Published : 04 Jun 2025, 07:24 PM
‘বিশ্ব ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরামর্শে’ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) সেবা খাত থেকে বাণিজ্যিক খাতে রূপান্তরের প্রতিবাদ জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুত সমিতির (পিবিএস) মধ্যে বিবাদ নিরসনে ৫ দফা দাবিও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “পিবিএস ও আরইবির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে পরস্পরের প্রতি দোষারোপ ও অস্থিরতা এখন চরমে, যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ বলেই মনে হচ্ছে।
“অন্যদিকে সমস্যা সমাধান না করে বরং সমস্যার আগুনেই ঘি ঢেলে এডিবি-বিশ্ব ব্যাংকের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগোচ্ছে সরকার।”
তিনি বলেন, “২০১০ সাল থেকেই দাতাগোষ্ঠী এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুতায়ন খাতকে বেসরকারিকরণের যে ছবক দেয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহি চৌধুরী। তার রেখে যাওয়া দায়ই হয়ত কাঁধে তুলে নিতে হচ্ছে বর্তমান জ্বালানি উপদেষ্টাকে।”
পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে ক্যাবের একটি ‘তদন্ত প্রতিবেদনের’ সুপারিশ তুলে ধরে শামসুল আলম বলেন, আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাকরিবিধি ভিন্ন হওয়ায় সমিতিগুলো কার্যত আরইবির অংশ নয়, বরং অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান।
“ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হন বিধায় বিরোধ ও সংঘাত সৃষ্টি হয়। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন, ২০১৩ এর ধারা ২(১০), ২৫ ও ২৬-এর আলোকে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিভিল আপিল নং ৮২-৮৩/২০২১-এ প্রদত্ত রায়ের ভিত্তিতে আরইবি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্য এক ও অভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিটি অভিযোগকেন্দ্রে ন্যূনতম একজন ভোক্তা প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভোক্তা প্রতিনিধির দায়িত্ব ও ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং তা বিধি বা প্রবিধানে উল্লেখ থাকতে হবে।
জাতীয়করণের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় বলবৎ থাকা অবস্থায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে কোনো সিবিএ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি হবে না বলে কমিটি মনে করে।
শামসুল আলম বলেন, বিদুতের মূল্যহার বৃদ্ধি পাবে এমন সব (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ) পদক্ষেপ বিবেচনার আগে বিইআরসির মাধ্যমে গণশুনানির ভিত্তিতে ভোক্তা পক্ষের মতামত গ্রহণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।
বাংলদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন অনুযায়ী আরইবির বিরুদ্ধে আনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগগুলো এবং আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে বলে মত দেন সম্মেলনে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা।
বিদ্যুৎ বিভাগ গত অক্টোবরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার পর্যালোচনার জন্য ব্রাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি কমিটি গঠন করে। গত শনিবার আরইবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জ্বালানি উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। ওই প্রতিবেদনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলিকে কোম্পানিতে পরিণত করার সুপারিশ করা হয়।