তুলার দেশীয় জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তিনি এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Jan 2023, 03:00 PM
Updated : 20 Jan 2023, 03:00 PM

পোশাকশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল তুলার আমদানি নির্ভরতা কমাতে চাষাবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি জানিয়েছেন, এ নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

শুক্রবার ঢাকায় আয়োজিত চতুর্থ ‘গ্লোবাল কটন সামিট’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে বাংলাদেশ তুলার অন্যতম আমদানিকারক। ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে হয়। সেখানে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র এক লাখ ৬০ হাজার বেল।

এসব তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমই ও বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দেশে তুলা চাষাবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় তুলার উৎপাদন বাড়ানো যায় কি না- সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বসে আলোচনা করবেন। চাষীরা যাতে তুলা চাষ করে লাভবান হতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

তুলা চাষের জন্য তামাক চাষের জমি ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানো যায় কি না- সবাইকে এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পরামর্শ দেন বাণিজ্য মন্ত্রী।

“আমরা যেহেতু তামাক চাষ থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা করছি, সেই সব জমিতে তুলা চাষ করে কৃষক লাভবান হতে পারেন কি না দেখতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পতিত জমিতে তুলার আবাদে বিনিয়োগ করতে পারে কি না- সেটা নিয়েও চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি ও পোশাক রপ্তানির তথ্য তুলে ধরে দেশটিতে পোশাকের শূল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দাবি করেন টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বৃহৎ রপ্তানি বাজার। তৈরি পোশাক কারখানায় ব্যবহারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তুলা আমদানি ও এসব তুলা থেকে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা দিলে এ শিল্পের জন্য সুবিধা হয়।”

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “পোশাকখাতে তুলা শিল্পের ব্যাপক অবদান রয়েছে এবং তুলা শিল্পকে দেশীয়ভাবে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। আগামী দিনে পোশাক খাতের রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুলার চাহিদাও বেড়ে যাবে।”

প্রতিবছর ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন বেল কটন আমদানি করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০৩১ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে তখন তুলার চাহিদা দাড়াবে ২৫ মিলিয়ন বেল। এই বিশাল সম্ভাবনার যোগান দিতে হলে দেশীয় তুলাশিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

“আধুনিক প্রযুক্তির চাষাবাদ ও উন্নত জাতের তুলা চাষের মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে এক মিলিয়ন বেল তুলা দেশেই উন্নত করতে পারে। যেখানে এখন উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১.৬ লাখ বেল।”

বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আইয়ুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লা ফেভ, ঢাকায় ব্রাজিলিয়ান দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর পাউলো ফারনানদো ডায়াস ফেরিস, ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ফারুক হোসেন বক্তব্য রাখেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক