২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪ খালের সংস্কারে ৮৯৯ কোটি টাকা

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির প্রয়োজন নেই, তাই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪ খালের সংস্কারে ৮৯৯ কোটি টাকা

সংস্কারের তালিকায় ঢাকার জিরানী খালও রয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Oct 2022, 10:18 PM

Updated : 11 Oct 2022, 10:18 PM

ঢাকা দক্ষিণ সিটির চারটি খালের সংস্কার করে জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রায় ৮৯৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এর আওতায় রয়েছে কালুনগর, জিরানী, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, রাজধানীর চারটি খালের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

“বর্তমানে খালগুলো অবিশ্বাস্য রকমের ময়লা… খালের ওপর বাড়ি, ময়লা আবর্জনার স্তূপ বানিয়ে রেখেছে। দুর্গন্ধের জন্য কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ পলি অপসারণ করে পাড় রক্ষায় বিশেষ কাঠামো তৈরি করে সবুজায়ন করা হবে।”

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজধানীর এই চার খালের আশপাশের বাসিন্দাদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে ৩৮ কিলোমিটার খালপাড়ে ৮ ফুট উঁচু দৃষ্টি নন্দন সুরক্ষা বেষ্টনী, ৩৬টি পদচারী সেতু ও গাড়ি চলাচলের ১৯টি সেতু নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, বাইসাইকেল লেইন, ১০টি পাবলিক টয়লেট ও ৭৭১টি নান্দনিক বাতি স্থাপন করা হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর পরিবেশের উন্নয়নে প্রকল্পটি ‘ব্যাপক অবদান’ রাখবে বলেই এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এতে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির প্রয়োজন নেই। তাই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং বাকি ২৬৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা দক্ষিণ সিটি যোগান দেবে।

Image

একনেকের সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী বলেন, “বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার সময় মেয়র সাহেব সরকারি অর্থায়নের অংশ আরেকটু বাড়ানোর প্রস্তাব তুলেছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, টাকা নিয়ে খাতির করব না বরং কঠোর পরিশ্রম করে ভালো কাজ করে কীভাবে টাকা বাঁচিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায় সে চিন্তা করেন।”

বৈঠকে এ প্রকল্পটিসহ প্রায় ৭ হাজার ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ের মোট ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে প্রায় ২৭০ কোটি টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা থেকে যোগানের কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বৈঠকে ‘কেন্দ্রীয় বৈমানিক মান সনদ ও ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট’ শীর্ষক আরও একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিছু ভুল থাকায় তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হল-

·         সিম্যানস হোস্টেল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প; ব্যয়- ৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

·         ইম্প্রুভিং দ্য রিলায়েবিলিটি অ্যান্ড সেইফটি অন ন্যাশনাল হাইওয়েজ করিডোরস অব বাংলাদেশ বাই ইন্ট্রোডাকশন অব ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) প্রকল্প; ব্যয়- ১২২ কোটি টাকা।

·         ঘোনাপাড়া হতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ (শেখ লুৎফর রহমান সেতু অ্যাপ্রোচসহ) সড়কের মনোন্নয়ন প্রকল্প; ব্যয়- ৩৪৭ কোটি টাকা।

·         শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধকল্পে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প; ব্যয়- ৫৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা

·         ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ব্যয় বেড়েছে- ৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা।