Published : 16 Feb 2026, 04:22 PM
বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন মানের নোট ও নমুনা নোটের আদলে কাগজে ছাপানো টাকা ব্যবহার করে পণ্যর বিজ্ঞাপন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের জন্য কন্টেন্ট বানানো যে আইনত বৈধ নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ধরনের কনটেন্টের কারণে ‘জাল টাকার’ প্রচলন বেড়ে যেতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করছে।
সোমবার এক পরিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক র বলেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (যেমন: ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব) বেশ কিছু ভিডিও/ছবি দেখা যাচ্ছে।
‘আসল নোটের ডিজাইন ও আকারের অনুরূপ, কখনো আসল নোটের তুলনায় বড় আকারের ‘নমুনা নোট; ব্যবহার করে নিজস্ব মার্কেটিং প্রচার চালানো বা কন্টেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে।”
এছাড়া বাজারে বা উন্মুক্ত স্থানে আসল টাকার আদলে তৈরি কাগজ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে, তাতে ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য।
পরিপত্রে বলা বলা, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাল নোটের প্রচলন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
“আসল নোট সদৃশ কাগজ তৈরি, প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও চিত্র প্রস্তুতপূর্বক প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’’
যা আছে আইনে
১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৮৯(ঙ) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান যদি এমন নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ করে, যা প্রচলিত ব্যাংক নোট সদৃশ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একইসাথে ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা ‘গুজবমূলক তথ্য’ প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
জাল নোটের বিস্তার রোধে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি এ ধরনের ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য বা কন্টেন্ট’ তৈরি, অননুমোদিত কর্মকাণ্ড ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।