০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশি কোম্পানিকে এনসিটি ইজারা: চুক্তি হলে বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারি

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বন্দর অভিমুখে মশাল মিছিল ও চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাওয়ের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বিদেশি কোম্পানিকে এনসিটি ইজারা: চুক্তি হলে বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে সোমবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 09:09 PM

Updated : 05 Oct 2026, 09:09 PM

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার কোনো চুক্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্দর বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বন্দরের শ্রমিক নেতারা।

সোমবার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে এনসিটি-সিসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে হওয়া সমাবেশ থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে আগামী ৭ অক্টোবর বন্দর অভিমুখে মশাল মিছিল এবং ১৩ অক্টোবর বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি কাউকে দেওয়া যাবে না। এটা বন্দরের শ্রমিকদের প্রতিজ্ঞা। এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের হৃৎপিণ্ড। এটা কারো কাছে বন্ধক দেওয়া যাবে না। নতুন করে এনসিটি, সিসিটি, জিসিবি দিয়ে দিবেন! পৃথিবীর এমন কোনো দেশ আছে, এমন কোনো বন্দর আছে যে বন্দরের শতভাগ বিদেশিদের কাছে দেওয়া হয়?

“আমরা এখনো পর্যন্ত সহনশীল। আহ্বান জানাই, সরকার এনসিটি রক্ষার মধ্যে দিয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ নেবেন আশা করি। শুনতে পাচ্ছি ৮ তারিখ নাকি চুক্তি প্রক্রিয়া করতে যাচ্ছে সরকার।”

তিনি বলেন, “৮ তারিখ যদি কোনো কারণে কোনো চুক্তি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। আপনারা যে যেখানে আছেন, এনসিটি চুক্তি স্বাক্ষর করার সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবেন। শুধু বন্দর নয় কুতুবদিয়া পর্যন্ত অপারেশন বন্ধ থাকবে। এটা আমাদের ঘোষণা।”

সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে, ডক বন্দর হয়ে যাবে। যদি বাড়াবাড়ি করেন। অনেকগুলো (টার্মিনাল) দিয়ে দিয়েছেন আপনারা। কিন্তু এটা অর্থনীতির লাইফলাইন। এটাকে দেওয়া চলবে না।”

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, “আজকে ক্ষমতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যারা আমাদের শ্রম ঘামের বিনিময়ে আজ প্রতিষ্ঠিত। প্রত্যাশা করেছিলাম, এই সরকারের সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।

“কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ২০১৭ সাল থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক উত্থাপিত এবং তাদের এগিয়ে নেওয়া একটি চুক্তি, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চলতে থাকা একটি চুক্তিকে বর্তমান সরকার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

Image

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে সোমবার অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন।

হুমায়ুন কবির বলেন, “সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আপনি আমাদের ডাকুন, একটা প্রতিনিধি দলের সাথে বসুন। আমরা যদি বোঝাতে না পারি, তাহলে আপনারা সিদ্ধান্ত নিতেন। কিন্তু সরকার থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের আলোচনায় ডাকা হয়নি।

“কাদের কথায় আজকে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন? চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো অংশই বিদেশিদের হাতে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। দেশ ও জাতি আপনার অবদানকে চিরদিন স্মরণ রাখবে।”

বন্দরের এই শ্রমিক নেতাও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, “আমাদের জীবন দেব, চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো অংশ বিদেশিদের হতে দেব না।”

সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার অভিযোগ করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এই বন্দর চেয়ারম্যান সম্পর্কে জানুন। উনি আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। বন্দরে প্রায় ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক কর্মচারী যারা কাজ করে, সবাইকে আপনার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিচ্ছেন।

“বাংলাদেশে যে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হচ্ছে তার একমাত্র কারণ বন্দরের চেয়ারম্যান। এনসিটিকে দিয়ে দেওয়ার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের লবিস্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন বন্দর চেয়ারম্যান। অনতিবিলম্বে এই চেয়ারম্যানকে এখান থেকে প্রত্যাহার করা হোক। না হলে এখানে যদি কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তার দায় দায়িত্ব কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে বহন করতে হবে।”

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতা এস কে খোদা তোতন, বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু, স্কপ নেতা ইফতেখার কামাল খান, বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ শ্রমিক নেতারা।