জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৬ শতাংশের নিচে
খাদ্যসহ ভোগ্য পণ্যের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি আবারও ৬ শতাংশের নচে নেমে এসেছে।
বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ; নভেম্বরে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
জানতে চাইলে বিবিএসের মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত মাসে মূলত খাদ্য বহির্ভূত উপ খাতের মূল্যস্ফীতি কমার কারণে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমেছে।
জানুয়ারিতে কী কারণে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমেছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা না করে বলেন, বিবিএসের সারা দেশের কর্মীরা বাজারের যে তথ্য সংগ্রহ করে সেটির ওপর ভিত্তি করেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
“আমরা কারণ নির্ণয় করিনা,” যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা কমলেও খাদ্য উপ খাতের মূল্যস্ফীতি কেন বেড়েছে তা আমি বলতে পারব না।”
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩০ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
বিবিএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে খাদ্য উপ খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে। ডিসেম্বরে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের বছরের জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
গত জানুয়ারিতে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, ডিসেম্বরে এ হার ছিল ৭ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারিতে যা ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
জাতীয় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও গ্রামীণ মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের বেশিই ছিল।
ওই মাসে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি হয় ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৫ শতাংশ। আর ডিসেম্বরে যা ছিল ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
গেল জানুয়ারিতে গ্রামে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা আগের বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
গত মাসে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।
অপরদিকে গত মাসে শহরাঞ্চলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং গত ডিসেম্বরে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
গত মাসে শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।
আর শহরে এ সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং গত ডিসেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ।
