চট্টগ্রামে দখলমুক্ত খালে নৌকা চালাতে চান মেয়র

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল নিয়ে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, যেটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Dec 2023, 02:53 PM
Updated : 5 Dec 2023, 02:53 PM

নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে খালগুলোতে নৌকা চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে রাজাখালী খাল-২ থেকে কল্পলোক আবাসিক এলাকা পর্যন্ত পরিদর্শন করেন মেয়র।

পরে সাংবাদিকদের মেয়র রেজাউল বলেন, “চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার মোট চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

“উদ্ধার হওয়া খালগুলোকে রক্ষার্থে প্রকল্প শেষ হলে সেখানে নৌকা চালুর পরিকল্পনা আছে আমার। কারণ প্রকল্প শেষ হলে খালগুলো রক্ষা করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রকল্প শেষ হলে বিনোদনের ক্ষেত্র তৈরির জন্য বারইপাড়া খালসহ উদ্ধার হওয়া সবগুলো খালে নৌকা ও স্পিডবোট চালু করা হবে।”

মেয়র রেজাউল বলেন, “খালে যখন মানুষ ময়লা দেখবেনা বরং স্বচ্ছ জলপ্রবাহে বিনোদনের উৎস খুঁজে পাবে তখন মানুষ আর খালে ময়লা ফেলবেনা। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও রুটিন ওয়ার্ক পরিচালনা করলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি, এ প্রকল্পগুলোর আওতায় খালপাড়ে নির্মিত সড়ক ও কালভার্টের কারণে নগরীর যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়বে।”

প্রকল্পগুলোর সুফল পেতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ানো হবে মন্তব্য করে মেয়র রেজাউল বলেন, “আমরা প্রকল্প এলাকাগুলোতে ময়লার ভাগাড়ও নির্মাণ করব। যাতে খালপাড়ের মানুষ বর্জ্য ফেলে খাল ময়লা দিয়ে ভরিয়ে না ফেলে। প্রকল্প এলাকায় উদ্ধার হওয়া খালসংলগ্ন ভূমি রক্ষায় সীমানা নির্ধারণী খুঁটি বসানো হবে। কারণ এ খালগুলোকে রক্ষার সাথে কর্ণফুলী এবং চট্টগ্রামের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত।”

এসময় প্রকল্প পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী জানান, সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নগরীর বাকলিয়া এলাকার প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পরস্পর সংযুক্ত ৩০-৩২ ফুট প্রস্থের রাজাখালী-১, রাজাখালী-২ এবং রাজাখালী-৩ খাল তিনটির খনন কাজের পাশাপাশি দুই পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল, রেলিং নির্মাণ করা হয়েছে।

“এছাড়া খাল দখল ঠেকাতে দুই পাশে নির্মাণ করা হয়েছে সড়কও। খালে এত বেশি পলিথিন ছিল যে অনেক স্থানে ৪ মিটার পর্যন্ত মাটি তুলে ফেলতে হয়েছে। এরপর বালু ফেলে ভরাট করে বিটুমিনের পরিবর্তে আরসিসি রোড নির্মাণ করা হচ্ছে। যাতে সড়কগুলো দীর্ঘমেয়াদে খালের পানিতেও নষ্ট না হয়।”

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল নিয়ে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, যেটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ।

প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। সেই মেয়াদও পেরিয়ে গেছে।

এরপর ডিপিপি পর্যালোচনা করে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণসহ আনুষাঙ্গিক নানা কাজের জন্য বাজেট আরো ৩০১২ কোটি টাকা বাড়িয়ে সবশেষ গত নভেম্বরে একনেক সভায় তা অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী বলেন, “রিভাইজড ডিপিপি অনুমোদন হওয়ায় সিডিএ এখন সহজে ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারবে। ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় কয়েকটি খালের কাজ আটকে ছিল।

“ইতিমধ্যে ২২টি খালের কাজ শেষ। রিটেনিং ওয়াল হয়েছে। দুপাশের রাস্তা এবং ফুটপাতের কাজও বেশিরভাগ শেষ। তবে এখনই সেগুলো আমরা সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করছি না।” 

মঙ্গলবার পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার লতিফুল হক কাজমী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোর্শেদুল আলম, মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি।