Published : 06 Jun 2026, 11:04 PM
দায়িত্ব পাওয়ার পর পুঁজিবাজার নিয়ে আশার কথা শোনালেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান। প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়মকানুন সহজ করার মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলেছেন তিনি।
নিজের করণীয় বিষয়ে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার মূলনীতি হবে- যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রণ, আর যেখানে সম্ভব সেখানে সরলীকরণ।”
পুঁজিবাজার ‘নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে’ বৃহস্পতিবার বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে মাসুদ খানকে দায়িত্ব দেয় সরকার। কমিশনার হিসেবে তার সঙ্গী হয়েছেন নাহিদ মাহতাব, তানভীর হাবিব রহমান ও নাফিজ আল তারিক। এর আগে খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ আগের কমিশনাররা পদত্যাগ করেন।
দায়িত্ব পাওয়ার পরই কমিশনারদের নিয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে যান মাসুদ খান। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এরপর শুক্রবার রাতে ইংরেজি ও বাংলায় পুঁজিবাজার নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দেন তিনি।
ফেইসবুকের এ অ্যাকাউন্ট তারই- সেটি নিশ্চিত করে মাসুদ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সার্বিকভাবে পুঁজিবাজার নিয়ে তিনি কী ভাবছেন সেটাই তুলে ধরেছেন এ পোস্টে।
দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে বলে ফেইসবুক পোস্টে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি। সামনের দিনের করণীয় নিয়েও কথা বলেন নতুন চেয়ারম্যান।
মাসুদ খান বলেন, “বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, বাজারকে আরো গভীর ও শক্তিশালী করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সহজ কাজ নয়। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।”
মাসুদ খান ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের বোর্ডে প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। এ গ্রুপের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের সিদ্ধান্ত ‘সহজ ছিল না’ বলেও তুলে ধরেন তিনি।
অতীত উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “অতীতের চেয়ারম্যান ও কমিশনগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নের প্রচেষ্টার সঙ্গে নানা ধরনের ঝুঁকি জড়িত। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে সামনে থাকা কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। বলেছেন যে, মানুষের প্রত্যাশা কখনো কখনো স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।
“এই সিদ্ধান্তের (চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ) সঙ্গে ব্যক্তিগত ত্যাগও জড়িত ছিল। দীর্ঘ ও সফল করপোরেট জীবনের পর এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে গিয়ে আমাকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা এবং একটি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পেশাগত অবস্থান ছেড়ে আসতে হয়েছে। তবে জনসেবার ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।”
‘জাতীয় দায়িত্ববোধ ও জনস্বার্থে কাজ করার অনুভূতি থেকে’ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের কথা বলেন তিনি।
মাসুদ খান বলেন, “সামনে যে কঠিন পথ রয়েছে, সে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। একইসঙ্গে বিশ্বাস করি, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ যেমন একটি সম্মানের বিষয়, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও।
“আমাদের কাজ শুধু বাজার পুনরুদ্ধার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে, সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার করতে হবে, ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে হবে, বিনিয়োগকারী শিক্ষা বাড়াতে হবে এবং বাজারের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ ও যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়মকানুন সহজ করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।”
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, “আমাদের সামনে যে কাজ রয়েছে, তা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা, সমর্থন ও শুভকামনা নিয়ে আমরা অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারব। একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, প্রাণবন্ত ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”