের মঞ্চেপাম পুরস্কার গ্রহণ করার সময় মুঙ্গিউ স্বভাবসুলভভাবেই বিনয়ী ছিলেন। তিনি বলেন, “এটি সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সহমর্মিতার গল্প। আমরা সবাই এসব মূল্যবোধকে ভালোবাসি এবং শ্রদ্ধা করি। আমাদের বাস্তব জীবনে এসবের প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি
“সব পুরস্কারই প্রাসঙ্গিকতার ওপর নির্ভরশীল। আপনারা যে আমাকে এই পুরস্কারটি দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে চমৎকার এবং আমরা খুব খুশি।
তার কথায়, এ ধরনের সিনেমা দেখার জন্য ১০-২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়।

“যখন সিনেমাগুলো দেখি তখন হয়ত আমরা বুঝতে পারি যে এর মধ্যে কোনগুলো সত্যিই ভালো ছিল এবং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছে।”
১৪৬ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি নরওয়েজিয়ান সমাজের প্রগতিশীল ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সেই সঙ্গে রক্ষণশীল ধর্মীয় চরিত্রগুলোর প্রতিও সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েছে।
উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান গ্রাঁ প্রি জিতেছে ‘মিনোটর’; সিনেমাটি বানিয়েছেন রুশ নির্মাতা আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভ। পেট্রোভিচ জাভ্যাগিনসেভের প্রত্যাবর্তনও এবারের উৎসবের বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে।
কোভিড মহামারীর সময় গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর এবং যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ছাড়ার পর এটাই তার প্রথম সিনেমা ‘মিনোটর’। ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষকে কীভাবে বাধ্যতামূলকভাব সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে হয়-সে ঘটনাই এই সিনেমার উপজীব্য।
বর্তমানে ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন যাপন করা এই পরিচালক পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউক্রেইন যুদ্ধে রক্তপাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো কোরীয় পরিচালক জুরিপ্রধান হয়ে আসেন, তিনি পার্ক–চান উক।
মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার
• পাম দি’অর’: ‘ফিওড’; ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর
• গ্রাঁ প্রিঁ: ‘মিনোটর’; আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভ
• সেরা পরিচালক: ‘ফাদারল্যান্ড’, পাওয়েল পাভলিকোভস্কিও
• যৌথভাবে সেরা অভিনেতা: ‘কাওয়ার্ড’; মাক্কিয়া ও ভ্যালোঁতাঁ কাম্পানি
• যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রী: ‘অল অব আ সাডেন’; তাও ওকামোতো ও ভার্জিনি এফিরা।
• জুরি পুরস্কার: ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’; ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখ
• • সেরা চিত্রনাট্যকার: ইমানুয়েল মারে; ‘আ ম্যান অব হিটস টাইম’
• স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার স্বর্ণপাম জিতেছে: ‘ফর দ্য অপোনেন্টস’; ফেদেরিকো লুইস তাচেল্লা
• সেরা প্রামাণ্যচিত্র: ‘রিহার্সালস ফর আ রেভোল্যুশন’

বিচারক প্যানেলে পার্ক–চান উকের সঙ্গে আরও ছিলেন হলিউড অভিনেত্রী ডেমি মুর, আইরিশ অভিনেত্রী রুথ নেগা, অস্কারজয়ী চীনা পরিচালক ক্লোয়ে ঝাও, সুইডিশ অভিনেতা স্টেলান স্কার্সগার্ড, বেলজিয়ান পরিচালক লরা ওয়ান্ডেল।
এছাড়া চিলির পরিচালক দেয়েগো সেসপেদেস, আইভোরীয়-আমেরিকান অভিনেতা ইসাক ডি বাঙ্কোলে ও স্কটিশ চিত্রনাট্যকার পল ল্যাভার্টিও ছিলেন।
ক্রিটিকস উইক বিভাগের জুরিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভারতীয় নির্মাতা পায়েল কাপাডিয়া। ২০২৪ সালে তার সিনেমা ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’ গ্র্যান্ড প্রিক্স জেতার পর এটি ভারতের জন্য এক বিশাল অর্জন।