Published : 15 Jun 2026, 12:04 AM
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আট বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। কিন্তু সেজন্য জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ যে হারে বাড়ানোর লক্ষ্য তিনি ধরেছেন, তা কতটা বাস্তবসম্মত–সেই প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যে ‘গর্তে’ পড়ে আছে, সেখান থেকে তুলতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। কিন্তু আমির খসরু বিনিয়োগের পরিমাণ আট বছরে জিডিপির ২৮ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে তুলবেন কোন কৌশলে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দিয়ে বিশাল অঙ্কের উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছে বিএনপির নতুন সরকার।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিগত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৯ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখন ৫০১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, আট বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চান আমির খসরু।
আর এ লক্ষ্য পূরণে পাঁচ বছরের মধ্যে মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তিনি বলেছেন। অথচ সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে বিনিয়োগ হয়েছে জিডিপির ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
আহসান এইচ মনসুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ কথা ঠিক যে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থমন্ত্রী বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু অর্থনীতি এখন যে নাজুক অবস্থায় আছে, সেখান থেকে টেনে তুলতেই দুই-তিন বছর লাগবে।
“এর মধ্যে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভরশীল। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা কবে থামবে, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। নতুন কোনো ধাক্কা আসবে কি না, তাও অনিশ্চিত। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা অনুকূলে থাকবে, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।”
তিনি বলেন, “দেশে জিডিপির ৩২ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ কখনোই হয়নি, সেখানে এতসব কিন্তুর মধ্যে ২৮ শতাংশ থেকে পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশে উঠবে কোন জাদু বলে? আলাদিনের চেরাগ ছাড়া সেটা সম্ভব নয়।”
বিনিয়োগ আসবে কী করে?
প্রতি বছর বাজেটে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের পাশাপাশি বিনিয়োগেরও একটি লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১১ জুন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে যে বাজেটে প্রস্তাব সংদে উপস্থাপন করেছেন, তাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিনিয়োগের লক্ষ্য ঠিক না করে পাঁচ বছরের জন্য বিনিয়োগকাঠামোর একটি প্রক্ষেপণ বা পথরেখা দিয়েছেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থিক পুনরুদ্ধার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই এই বাজেটের মূল দর্শন।
“বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ মোকাবিলার জন্য দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা অর্জন, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ নির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য তিনি ঠিক করেছেন।
‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির বয়ান সামনে রেখে বাজেটের এ লক্ষ্যমাত্রাগুলো অনুপ্রেরণা জাগালেও বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী 'থ্রি-আর' (রিকভারি, রেসকিউ ও রিবিল্ড) কৌশলের কথা বলেছেন। সেজন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, ডিরেগুলেশন বা বিনিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সুশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন।
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এর সবগুলোই জরুরি, কিন্তু এসব ক্ষেত্রে বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতার ইতিহাস বিশ্লেষকদের মনে খুব বেশি ভরসা জাগাতে পারছে না।
ডিরেগুলেশন বা বিনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বাজেটে একটি পূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। 'ব্যবসা সহজীকরণ' ও 'এক ছাদের নিচে লাইসেন্স সেবা'র মতো প্রস্তাব যুক্তিসংগত। তবে বাস্তবতা হল, ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বা সহজে ব্যবসা করার সূচকে বাংলাদেশ বহু বছর ধরেই তলার দিকে থাকছে।
আর্থিক খাত পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। এ সংকটগ্রস্ত খাতকে পুনর্মূলধনীকরণে চলতি বছর ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।

