গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক: খেলাপি ঋণ কমানোর তাগিদ বিশ্ব ব্যাংক এমডির

আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো সহযোগিতা লাগলে তা দিতে প্রস্তুত বিশ্ব ব্যাংক।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2024, 03:23 PM
Updated : 25 Feb 2024, 03:23 PM

খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে এবং আর্থিক খাতে করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা সফররত বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) আনা বেয়ার্দ। 

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বৈঠকে আর্থিক খাতের সংস্কারে নেওয়া ১৭ দফার ‘রোডম্যাপ (কর্মকৌশল)’ নিয়ে কথা হয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

এই সংস্কারের উদ্দেশ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তা। 

বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছায় আনা বেয়ার্দের নেতৃত্বে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দল। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ মিলনায়তনে প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে দেড় ঘণ্টার মতো বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। 

একদিনের সফরে শনিবার ঢাকায় আসেন আনা বেয়ার্দ। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার।

রোববার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। 

বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা তহবিল চান প্রধানমন্ত্রী। আর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার তাগিদ দেন বেয়ার্দ। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংকের যা যা করার তা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, আর্থিক খাতের সংস্কারে নেওয়া ‘রোডম্যাপ’ এর বিষয়গুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তা। 

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘সংস্কারের এজেন্ডাগুলো (পদক্ষেপ) বাস্তবায়িত হলে আর্থিক খাতে করপোরেট গর্ভন্যান্স (প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন) নিশ্চিত হবে, খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনে ব্যাংকিং খাতে তার প্রভাব আনতে পারব আমরা; এটি তাদের জানানো হয়েছে। 

‘‘সংস্কারের কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হলে আর্থিক শৃঙ্খলা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় আসবে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক। আমাদের এ সংস্কারের পদক্ষেপকে তারা এপ্রিসিয়েট (স্বাগত জানানো) করেছেন।’’ 

আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশ্ব ব্যাংকের কোনো সহযোগিতা লাগলে তা তারা দিতে চেয়েছে বলেও জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র। বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংস্কারের কার্যক্রম বাস্তবায়নের কোনো পর্যায়ে সহযোগিতা লাগলে জানানো হবে।’’ 

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে দেশে খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। গত এক বছরেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে ঋণ স্থিতি ছিল ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশ। 

চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে ১৭ দফার ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আড়াই বছরের এ ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়নে ব্যাংকের মন্দ বা ক্ষতিজনিত খেলাপি ঋণ তিন বছরের বদলে দুই বছর হলেই অবলোপন (রাইট অফ) করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

ব্যাংকিং খাতে করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সীমাতিরিক্ত, বেনামি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ শূন্যে নামিয়ে আনার কথাও বলা হয়।

খেলাপি ঋণের আদায় বাড়াতে বিশেষ ভাতা দেওয়া, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিভিন্ন সুবিধা নিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও আসে সেখানে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকে পরিচালক হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ফিট অ্যান্ড প্রোপার টেস্ট’ প্রক্রিয়া হালনাগাদ করা, পরিচালকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

কর্মকৌশল ঘোষণা পরে পরিচালকদের দায়িত্ব, স্বতন্ত্র পরিচালকদের সম্মানী মাসে ৫০ হাজার টাকা করা, খেলাপি ঋণ আদায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগ্যতায় শর্ত হিসেবে যোগ করার মতো নীতিনির্ধারণি সিদ্ধান্ত সার্কুলার আকারে জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এতে ব্যাংকের সুশাসন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক ঋণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে। 

আরও পড়ুন:

Also Read: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে তহবিল চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Also Read: মূল্যস্ফীতি কমানোর ‘পথ তৈরি’র তাগিদ বিশ্ব ব্যাংকের, ‘অপেক্ষার’ পরামর্শ অর্থমন্ত্রীর

Also Read: খেলাপি ঋণ অবলোপন ২ বছরেই, ভবিষ্যতে ‘বিক্রিও’ করা যাবে

Also Read: মোট ঋণের ৯% খেলাপি