Published : 06 Jun 2026, 10:59 PM
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের পর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় হ্যাপি হোমসের বন্ধু বেকারি গলির একটি বাসা থেকে গৃহবধূকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর জেসমিন আক্তার বিথী (২৭) নামে ওই গৃহবধূর স্বামী আল আমীনকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাহবুবর রহমান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলায় হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিথীর বাবা ইলিয়াস ব্যাপারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শনিবার তিনি মামলা করেন। সেখানে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।
মামলায় বিথীর স্বামী আল আমীন ছাড়াও ভাসুর মোক্তার হোসেন (৪৫) ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে (৪০) আসামি করা হয়েছে।
ঢাকার কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তদারি করেন মোক্তার। ভাইয়ের ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেন আল আমীন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বছর সাতেক আগে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন বিথী। এরপর তার স্বামী আল আমীন তার বড় ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করা হত বিথীকে।
এজাহারে বিথীর বাবা ইলিয়াস ব্যাপারী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে টাকা আনার জন্য চাপ দিলে রাজি হননি বিথী। তখন তাকে মারধর করা হয়। পরের দিন শুক্রবার সকালে বিথী তার বাবার বাড়ি (তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়া) যান। তখনো টাকার জন্য ফোন করে আল আমীন চাপ দেন। টাকা আনতে না পারলে সংসার করবেন না বলে বিথীকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়, বাবার আর্থিক অবস্থা বুঝতে পেরে টাকার জন্য তাকে চাপ না দিয়ে স্বামীর বাসায় যান বিথী। এরপর তাকে আবারো মারধর করেন আল আমীন। স্বামীর আচরণ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফোন করে বাবাকে বলেন বিথী।
“এরপর ইলিয়াস আলী দ্রুত মেয়ের বাসায় গিয়ে তার শোবার ঘর ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে বিকল্প চাবি দিয়ে খুলে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।”
বিথীকে নামিয়ে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।