এনসিটি: চুক্তির প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে আলোচনার আহ্বান বন্দর শ্রমিক নেতাদের
দুই দিনের কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়া লক্ষ্যে চুক্তি সকল প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন বন্দর শ্রমিক নেতারা।
শনিবার সন্ধ্যায় এক যৌথ সভায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এ দাবি জানান।
‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের চুক্তির খসড়া অনুমোদন করায় এবং সিসিটি ও জিসিবি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করায়’ চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ যৌথভাবে এ প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে।
আন্দোলনের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটরদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটির দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে।
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব কোন বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হয়েছে, সেটি বলা হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে।
তবে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে শুরু থেকে।
গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এনসিটি ইজারা বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় সরকার।
এর আগে এই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েও শেষ সময়ে স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার।
পোর্ট কলোনি এলাকায় আয়োজিত এ প্রতিবাদ সভায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন সরকারের উদ্দেশে বলেন, “এনসিটি ও অন্যান্য টার্মিনাল ইজারা বা কনসেশন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন।
“প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা ওনাকে বলতে চাই, একটু তথ্য সংগ্রহ করে দেখুন, পৃথিবীতে এমন কোনো বন্দর আছে কি না যেখানে শতভাগ বিদেশি কোনো কোম্পানিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে বা এভাবে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে এর কোনো বিকল্পও নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো অংশ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে আমরা নই এবং আমরা তা হতে দেব না।
“আপনারা কেন এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চান, তা আমাদের বুঝিয়ে বলুন। আমরা কেন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনা করতে চাই, সেটিও আমরা ব্যাখ্যা করব। আশা করি, সরকার আমাদের যুক্তি বিবেচনা করবে।”
সরকার সাড়া না দিলে আন্দোলন আরও জোরদার করার কথাও বলেন ইব্রাহিম খোকন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, “বিষয়টি শুধু বন্দর শ্রমিকদের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এর প্রভাব দেশের বৃহত্তর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কোনো ভুল সিদ্ধান্তের দায় শুধু বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বহন করতে হবে না। এর হিসাব বাংলাদেশের মানুষকেও দিতে হবে।”
সমাবেশ থেকে আগামী ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে মশাল মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। বন্দরের সব শ্রমিক-কর্মচারীকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া আগামী ৫ অক্টোবর বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচিতেও বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
