Published : 24 Jun 2025, 05:32 PM
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন (২ হাজার ১৭৫ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে।
১৯ মাস পর চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। এর আগে সবশেষ ২২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে রিজার্ভ ছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে।
তবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় পরিশোধের কারণে ছয় দিন পরেই (৬ মে) তা আবার ২২ বিলিয়নের নিচে নেমে যায়। সে হিসাবে ৪৮ দিন ধরে দেশের রিজার্ভ ২২ বিলিয়নের নিচে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার রাতে সাংবাদিকদের রিজার্ভের তথ্য দেন। তাতে গ্রস হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার।
২০২০ সালে কোভিড মহামারীর সময় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে ৫০ বিলিয়নের মাইলফলকের দিকে ছিল রিজার্ভ।
এর মধ্যে কোভিড মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি আর খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে আমদানি খরচ বেড়ে রিজার্ভ কমতে থাকে বলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়ে; কমে যায় বাণিজ্য ঘাটতি। কিন্তু রিজার্ভ আশানুরূপ বাড়েনি।
এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেননি। তবে এসময় আগের ঋণপত্র বাঁ এলসির বকেয়া দায় শোধ করেছে। তাই রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়লেও রিজার্ভ বাড়েনি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই-তিন বছর ডলারের জন্য যে সংকট ছিল, তা কেটে গেছে। পটপরিবর্তনের পর পরিশোধ করা হয় রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ, সেবার মাশুল ও বকেয়া ঋণপত্রের (এলসি) দায়।
তারা বলছেন, এসব কারণে রেমিটেন্স ও প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির পরও রিজার্ভ বাড়েনি। তবে রিজার্ভের ক্ষয় কমেছে। ব্যবসায়ীরা এখন নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী আমদানির এলসি খুলতে পারছেন।
বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরও স্থিতিশীল রয়েছে ডলারের দর। দেশের অর্থনীতির জন্য এগুলো ভালো নিদর্শন বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।