Published : 05 Mar 2026, 09:06 PM
বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট খাতে ‘দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং স্বার্থের সংঘাতমুক্ত’ কোনো ব্যক্তিকে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–টিআইবি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানোর কথা সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষ করে ‘স্বার্থের সংঘাতমুক্ত’ ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
“সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সর্বোপরি গভর্নরের দায়িত্বের আওতাভুক্ত সকল বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে ভূমিকা পালনে সক্ষম–এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।”
বিএনপি সরকার শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গেল ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নরের পদ থেকে আহসান এই মনসুরকে সরিয়ে পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে সেই দায়িত্ব দেয়। তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।
নতুন গভর্নর নিয়োগের পর খবর আসে, বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) মাস দুয়েক আগে মোস্তাকুর রহমানের তৈরি পোশাক কারখানা হেরা সোয়েটার্সের ৮৬ কোটি টাকার খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফশিল করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি।
সংস্থাটি বলেছে, দুর্নীতির কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিরোধ ছাড়া সরকারের কোনো অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এজন্য বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদের আলোকে সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত কৌশল ও পথরেখা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সব কর্মপরিকল্পনার মূলধারায় সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী উপাদান বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিদ্যমান ঘাটতি দূর করে কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
টিআইবি বলছে, ক্ষমতাসীন দল ও সংশ্লিষ্ট মহলে ‘এবার আমাদের পালা সংস্কৃতির’ বিকাশ রোধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি জোরদার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই সনদের ৭৪ ধারা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে টিআইবি আরও কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার বাছাই কমিটিতে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে পর্যালোচনা কমিটি গঠন, দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি মোকাবিলায় স্বতন্ত্র ইন্টিগ্রিটি ইউনিট গঠন এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা থেকে মামলা পরিচালনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন চালু করা।
একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঘুষ ও দুর্নীতিকে ‘স্বতন্ত্র অপরাধ’ হিসেবে আইনের আওতায় আনা, অর্থপাচার প্রতিরোধে বিএফআইইউ, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃত মালিকানা স্বচ্ছতা আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা সুমাইয়া খায়ের, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান এবং রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কাজী আমিনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন।