Published : 29 Mar 2026, 11:36 PM
রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার মধ্যে আমদানি চাপ বেড়ে যাওয়ায় এক মাসে রিজার্ভ কমেছে এক বিলিয়ন ডলারের মত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, রোববার দিন শেষে বিপিএম ৬ পদ্ধতিতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস হিসাবে এর পরিমাণ ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান হালনাগাদ রিজার্ভের এ তথ্য দেন।
এর আগে বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার দিন গত ২৬ ফেব্রুয়ারিতে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে কমেছে ৯৮ কোটি ৩২ লাখ ডলার।
অপরদিকে ২৬ ফেব্রুয়ারি গ্রস হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে কমেছে ১০৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।
ব্যাংকাররা এর কারণ হিসেবে বলছেন, এসময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়লেও ধারাবাহিকভাবে মাস কয়েক ধরে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে এতে। এসময়ে আমদানি ব্যয়ের ঘাটতির পুরোটা পূরণ করতে পারেনি বর্ধিত প্রবাসী আয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি মার্চের ২৮ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বা ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি।
২০২৫ সালের মার্চের ২৮ দিনে রেমিটেন্স আসে ৩২ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের সবশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে রেমিটেন্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ; এসেছিল ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার।
২০২৫ সালের মার্চে রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬৫ শতাংশ। মাসটিতে রেমিটেন্স আসে ৩২ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। চব্বিশের অগাস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রবাস আয় বাড়তে শুরু করে। তারই ধারবাহিকতায় মার্চ মাসে রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাস আয়ে ওই উল্লম্ফন ঘটে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের দুটি তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এর বৈদেশিক মুদ্রার দায়, ঋণ বৈদেশিক মুদ্রা ও ধার করা অর্থের যোগফল হচ্ছে গ্রস হিসাব। আর দায় ও ঋণ বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেখানো বিপিএম৬ পদ্ধতিতে।
বেশ কিছুদিন থেকে বিদেশি মুদ্রার বাজার ঠিক রাখতে বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি রিজার্ভ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।
তবে নতুন গভর্নরের মেয়াদে শুধু একবার গত ২ মার্চ বাজার থেকে আড়াই কোটি ডলার কেনা হয়। এর কাটঅফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
এ নিয়ে চলতি অর্থবছরে মোট ৫৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্যদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি হয় ৩ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে ১২ শতাংশ কম।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রপ্তানিতে সার্বিক প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
রপ্তানি কমলেও দিনে দিনে বাড়ছে আমদানি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।