Published : 09 Jun 2026, 08:50 AM
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেসব সংকট রয়েছে, সেগুলো থেকে উত্তরণে ক্ষমতাসীনদের ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছার’ কথা বলেছেন মাসরুর রিয়াজ।
অর্থনীতির এ বিশ্লেষক বলেছেন, কোনো গোষ্ঠীর কাছে অর্থনীতিকে জিম্মি করতে না দেওয়ার সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক অবস্থান যদি থাকে, তাহলেই কেবল এই উত্তরণ সম্ভব।
তার মতে, বিচ্ছিন্ন দুয়েকটি সংস্কার দিয়ে অর্থনীতিকে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করা যাবে না। বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের পরিকল্পনা জরুরি।
জাতীয় বাজেট সামনে রেখে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘ইনসাইড আউট’ আলোচনা অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে অর্থনীতির নানা বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন মাসরুর রিয়াজ।
তিনি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের’ চেয়ারম্যান। তিনি সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে গবেষণাও করছেন।
‘ইনসাইড আউট’ অনুষ্ঠানটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজে সম্প্রচার করা হয়।

এতে মাসরুর রিয়াজ দেশের নিত্যপণ্যের বাজার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি পণ্যের সংকট, খেলাপি ঋণ, কর-জিডিপির অনুপাত, নিত্যপণ্যের বাজার এবং ব্যাংকিং খাত নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছেন।
গেল ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি জাতির সামনে প্রথম বাজেট তুলে ধরবে ১১ জুন। এই বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে ‘আকাশচুম্বী প্রত্যাশা’, বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে রেহাই পেতে চাইবেন তারা।
এ নিয়ে মাসরুর রিয়াজ বলেন, “দেখেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিটা গত কয়েকটা বছর ধারাবাহিকভাবে একটা চ্যালেঞ্জ বা একটা সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।"
এরমধ্যে মূল্যস্ফীতিকে ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, "তো এখন আমরা ১২ (মূল্যস্ফীতি সূচক) বলি, ৯ বলি, সাড়ে ৮ বলি—সবই কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এই মূল্যস্ফীতিতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে।”
মূল্যস্ফীতির বর্তমান যে পারদ, সেটা চড়তে থাকে ২০২১ সাল থেকে, যার কারণ হিসেবে কোভিড মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের কথা বারবার সামনে এনেছে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে মূল্যস্ফীতির জন্য আওয়ামী লীগের সময়কার ‘দুর্নীতিকেও’ দায়ী করেন অনেকে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে নীতি সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার চেষ্টা করে। কিন্তু সফল হয়নি।
এরপর মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে আঁটসাঁট মুদ্রানীতির পথে হাঁটে ৫ অগাস্টের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কয়েক দফা নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নেন। এসব পদক্ষেপে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু প্রত্যাশা মেটায়নি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো— বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে।

সুদহার বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি কোনো কোনো মাসে কিছুটা কমলেও এর উল্টোপিঠ থাকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মাসরুর রিয়াজ।
তিনি বলেন, “সুদহার বাড়ার ফলে ব্যবসায়ীদের ঋণ নেওয়ার খরচ ১৩ থেকে ১৫ শতাংশে ঠেকেছে। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যবসার খরচ বেড়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ীর জন্য এই ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়।”
‘দ্বিতীয় সংকট’ হিসেবে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিশেষ করে জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের কথা বলেছেন এই বিশ্লেষক। আর ‘তৃতীয় বড় সমস্যা’ তার কাছে মনে হয়েছে, আইনি ও পরিচালন কাঠামোর দুর্বলতা।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১৯৮০ সালের বিনিয়োগ আইনটি বর্তমান গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ও ডিজিটাল ইকোনমির সঙ্গে ‘একেবারেই অসংগতিপূর্ণ’।
দেশের অর্থনীতিতে নানা সংকটের পাশাপাপাশি কিছু ‘শক্তির’ জায়গাও আছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। উদাহরণ হিসেবে বিশাল শ্রমশক্তির কথা সামনে আনেন তিনি।
“বাংলাদেশ কোনো মৌলিক কাঁচামাল বা তুলা উৎপাদন না করেও, এমনকি তৈরি পোশাক খাতের যন্ত্রপাতি তৈরি না করেও বিশ্ববাজারে চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ,” যোগ করেন তিনি।
তার ভাষায়, “আমাদের যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, সেটা পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য একটা স্বপ্ন। এই জনগোষ্ঠী আমাদের একটা শক্তি।”

বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলের ‘কানেক্টর কান্ট্রি’।
তৈরি পোশাক খাত থেকে সর্বোচ্চ বিদেশি মুদ্রা এলেও তা দেশের অর্থনীতিকে কত দূর টেনে নিয়ে যেতে পারবে, সেই প্রশ্নও অবশ্য তুলেছেন মাসরুর রিয়াজ।
তিনি বলেন, “তৈরি পোশাক খাত এককভাবে কতদূর টানবে? গার্মেন্টস যেখানে ৪৬ বিলিয়ন ডলার পার করে ৫০-৬০ বিলিয়নের দিকে যাচ্ছে, সেখানে দেশের দ্বিতীয় কোনো রপ্তানি খাত আজ পর্যন্ত ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার হতে পারেনি।
“আমার যে রপ্তানির ভার, কর্মসংস্থান তৈরির ভার, উৎপাদনের ভার— সেটা গার্মেন্ট একা কিন্তু খুব বেশি টেনে নিতে পারবে না। অন্য খাতগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু অন্য খাতে আমরা তা ওইভাবে পাচ্ছি না।”
কর্মসংস্থান নিয়ে এ বিশ্লেষক বলেন, প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে এলেও তাদের জন্য মানসম্মত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান নেই। দুই-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে অনানুষ্ঠানিক খাতে।
দেশে বিনিয়োগে ভাটা তৈরি হওয়ার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৪ শতাংশ থেকে নেমে ২২ শতাংশে ঠেকেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নেমে গেছে জিডিপির শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের নিচে।


দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে যেসব সংকট, তা থেকে উত্তরণে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের’ কথা বলেছেন বিশ্ব ব্যাংকে কাজ করে আসা মাসরুর রিয়াজ। আর সংস্কার করতে গেলে যে নানা ধরনের বাধা আসে, সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও পর্যাপ্ত বলতে রাজি নন তিনি।
সংস্কারের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরতে গিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, “যারা লুজার, যাদের ক্ষমতা কমে যাবে, সংস্কারে তাদের দীর্ঘদিনের স্বস্তির জায়গাটা থাকবে না। যাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, তারা সবসময় সংস্কারে বাধা দেয়।”
তার মতে, “আমাদের সার্বিক বিনিয়োগ নিয়ে সংস্কারের প্যাকেজ প্রয়োজন ছিল। একটা-দুইটা বিচ্ছিন্ন সংস্কার দিয়ে, সেগুলো খারাপ বলব না, কিন্তু সেগুলো দিয়ে বেশি দূর যেতে পারব না।”
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এমন সময় বাজেট দিতে যাচ্ছে, যখন দেশের মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার কমেছে রেকর্ড পরিমাণে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২২ শতাংশের মতো।
এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের বাজেট নিয়ে মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, উন্নয়ন ব্যয় কতটা বাড়বে, আর মূল্যস্ফীতি কমাতে কতটা আঁটসাঁট নীতি মানা— এই দুইয়ের সমন্বয় করাটাই ‘নাম্বার ওয়ান চ্যালেঞ্জ’।
“এখন আপনি মূল্যস্ফীতির কথা চিন্তা করে বাজেট ছোট রাখবেন, নাকি এই যে মানুষের প্রত্যাশা, ভোটারদের প্রত্যাশা, আবার উন্নয়ন ব্যয়েরও প্রয়োজন আছে। এই ভারসাম্যটা আমি কীভাবে করব— এটা হলো নাম্বার ওয়ান চ্যালেঞ্জ।”
এক্ষেত্রে পরামর্শ হিসেবে মূল্যস্ফীতি ব্যবস্থাপনা; জ্বালানি খাতের জোগান নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি।
এই বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে, রাজস্ব সংকট ও ঋণের ‘ফাঁদ’ হলো ‘দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ’।