অথচ এই ব্যাংক খাত থেকেই বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এই চক্রকে অর্থনীতির বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন অর্থনীতির জন্য বড় চাপ। দেশে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে বাজেটের একটি বড় অংশ ভর্তুকিতে চলে যাবে।
এমন বাস্তবতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশ্রয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অন্তবর্তী সরকার দেড় বছরে আমাদের দেশটাকে একেবারে তলানিতে নামিয়ে দিয়ে গেছে। কোনো বিনিয়োগ হয়নি, অর্থনীতি একেবারে স্থবির ছিল। সেই জায়গা থেকে নতুন সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে কতটা টেনে তুলতে পারবে, সেটা দেখার জন্য বেশ খানিকটা সময় দিতে হবে। অর্থমন্ত্রীও বলেছেন, দুই বছর কষ্ট করতে হবে।
“আমার মনে হয়, এই দুই বছর বিনিয়োগ খুব একটা বাড়বে না। আমরা চাই, দুই বছরে অর্থনীতিটা সঠিক রাস্তায় আসুক। তারপর বিনিয়োগ বাড়বে। তাই অর্থনীতিকে সঠিক পথে অনার দিকেই নতুন সরকারের সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।”
জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থার সংকট শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে ‘নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এগুলো ঠিক না হলে বিনিয়োগ বাড়বে—এমনটা আশা করা বোকামি হবে।”
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “১৬ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করবে কে? কেউ করছে না; সে কারণেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বকালের নিচে, ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমেছে। উৎপাদনশীল শিল্পে প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও কার্যকরী মূলধনের প্রবাহেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে শিল্প খাত থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
“বিনিয়োগ না হলে শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে না, কর্মসংস্থান হবে না। দেশি বিনিয়োগ না হলে, বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। তাই বাজেটে শুধু আশার কথা বলবে হবে না, বাস্তবে পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বিনিয়োগের বর্তমান চিত্র
বাজেট ঘোষণার আগের দিন গত ১০ জুন বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয়, জিডিপি ও বিনিয়োগসহ অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায় নিতে চলা অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আগের বারের চেয়ে খানিকটা বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হতে পারে। চূড়ান্ত হিসাবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সাময়িক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলার বা ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার বা ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা।
বিবিএসের তথ্য বলছে, বিদায়ী অর্থবছরে দেশে বিনিয়োগ হয়েছে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এই বিনিয়োগ গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বিদায়ী অর্থবছরে যে বিনিয়োগ হয়েছে, তার মধ্যে বেসরকারি খাতের অবদান ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।
গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ; সরকারি বিনিয়োগ ছিল ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপির ২৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছিল। এরপর ১১ বছরে এত কম বিনিয়োগ আর কখনো হয়নি। এমনকি কোভিড মহামারীর সংকটের সময়েও এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

দশ মাসে এডিপির ৪১% বাস্তবায়ন
২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের উন্নয়ন কাজে যে ধাক্কা লেগেছিল, তার জের চলছে এখনো।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে উন্নয়ন বরাদ্দের ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
এই বছরের জন্য এডিপির মাধ্যমে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক হওয়ায় গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পসহ এডিপির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতেও অর্থবছরের বাকি দুই মাসে (মে ও জুন) ১ লাখ ২২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৯৩ হাজার ৪২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। বাস্তবায়নের হার ছিল ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ।
এই হিসাবে গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ৬ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা কম খরচ করা সম্ভব হয়েছে।

১০ মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২০%
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ১১৪ কোটি ৪০ লাখ (১.১৪ বিলিয়ন) ডলারের নিট এফডিআই পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ (১.৪৩ বিলিয়ন) ডলার।
এই হিসাবে, জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশে নিট এফডিআই কমেছে ২৯ কোটি ডলার বা ২০ দশমিক ২২ শতাংশ।
‘গণতন্ত্রহীনতা’ নিয়ে সমালোচনার জবাবে উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলত আওয়ামী লীগ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে অস্থিরতা, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭১ কোটি ২০ লাখ (১.৭১ বিলিয়ন) ডলারের নিট বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।
তার আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪২ কোটি ৫০ লাখ (১.৪২ বিলিয়ন) ডলারের নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসে, তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাই নিট বিদেশি বিনিয়োগ।
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপির জন্য এবারের বাজেট রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতার যে ঘাটতি, সেটাই বিশ্লেষকদের ভাবাচ্ছে।
বাজেট প্রতি বছরেই আকারে বড় হয়, প্রতিশ্রুতিও বাড়ে, কিন্তু বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত বাড়ে না। রাজস্ব আহরণের ঘাটতি পূরণ হয় ব্যাংক ঋণ দিয়ে, আর ব্যাংক খাতের ঋণ চাপ বাড়তে থাকে বেসরকারি বিনিয়োগকে সংকুচিত করে। এজন্যই সরকারকে বাজেট বাস্তবায়নের ‘মানে’ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, “কর ফাঁকি রোধে কতটুকু প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি কার্যকর হল, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কতটুকু কমল, বেসরকারি বিনিয়োগ কতটুকু ফিরল—এ তিন সূচকই হবে এই বাজেটের আসল রিপোর্ট কার্ড। সেই পরীক্ষায় সরকার সফল হবে, না ব্যর্থ হবে—সেটার উপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।”