বোরোর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে, আশা কৃষিমন্ত্রীর
বোরোতে রেকর্ড ২ কোটি ২০ লাখ টনের মতো চাল উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষিমন্ত্রীর।
ফলন ভালো হওয়ায় এবার বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ লাখ টন বেশি চাল পাওয়ার আশা করছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।
বোরো ধানের বড় একটি অংশ আসে হাওর থেকে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই হাওরাঞ্চালের ৯০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হওয়া তাকে আশাবাদী করে তুলেছে।
রোববার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বোরো ধান উত্তোলন পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “হাওরে এখন পর্যন্ত ৯০% ধান কাটা হয়েছে। এবছর বোরোতে রেকর্ড ২ কোটি ২০ লাখ টনের মতো চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।”
এবার দেশে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ লাখ ৭৬ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে প্রায় প্রায় ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে। এই ধান থেকে ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।
রাজ্জাক বলেন, “মাঠে ধানের অবস্থা ভালো, হাওরের ধানও ভালোভাবে কাটা গেছে। আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১০ লাখ টন বেশি চাল উৎপাদন হতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরে এবছর বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে।
আর এই সাত জেলায় মোট বোরো আবাদ হয়েছে (হাওর ও হাওরের বাইরে উচুঁ জমি মিলে) ৯ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ টন চাল।
হাওরের ধানের মধ্যে সিলেটে ৯১ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৯৭ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৮০ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৯৬ শতাংশ, কিশোরগঞ্জে ৮০ শতাংশ, নেত্রকোনায় ৯৬ শতাংশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯২ শতাংশ কাটা হয়েছে।
বাংলাদেশে বাৎসরিক ধান উৎপাদনের বড় জোগান আসে বোরো মৌসুম থেকে। গত বছর আসস্মিক ঢলে হাওরের ধান তলিয়ে গিয়েছিল। তবে এবার আগে থেকেই প্রস্তুতি রেখেছিল সরকার।
ভারতের মেঘালয়ে ভারি বর্ষণের আশঙ্কায় গত ২০ এপ্রিল থেকে হাওরাঞ্চলের ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং শুরু করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন। ২৩ এপ্রিল একটি ঢলের আশঙ্কা থাকলেও তেমনটা ঘটেনি।
ধানকাটা উৎসাহিত করতে গত ১৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরে কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটায় যোগ দিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, মেশিনে ধান কাটায় হাওরের ধান দ্রুত কাটা সম্ভব হয়েছে। এই মুহূর্তে হাওরের ৭টি জেলায় ৩৮০০ কম্বাইন হারভেস্টার ও ৬৭০টি রিপার দিয়ে ধান কাটা চলছে। পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য আমরা ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে হাওরে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে যাচ্ছি। অর্থাৎ একটা যন্ত্রের দাম ২৮ লাখ টাকা হলে ২০ লাখ টাকা সরকার আর কৃষক মাত্র ৮ লাখ টাকা দিচ্ছে।
ধানের দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ধান কাটার পরই ক্ষেত থেকে ৯০০ থেকে ১১০০-১২০০ টাকা মণ দরে কৃষকেরা ধান বিক্রি করতে পারছেন।।”
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিসচিব ওয়াহিদা আক্তার ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
