Published : 15 Oct 2025, 10:11 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের সময় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ করার বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে দায়ী করে সুন্দরভাবে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট।
বুধবার সন্ধ্যায় চাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি ভোট নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
তার অভিযোগ, “ছাত্রদলের আলাওল হলের জিএস প্রার্থী নুরুন্নবীসহ অনেকের সাথে বহিরাগত দেখা গেছে। অথচ আইডি কার্ড ছাড়া কেউই আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের কথা না।
“প্রশাসন বহিরাগত আটকাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সেক্রেটারি সরোয়ার হোসেন রুবেলের নেতৃত্বে শতশত ছাত্রদল-যুবদলের কর্মী ১ নম্বর রেল গেট সংলগ্ন রশিদ ছাত্রাবাসের সামনে অবস্থান নিয়েছে।”
সংবাদমাধ্যমে অনেক খবর আসার পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিবিরের এই নেতা বলেন, “হাতের যে কালি সেটা অমোচনীয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি ভোট দেওয়ার পরে সেই কালি উঠে যাচ্ছে।
“নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আরো বেশি সর্তক হতে পারতেন। আইটি ভবনে ২১৪ নম্বর রুমে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়াই ১০-১৫টি ব্যালট পেপার বক্সে ফেলা হয়েছে। অসতর্কতার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার। অসতর্কতার জন্য তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”
তিনি শহীদ তরুয়া ভবন, এম রহমান হল ও আলাওল ভবনের এলইডি স্ক্রিন শুরু থেকে দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার তথ্য দিয়ে বলেন, “সায়েন্স ফ্যাকাল্টির এলইডি স্ক্রিন প্রথম থেকে অধিকাংশ সময় বন্ধ ছিল। বারবার জানানোর পরেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”
বিবিএ অনুষদ ভবনে ভোটগ্রহণ শেষে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘মব সৃষ্টি করে’ ভোটের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “অনেকক্ষণ ধরে তারা কারণ ছাড়া শোরগোল করলেও প্রশাসন নীরব ছিল। প্রত্যেক অভিযোগ মৌখিক ও লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।”
এক প্রশ্নের জবাবে শিবিরের ভিপি প্রার্থী রনি বলেন, “শুরুতে যখন অমোচনীয় কালির কথা বলেছি এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটা নাকি জার্মান থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু কথা ছিল অমোচনীয় কালিতে নির্বাচন হবে। আমরা তার উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারিনি।
“আমাদের অভিযোগগুলো লিখিতভাবে দাখিল করেছি। এখনো পর্যন্ত এসব বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত তা জানানো হয়নি।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনারাও পুরো দিনের নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখেছেন। সারাদিন শিক্ষার্থীরা এসেছেন, ভোট দিয়েছেন। আমার যেটা মনে হয়, যে ধরণের ফলাফলই হোক সুন্দরভাবে ভোট গণনা শেষ করে ভালো ফলের দিকে আগাক।
“আমরা চাই না ৪০ ঘণ্টা যাবত যেভাবে জাকসুতে ভোট গণনা হয়েছে সেটা হোক। নির্বাচন কমিশন যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা কম সময়ের মধ্যে ভোট গণনা শেষ করে নিরপেক্ষ ফলাফল দেবেন- সেটা বাস্তবায়ন করুক। যারাই বিজয়ী হোক আমরা ফলাফল মেনে নিব।”
ভোট সুষ্ঠু হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা বলবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান। আমরা যে অভিযোগ ছিল তা দিয়েছি। তিনি বলবেন এত অভিযোগের পর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কিনা।
“আমরা দেখেছি, শঙ্কিত একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একটি ছাত্র সংগঠন লোকজন জড়ো করেছে। আমরা সুন্দরভাবে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ চাই। ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর মতকে যেন প্রশাসন শ্রদ্ধা ভরে দেখে।”
ছাত্র শিবিরের প্যানেলের বিরুদ্ধে অন্যান্য প্যানেলের অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নে রনি বলেন, “আমাদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে নির্বাচন কমিশন বরাবরে অবশ্যই লিখিত দিতে হবে। এবং নির্বাচন কমিশনে যেমন আমরা অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে কমিশন জবাব দেবে তারা কী করবে।
“মিডিয়া ইসলামী ছাত্র শিবিরকে জড়িয়ে একটি মনগড়া প্রতিবেদন করেছে। আমাদের কোনো জরিমানা করা হয়নি। আমাদের ডেকে নির্বাচন কমিশন কথা বলেছে। তারপর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এধরনের প্রপাগান্ডা চলতে পারে না।”
আরও পড়ুন
চাকসু: ভোট গণনা প্রক্রিয়া চলার সময় ছাত্রদল-ছাত্রশিবির উত্তেজনা