Published : 25 Jun 2026, 09:29 PM
চলতি অর্থবছরের ছয় দিন বাকি থাকতেই ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে প্রবাসী আয়।
এর মধ্যে অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ২৪ দিনে এসেছে ২৩১ কোটি ২০ লাখ (২.৩১ বিলিয়ন) ডলার।
আর সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাস ২৪ দিনে এসেছে ৩ হাজার ৫০৬ কোটি ৯০ লাখ (৩৫.০৭ বিলিয়ন) ডলার।
সেই হিসাবে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এবার রেমিটেন্স বেড়েছে ৫ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ।
আগামী ছয় দিন একই হারে রেমিটেন্স এলে মাস শেষে প্রবাসী আয় ঠেকবে ২৮৯ কোটি ডলারে। আর অর্থবছর শেষে এই অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার ৫৬৫ কোটি বা ৩৫ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার রেমিটেন্সের হালনাগাদ তথ্য দিয়েছেন।
তাতে দেখা যায়, জুনের ২৪ দিনে ২৩১ কোটি ২০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের জুনের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
গত বছরের জুনের প্রথম ২৪ দিনে আসে ২২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। পুরো মাসে আসে ২৮২ কোটি ২৫ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে গত মার্চে; ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। আর গত মে মাসে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এ নিয়ে টানা ৬ মাস ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে। জুনে ৩ বিলিয়ন ছাড়ালে সেটা হবে টানা ৭ মাস।
গত ২৮ মে দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। এ উৎসব সামনে রেখে সাধারণত পরিবার-পরিজনের জন্য বেশি টাকা পাঠান প্রবাসীরা।
আরিফ হোসেন খান বলেন, গত মার্চে যে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার আসে, সেটার কারণ ছিল রোজার ঈদ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অতীতে দেখা গেছে, ঈদের পর রেমিটেন্স প্রবাহ বেশ কমে যেত। কিন্তু এবার দুই ঈদের পরও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
“তাই অর্থবছর শেষ না হতেই ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে। মাসের শেষ দিকে রেমিটেন্স একটু বেশি আসে। সেটা হলে চলতি জুন মাসেও ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসবে।”
তিনি বলেন, “আশঙ্কা ছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি।”
রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে এখন ১২৩ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে জুন মাসের ২৪ দিনে ২৮ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনে গড়ে এসেছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার; টাকায় ১ হজার ১৮৫ কোটি টাকা।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।
রেমিটেন্সের প্রবাহ ভালো থাকার প্রভাব পড়েছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও।
বৃহস্পতিবার দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার; ৩৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ছিল গ্রস বা মোট হিসাবে।