এনসিটি: চুক্তি বাতিলের দাবিতে এবার আমরণ অনশনের ঘোষণা
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সরকারকে আমরা ১৮ তারিখ পর্যন্ত আলোচনার সময় দিলাম।”
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনাল টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ১৯ অক্টোবার থেকে আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা করেছেন বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা।
সোমবার বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রাঙ্গণে প্রতীকী গণ অনশন কর্মসূচির শেষে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সরকারকে আমরা ১৮ তারিখ পর্যন্ত আলোচনার সময় দিলাম। এর মধ্যে কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে ১৯ অক্টোবর এখানেই আমরণ অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।"
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবিরসহ শ্রমিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তি বাতিল ও শ্রমিক কর্মচারীদের চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে বেলা ১১টার পর প্রতীকী অনশন শুরু হয়।
গণঅনশন চলাকালে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সে সময় বলেন, "আলোচনার জন্য আমরা সরকারকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার এখনো আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই অনশনে বাধ্য হয়েছি।
"এখনো সরকারকে সময় দিতে চাই। তারপরও আলোচনা না করলে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। জিবুতিসহ বিভিন্ন দেশে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। আমরা চাই এনসিটির চুক্তিও বাতিল করা হোক।"
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, "এনসিটির চুক্তিতে কী আছে তা আমরা জানি না। দেশের জনগণও জানে না। আমরা চাই সরকার অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করুক।"
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি সই হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের তরফে কোম্পানির চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন।
সেদিন বিকেলেই বন্দর ভবনের মূল প্রবেশ পথের কাছে বিক্ষোভ মিছিল থেকে অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবীর মিন্টু, বাসদ নেতা আল কাদেরী জয়সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা গণঅনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
