২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের সর্বোচ্চ

ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার তথ্য দিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো; যাতে দেখা যাচ্ছে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Mar 2022, 11:21 PM

Updated : 02 Aug 2022, 03:10 PM

গত ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অর্থাৎ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেজন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১০৬ দশমিক ১৭ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

গত মাসে মূল্যস্ফীতির এ হার ২০২০ সালের অক্টোবরের চেয়ে বেশি। ওই সময় ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল।

গত ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি আগের মাস জানুয়ারির চেয়েও শুন্য দশমিক ৩১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে খাদ্যে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। আর খাদ্য বহির্ভূত খাতে যা ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩০ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জানতে চাইলে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের পরিচালক মো. জিয়াউদ্দীন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত মাসে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত উভয় উপখাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

“সারা দেশের বাজার থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা মাসের প্রথম ১৫ দিন পণ্যের মূল্য সংগ্রহ করেন। সেই মূল্য গড় করে আমরা মাসিক মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করে থাকি।”

“গত মাসে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত দুই খাতেই পণ্যের দাম বেড়েছে বলে আমাদের চোখে পড়েছে। ফলে মাসিক মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে,” যোগ করেন তিনি।

জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৬ শতাংশের নিচে  

ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৬% ছাড়িয়ে বছরের সর্বোচ্চ

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। গত বছরের একই মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

আর গত মাসে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এ সময়ে গ্রামে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছরের একই মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। আর খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ; যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।

অপরদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে শহরাঞ্চলেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও বেড়ে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

শহরে এ সময়ে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ।