Published : 27 Aug 2025, 07:41 PM
রুমমেটকে ‘হত্যাচেষ্টার’ মামলায় কারাগারে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী জালাল আহমদ ওরফে জ্বালাময়ী জালাল ভোট করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেছেন, জালালের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। সে কারণে কোনো সিদ্ধান্তও তারা নেননি।
টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম বিভাগের ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থী জালাল হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৪৬২ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার মধ্যরাতে তিনি রুমমেট মো. রবিউল হককে মারধর ও ভাঙা টিউব লাইট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পর জালালকে পুলিশে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মুহসীন হল প্রাধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম বুধবার শাহবাগ থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় বিকালে জালালকে আদালতে তোলা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম মিনহাজুর রহমান জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ অবস্থায় জালাল ভোট করতে পারবেন কি না, সেই আলোচনা শুরু হয় ক্যাম্পাসে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "জালাল আহমেদের বিষয়ে আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। কোনো পক্ষ থেকেই আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি নিয়ে বসব। তারপর নিয়ম অনুযায়ী যা করার, তা হবে।"
ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৪ (জি) ধারা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী ভোটার হতে পারলেই তিনি ডাকসু বা হল সংসদে প্রার্থী হতে পারেন।
চলতি বছর ডাকসুর সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ভোটার হওয়ার শর্তকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় থাকলে ভোটার হতে পারবেন।
গঠনতন্ত্রের ৪ (বি) ধারায় বলা হয়েছে, “ছাত্র সংসদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যসাধনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলতে তাদেরকে বোঝাবে এবং অন্তর্ভুক্ত করবে, যারা স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছেন এবং এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা পরিচালিত স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা এমফিলে পড়াশোনা করছেন; যারা কোনো হলের আবাসিক আছেন বা কোনো হলের সঙ্গে সংযুক্ত আছেন এবং যাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি পাঠদান করছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউকে হল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার ছাত্রত্ব থাকতে পারে। তবে কাউকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। বুধবার সিন্ডিকেটের একটি সভা রয়েছে।