বাংলাদেশে কর-জিডিপির অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন।
এই তথ্য তুলে ধরে মাসরুর রিয়াজ বলেন, এর জন্য ঋণের বোঝা বাড়ছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৫ অর্থবছরে ঋণের দায় বেড়ে গেছে ২২৮ শতাংশ।
“তার মানে, আমি চাইলেই ইচ্ছামতো ঋণ নিতে পারব না। ঋণ নিতে হবে, কিন্তু খুবই বেছে, খুবই চিন্তা করে, খুবই সাবধানে।”
ঋণ পরিশোধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সংকটের প্রসঙ্গ সামনে আনেন তিনি। আর সমাধান হিসেবে বলেন বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কথা।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক— এডিবি। নতুন শর্তে ৫ বিলিয়ন ডলার পেতে আলোচনা চলছে আইএমএফের সঙ্গেও।
এসব বিদেশি ঋণের বিষয়ে মাসরুর রিয়াজ বলেন, “আমি শুনেছি যে, ৫ বিলিয়ন ডলারের একটা নতুন প্রোগ্রাম নিয়ে সরকার আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই টাকাটা কিন্তু আমাদের লাগবে।”
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “একটা হলো, আমার বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এটা লাগবে। আর দ্বিতীয় হলো, আইএমএফ যদি ঋণ স্থগিত করে, তখন কিন্তু অন্য যারা উন্নয়ন সহযোগী— বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, যারা বাজেট সহায়তা দিচ্ছে, তারাও স্থগিত করে দেয়।”
সরকারের রাজস্ব বাড়াতে কেউ কেউ করহার বাড়ানোর কথা বলেছেন। তবে এটা বাড়ানো হলে হিতে বিপরীত হওয়ার শঙ্কাও দেখছেন মাসরুর রিয়াজ। এর পরিবর্তে তিনি করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
তার মতে, “প্রথমত, দেশের ৭০-৮০ শতাংশ ‘ইনফরমাল’ অর্থনীতিকে ‘ফরমাল’ করতে না পারলে কর আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়।
“দ্বিতীয়ত, ১ কোটি ৩০ লাখ টিআইএন ধারীর মধ্যে মাত্র ৪৫ লাখ রিটার্ন দেন, সেখানে এনফোর্সমেন্ট বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, কর ছাড়ের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।”
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।
এক্ষেত্রে ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ল’, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ সংস্কার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং ‘মানি লোন কোর্ট’ পুনর্গঠন করার কথা বলেছেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ।
এ নিয়ে মাসরুর রিয়াজের পর্যবেক্ষণ হলো, “আমাদের ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সম্পদ, যেটা দেশের অর্থনীতিতে কাজে লাগার কথা, কিন্তু কাজে লাগছে না। সুতরাং এটা নিয়ে একটা যৌক্তিক সমাধানে আসতে হবে।”
পুঁজিবাজারের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “এটি কেবল কয়েক দিনের মিটিং-মিছিলের বিষয় নয়। দেশে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বাজার (লং টার্ম ফাইনান্স) না থাকায় ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।
“বাজারকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীনির্ভর না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগনির্ভর করতে হবে।”
প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এলে কালো টাকা সাদার করার আলোচনা জোরালো হয়। এবারও সেই আলোচনা আছে।
কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “বৈধ আয়, যা সময়মতো দেখানো হয়নি, তা জরিমানা ও উচ্চ কর হারের মাধ্যমে সাদা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।”
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিনিয়োগে যে ভাটা দেখা দেয়, তা এখনো কাটেনি। এর কারণ হিসেবে ইউনূস সরকারের ‘পলিটিক্যাল কনফিউশন’ এবং আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি থাকার কথা বলেছেন মাসরুর রিয়াজ। নির্বাচন কবে হবে, সেই অনিশ্চয়তাও অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন তিনি।
অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, “নির্বাচন কবে হবে, নির্বাচিত সরকার কবে আসতে পারে, এটা স্পষ্ট করতে একটা বছর সময় নিল। সেটার কারণে কিন্তু আমাদের বিনিয়োগের আস্থা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের আস্থার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।
“সেই জায়গাটায় আমি মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার আরও আগেই নির্বাচনের বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারলে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হতো।”
আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার কারণ হিসেবে অনেকেই গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর হাতে ব্যাংকিং খাত ও নিত্যপণ্যের বাজার জিম্মি থাকার কথা বলেন।
অর্থনীতিকে এই জিম্মিদশা থেকে বিএনপি সরকার মুক্তি দিতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্নে মাসরুর রিয়াজ বলেন, “এটা পারবে কি পারবে না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর।”